প্রযুক্তি

দাঁতে বসানো যন্ত্রে পর্দার খাবারের স্বাদ—ওহাইও স্টেটের ‘ই-টেস্ট’ ইন্টারনেটে পাঠাল কফি, কেক আর মাছের স্যুপ

ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এমন ব্যবস্থা গড়েছেন, যা খাবারের স্বাদকে বৈদ্যুতিক সংকেতে ধারণ করে আর নিচের দাঁতে আটকানো যন্ত্র থেকে স্বাদের রাসায়নিকের ক্ষুদ্র মাত্রায় মুখে পুনরুৎপাদন করে। ১৬ জন স্বেচ্ছাসেবক সঠিকভাবে চিনেছেন কেক, ভাজা ডিম, মাছের স্যুপ ও কফি। কীভাবে কাজ করে, কী পারে না, আর আসলে কারা ব্যবহার করবেন।

দাঁতে বসানো যন্ত্রে পর্দার খাবারের স্বাদ—ওহাইও স্টেটের ‘ই-টেস্ট’ ইন্টারনেটে পাঠাল কফি, কেক আর মাছের স্যুপ

রান্নার অনুষ্ঠানের চিরকালের একটি খুঁত: বিরিয়ানিটা দেখতে পান, উপস্থাপককে বলতে শোনেন এটি নিখুঁত, আর তাঁর কথাই মেনে নিতে হয়। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি দল তা শোধরানোর প্রথম গুরুতর চেষ্টাটি গড়েছে। তাদের ব্যবস্থা ই-টেস্ট একটি খাবারের স্বাদ কেমন, তা একগুচ্ছ বৈদ্যুতিক সংকেতে রেকর্ড করে, যেকোনো জায়গায় পাঠায়, আর মানুষের মুখে স্বাদটি পুনরায় তৈরি করে।

যেভাবে কাজ করে

পাঠানোর প্রান্তে সেন্সর খাবারের রাসায়নিক প্রোফাইল মাপে—কতটা লবণাক্ত, মিষ্টি, টক ও তেতো, কী অনুপাতে—আর পাঠ্যগুলোকে ডিজিটাল সংকেতে বদলায়। গ্রহণের প্রান্তে ব্যবহারকারী নিচের দাঁতে আটকানো একটি ছোট যন্ত্র পরেন। এতে জেল আকারে স্বাদের রাসায়নিকের ক্ষুদ্র ভাণ্ডার থাকে আর নির্দেশ পেলে প্রতিটির সুনির্দিষ্ট মাপা পরিমাণ জিভে ছাড়ে। চার মৌলিক স্বাদের সঠিক মাত্রা মেশালে মস্তিষ্ক তা একটি নির্দিষ্ট খাবার হিসেবে পড়ে। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে।

কাজ করল কি

১৬ জন স্বেচ্ছাসেবকের গবেষণাগার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা একটি স্বাদের ভিন্ন তীব্রতা আর ভিন্ন সংমিশ্রণ আলাদা করতে পেরেছেন, আর—চমকপ্রদ ফল—শুধু সংকেত থেকে সঠিকভাবে চিনেছেন কেক, ভাজা ডিম, মাছের স্যুপ ও কফি। কেউ দাবি করছেন না এটি খাওয়ার সমান; গন্ধ, বুনট আর তাপমাত্রা অনুপস্থিত, আর যাকে আমরা ফ্লেভার বলি, তার অনেকটা ওগুলোই বহন করে। কিন্তু চারটি মৌলিক স্বাদ তারের ওপর দিয়ে পৌঁছানো সত্যিকারের প্রথম।

কারা ব্যবহার করবেন

গবেষকেরা বলছেন অনলাইন কেনাকাটা (ঝুড়ি অর্ডারের আগে আমটা চেখে দেখা), রন্ধনশিক্ষার্থীদের দূরশিক্ষা, ক্যালরি ছাড়া স্বাদে ওজন নিয়ন্ত্রণ, আর সংবেদনশীল পরীক্ষা। সবচেয়ে গুরুতর প্রয়োগ চিকিৎসায়: মস্তিষ্কের আঘাত, স্ট্রোক বা অসুখের পর স্বাদ হারানো থেকে সেরে ওঠা মানুষ পুনর্বাসনে নিয়ন্ত্রণযোগ্য স্বাদ-উদ্দীপনা ব্যবহার করতে পারেন। বাংলা রান্নার চ্যানেলের সাধারণ দর্শকের জন্য সৎ সময়সীমা দীর্ঘ—যন্ত্রটি গবেষণাগারের নমুনা, স্বাদের ভাণ্ডার ভরতে হয়, আর ঠিকঠাক কাচ্চির স্বাদ এখনো কেউ সংকেতে বাঁধেননি।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এত দিন ছিল চোখ আর কানের ব্যাপার; স্পর্শের জন্য কম্পনযুক্ত দস্তানা এসেছে, গন্ধ নিয়ে পরীক্ষা চলছে, কিন্তু স্বাদ ছিল শেষ অজেয় ইন্দ্রিয়। ই-টেস্ট দেখাল, অন্তত মৌলিক স্বাদগুলো মাপা, পাঠানো ও পুনরুৎপাদন করা যায়—আর একবার তা হলে, বাকিটা প্রকৌশলের প্রশ্ন: ছোট যন্ত্র, বেশি রাসায়নিক, দ্রুত সাড়া। দশ বছর পর রান্নার অনুষ্ঠানের শেষে ‘চেখে দেখুন’ বোতাম থাকলে তার সূচনা এই ১৬ জনের গবেষণাগারে।

সূত্র: ডেইলি মেইল, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।