অভিষেকের পর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা দেখলেন, তাঁরা নিজে না বেছেও প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট আর ফার্স্ট লেডিকে অনুসরণ করছেন বলে দেখাচ্ছে। যাঁরা আনফলো করার চেষ্টা করলেন, তাঁদের কেউ কেউ দেখলেন বদলটি কার্যকরই হচ্ছে না।
ব্যাখ্যাটি সাদামাটা, আর তা বোঝা দরকার—কারণ একই কৌশল প্রতিটি হস্তান্তরেই একই বিভ্রান্তি তৈরি করবে।
মেটা যা বলেছে
মেটার যোগাযোগ পরিচালক অ্যান্ডি স্টোন জানিয়েছেন: "প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট বা ফার্স্ট লেডির কোনো দাপ্তরিক ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুসরণ করতে কাউকে বাধ্য করা হয়নি।"
স্টোন বলেছেন, হোয়াইট হাউসের পরিচালিত অ্যাকাউন্টগুলোর কনটেন্ট প্রতিটি প্রশাসনের সঙ্গে বদলায়—আগের হস্তান্তরেও মেটা একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিল। তিনি যোগ করেন, "এসব অ্যাকাউন্ট হাতবদলের সময় ফলো ও আনফলোর অনুরোধ কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।"
কৌশলটি
মানুষ যে পার্থক্যটি খেয়াল করেন না, তা হলো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট আর প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্টের মধ্যেকার পার্থক্য।
@POTUS আর @VicePresident অ্যাকাউন্টগুলো পদের, পদধারীর নয়। এগুলো সরকার-পরিচালিত, আর প্রতিটি অভিষেকে আসন্ন প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুসারীরা অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই যান, কারণ অ্যাকাউন্টটির উদ্দেশ্যই ধারাবাহিকতা: দাপ্তরিক ঘোষণা পেতে যিনি পদটিকে অনুসরণ করেছিলেন, তিনি তা পেতেই থাকেন।
অর্থাৎ ব্যবহারকারীর দিক থেকে ক্রমটি এই: আপনি কোনো এক সময় @POTUS অনুসরণ করেছিলেন; অ্যাকাউন্টটি হাতবদল হয়েছে; আপনি এখন আপনারই বেছে নেওয়া সেই অ্যাকাউন্টের মধ্য দিয়ে ভিন্ন একজন মানুষের পোস্ট অনুসরণ করছেন। আপনার অনুসরণ-তালিকায় কিছুই যোগ হয়নি। তালিকাটি যেদিকে দেখাচ্ছিল, সেটি বদলেছে।
আনফলো কাজ না করার কারণটি আলাদা আর আরও নীরস: হস্তান্তরের সময় এসব অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ফলো ও আনফলোর অনুরোধ জমা হয়, আর সারিটি খালি হতে সময় লাগে। যাঁরা চেষ্টা করে কোনো বদল না দেখে ভেবেছিলেন তাঁদের আটকে দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা মূলত দেরিটিই দেখছিলেন।
ব্যাখ্যাটি কেন ধোপে টিকল না
সোজাভাবে বলা দরকার: সন্দেহটি ভুল হলেও অযৌক্তিক ছিল না।
কোন অ্যাকাউন্ট প্রাতিষ্ঠানিক আর কোনটি ব্যক্তিগত, ব্যবহারকারীরা তা দেখতেই পান না—ইন্টারফেস দুটিকে একইভাবে দেখায়। আর ফিডে কী আসবে তা না জানিয়ে বদলে দেওয়ার নথিভুক্ত ইতিহাস প্ল্যাটফর্মগুলোর আছে, অর্থাৎ "প্ল্যাটফর্ম আমার অ্যাকাউন্টে কিছু করেছে"—এই পূর্বানুমানটি তারা অর্জন করেছে।
এ ধরনের দাবি যাচাইয়ে শিক্ষাটি হলো জিজ্ঞেস করা, বিকল্প ব্যাখ্যাটির জন্য কী কী লাগত। কোটি কোটি অ্যাকাউন্টকে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জুড়ে দেওয়া উপাত্তে ধরা পড়ত, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেত, আর মার্কিন রাজনীতির দুই পক্ষেরই নিয়ন্ত্রক নজরে থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্য তা হতো বিপর্যয়কর। অন্যদিকে আনফলোর সারি ধীরে খালি হতে সাধারণ প্রকৌশল ছাড়া আর কিছুই লাগে না।
দেখা বন্ধ করতে চাইলে
- অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল খুলে ফলোয়িং → আনফলো চাপুন। হস্তান্তরের সময় সঙ্গে সঙ্গে কাজ না করলে বারবার না চেপে পরে আবার চেষ্টা করুন।
- অনুসরণ রাখতে চান কিন্তু পোস্ট চান না—এমন হলে ইনস্টাগ্রামে মিউট বা ফেসবুকে আনফলো (বন্ধু বা অনুসারী থেকেই) ব্যবহার করুন; সংযোগ না ছিঁড়েই পোস্ট আসা বন্ধ হয়।
- আসলে কী অনুসরণ করছেন তা দেখতে চাইলে সেটিংস → ফলোজ অ্যান্ড ফলোয়ারস দেখুন। বেশির ভাগ মানুষ এমন কয়েকটি অ্যাকাউন্ট পান, যেগুলো বেছে নেওয়ার কথা তাঁদের মনে নেই—প্রায় সব ক্ষেত্রেই কারণ, অ্যাকাউন্টটির নাম বা উদ্দেশ্য পরে বদলে গেছে।
সূত্র: অ্যান্ডি স্টোনের মাধ্যমে মেটার বিবৃতি; এবিসি নিউজ; বিজনেস ইনসাইডার; ফক্স ১৩ সিয়াটল; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।




