সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত গবেষণায় ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ই-টেস্ট নামের এমন একটি ব্যবস্থা বানিয়েছেন, যা এক জায়গায় স্বাদ ধরে অন্য জায়গায় তা আবার তৈরি করে। ওহাইও থেকে ক্যালিফোর্নিয়া—প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে এটি দেখানো হয়েছে।
প্রায় প্রতিটি প্রতিবেদনই একে দেখিয়েছে "ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে স্বাদ" হিসেবে। কৌশলটি তার চেয়ে নির্দিষ্ট, আর সীমাগুলোও।
যেভাবে কাজ করে
ব্যবস্থাটির দুটি অংশ, আর কোনোটিতেই জিহ্বাকে বিদ্যুৎ দিয়ে উদ্দীপ্ত করা হয় না—এর আগের বেশির ভাগ চেষ্টা যেভাবে কাজ করত।
ধারণ। সেন্সর নির্দিষ্ট অণু শনাক্ত করে—এর মধ্যে আছে গ্লুকোজ ও গ্লুটামেট—যেগুলো বেছে নেওয়া হয়েছে পাঁচটি মৌলিক স্বাদের প্রতিনিধি হিসেবে: মিষ্টি, টক, নোনতা, তেতো আর উমামি। পাঠগুলো রূপ নেয় বৈদ্যুতিক সংকেতে।
পুনঃসৃষ্টি। ওই সংকেত বেতারে চলে যায় দূরের একটি যন্ত্রে, যাতে আছে রাসায়নিকের নালির সঙ্গে যুক্ত ছোট একটি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পাম্প। সঠিক অনুপাতে মেশালে ওই রাসায়নিকগুলো মূল স্বাদের কাছাকাছি কিছু তৈরি করে।
অর্থাৎ এটি স্নায়ু-উদ্দীপনা নয়, রাসায়নিক পুনঃসৃষ্টি: দূরের প্রান্ত সত্যিই একটি স্বাদযুক্ত তরল দেয়, নেটওয়ার্কে পাঠানো রেসিপি অনুযায়ী মেশানো। যন্ত্রটি মস্তিষ্ক-ইন্টারফেসের চেয়ে বরং খুব ছোট একটি স্বয়ংক্রিয় বারটেন্ডারের কাছাকাছি—আর এ কারণেই এটি আদৌ কাজ করে।
আসলে যা পরীক্ষা করা হয়েছে
গবেষণায় ছিল মানুষের দুটি দল—একটিতে দশ জন, অন্যটিতে ছয় জন। তাঁরা পরখ করেছেন লেবুর শরবত, কেক, ভাজা ডিম, মাছের স্যুপ আর কফির পুনঃসৃষ্ট স্বাদ।
শিরোনামে আসা নির্ভুলতার হিসাব প্রায় ৭০ শতাংশ, আর এটি ঠিক কী বোঝায় তা নির্দিষ্ট করে বলা দরকার: ব্যবস্থাটির বানানো তরলে অংশগ্রহণকারীরা ভিন্ন ভিন্ন টক-মাত্রার পার্থক্য ধরতে পেরেছেন। এটি একটিমাত্র মাত্রা, একটিমাত্র স্বাদের, ষোলোজন মানুষের মধ্যে।
প্রাথমিক ফল হিসেবে এটি যুক্তিসংগত, আর এটি এ দাবি নয় যে ব্যবস্থাটি স্বাদ বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফিরিয়ে আনে।
যা বাদ থেকে যায়
এটি আর "দূর থেকে খাবারের স্বাদ নেওয়া"—এর মধ্যেকার ফারাক মূলত শারীরবৃত্তীয়।
স্বাদের বেশির ভাগটাই ঘ্রাণ। রেট্রোনাসাল ঘ্রাণ—খাওয়ার সময় মুখের পেছন দিক দিয়ে নাকে পৌঁছানো সুবাস—মানুষ যাকে স্বাদ বলে তার বড় অংশ। পাঁচটি মৌলিক স্বাদ রাসায়নিকভাবে বানানো ব্যবস্থা অভিজ্ঞতার সংখ্যালঘু অংশটিই সামলায়। নাক বন্ধ থাকলে খাবার পানসে লাগে—জিহ্বা স্বাভাবিক কাজ করা সত্ত্বেও—কারণ এটিই।
গঠন আর তাপমাত্রা অনুপস্থিত। দুটিই অনুভূত স্বাদকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলায়, আর কোনোটিই পাঠানো হয় না।
এটি রাসায়নিক খরচ করে। দূরের যন্ত্রটি কার্তুজ থেকে বাস্তব পদার্থ ছাড়ে। পর্দা বা স্পিকারের মতো নয়—এটি ফুরিয়ে যায়; আর এতে যেকোনো ভোক্তা-ব্যবহারে এমন একটি কঠিন সীমা তৈরি হয়, ভিআর-বয়ান যা সাধারণত এড়িয়ে যায়।
এটি আসলে যেখানে কাজে লাগতে পারে
বিনোদনে নয়—সেখানে ঘ্রাণের সমস্যাটি একে বড়জোর আংশিক অভিজ্ঞতা বানিয়ে রাখে।
বেশি বিশ্বাসযোগ্য ব্যবহার চিকিৎসা ও শিল্পে। অসুস্থতা বা চিকিৎসার পর স্বাদ হারানো ভালোভাবে মাপা হয় না, আর যে ব্যবস্থা মানানসই, পুনরাবৃত্তিযোগ্য স্বাদ-উদ্দীপনা তৈরি করে তা ভোক্তা-পণ্য হওয়ার আগে রোগনির্ণয়ের যন্ত্র। খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ আরেকটি: কোনো পণ্যের বস্তুনিষ্ঠ, প্রেরণযোগ্য রাসায়নিক স্বাক্ষর এমন একটি শিল্পের কাজে লাগে, যা এখন নির্ভর করে প্রশিক্ষিত মানব-প্যানেলের ওপর—যাঁরা নিজেদের মধ্যেই দ্বিমত করেন।
ভার্চুয়াল রিয়ালিটির বয়ানের পাশে দুটিই জৌলুশহীন, আর গবেষণাপত্রটি যা দেখিয়েছে তা থেকে দুটিই নাগালের মধ্যে।
ষোলোজনের পরীক্ষা থেকে কী দাবি করা যায়
এই গবেষণার সংখ্যাগুলো ছোট—ষোলোজন, একটি স্বাদ, একটি মাত্রা। এটি গবেষণার দোষ নয়; প্রথম পর্যায়ের কাজ এভাবেই হয়। কিন্তু খবরে পড়ার সময় এর অর্থ বোঝা দরকার।
ষোলোজনের ফল বলতে পারে যন্ত্রটি আদৌ কাজ করে কি না। এটি বলতে পারে না কতজনের ক্ষেত্রে কাজ করবে, বয়স বা স্বাস্থ্যের সঙ্গে ফল বদলায় কি না, বা দীর্ঘ সময় ব্যবহারে জিবের সংবেদন বদলে যায় কি না। ৭০ শতাংশ নির্ভুলতাও একইভাবে পড়তে হয়—এটি একটিমাত্র স্বাদ চেনার হার, স্বাদের মিশ্রণ চেনার নয়, আর আসল খাবার একটিমাত্র স্বাদ কখনোই নয়।
তবু কাজটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি পথ খুলে দেয় যা আগে বন্ধ ছিল। স্বাদ ও ঘ্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা কোভিডের পর অনেক বেড়েছে, আর তাঁদের জন্য পুনর্বাসনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এখনো নেই। এমন যন্ত্র সেদিকে প্রথম ধাপ হতে পারে—বছরের হিসাবে, মাসের নয়।
সূত্র: সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত গবেষণাপত্র; ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি; পপুলার সায়েন্স; দ্য ব্রাইটার সাইড; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।




