প্রযুক্তি

সবার জন্য এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু করল মেসেঞ্জার—শতকোটি ব্যবহারকারী, চার বছর দেরিতে, আর প্রথমবার বাংলাদেশের বৃহত্তম চ্যাট অ্যাপ কী বলে তা মেটা পড়তে পারে না

২০১৬ থেকে মেসেঞ্জারের এনক্রিপশন ছিল ঐচ্ছিক ‘সিক্রেট কনভারসেশন’, যা প্রায় কেউ ব্যবহার করত না। মেটা এখন একে মেসেঞ্জার ও ফেসবুকের সব এক-থেকে-এক চ্যাট ও কলের ডিফল্ট করছে, আগামী মাসগুলোয় আসছে, কনটেন্ট এমনভাবে জমা যা মেটা খুলতে পারে না। এত দেরি কেন, আপনার ফোনে কী বদলায়, কী দৃশ্যমান থাকে, আর যে দেশে ফেসবুকে পুলিশের অনুরোধ রুটিন সেখানে এটি কেন জরুরি।

সবার জন্য এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু করল মেসেঞ্জার—শতকোটি ব্যবহারকারী, চার বছর দেরিতে, আর প্রথমবার বাংলাদেশের বৃহত্তম চ্যাট অ্যাপ কী বলে তা মেটা পড়তে পারে না

মেসেঞ্জার ২০১৬ থেকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন দিয়েছে ‘সিক্রেট কনভারসেশন’ নামের বিকল্প হিসেবে, যা প্রতিটি চ্যাটে চালু করতে হতো, ওয়েবে কাজ করত না, আর প্রায় কেউ ব্যবহার করত না। বুধবার মেটা বলল সবার জন্য চালু করছে: মেসেঞ্জার ও ফেসবুকে সব ব্যক্তিগত এক-থেকে-এক বার্তা ও কল ডিফল্টে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড হবে, অ্যাপের শতকোটির বেশি ব্যবহারকারীর কাছে বদলটি পৌঁছাবে আগামী মাসগুলোয় হালনাগাদের সঙ্গে।

এন্ড-টু-এন্ড মানে

বার্তা প্রেরকের ফোনে এমন চাবিতে গুলিয়ে দেওয়া হয়, যা কেবল প্রাপকের ফোনে আছে, আর সেখানে খোলা হয়। মাঝে—মেটার সার্ভারে, নেটওয়ার্কে, সরকারি অনুরোধে—অপাঠ্য। এত দিন মেসেঞ্জার চলার পথে বার্তা এনক্রিপ্ট করত কিন্তু মেটার সার্ভারে রাখত এমন রূপে যা মেটা পড়তে পারত; সে কারণেই ফেসবুক ২০২২ সালে নেব্রাস্কার এক মায়ের গর্ভপাত নিয়ে বার্তা পুলিশকে দিতে পেরেছিল, যে ঘটনা কোম্পানিকে এ কাজ শেষ করতে ঠেলে। মেটার মালিকানার হোয়াটসঅ্যাপ ২০১৬ থেকে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড; মেসেঞ্জার এখন তার ভাইকে ধরছে।

আপনার ফোনে যা বদলায়

মূলত দেখার মতো কিছু না। চ্যাটে ছোট একটি তালা আর এনক্রিপ্টেড হওয়ার টীকা দেখাবে; এনক্রিপশনের নিচে কাজ করাতে মেটা তিন বছর ধরে যে সুবিধা নতুন করে গড়েছে—থিম, প্রতিক্রিয়া, পড়ার রসিদ, লিংক প্রিভিউ, জবাব, ডেস্কটপ অ্যাপ—কাজ করতে থাকে। একটি নতুন ধাপ ব্যাকআপ: মেটা আর আপনার ইতিহাস পাঠযোগ্যভাবে রাখতে পারে না বলে আপনার বসানো পিনে, বা ৪০ অক্ষরের চাবিতে, সুরক্ষিত এনক্রিপ্টেড কপি রাখার প্রস্তাব দেয়। দুটোই হারিয়ে ফোন বদলালে ইতিহাস গেল; এটিই সুবিধাটির দাম, আর যত্নে করার সেটিং।

যা দৃশ্যমান থাকে

মেটাডেটা: কাকে বার্তা দেন, কখন, কত ঘন। গ্রুপ চ্যাট এখনো ডিফল্টে এনক্রিপ্টেড নয়, আর ইনস্টাগ্রাম ডিএম এখনো পুরোনো ঐচ্ছিক মডেলে। রিপোর্ট কাজ করে—বার্তা রিপোর্ট করলে রিপোর্ট করা কনটেন্ট আপনার অ্যাপ মেটাকে পাঠায়—আর আপনার ফোনের কাছে অনুরোধও। এনক্রিপশন তারে বার্তা রক্ষা করে, যে আপনার হ্যান্ডসেট তুলতে পারে তাকে নয়।

এখানে কেন জরুরি

হোয়াটসঅ্যাপ নয়, মেসেঞ্জারই বাংলাদেশের ৫ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর বেশির ভাগের প্রধান চ্যাট অ্যাপ, আর এটিই সেই অ্যাপ, যার কনটেন্ট সবচেয়ে বেশি পুলিশের হাতে গেছে: মেটার স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঘন ব্যবহারকারীর তথ্য চাওয়া দেশগুলোর মধ্যে, আর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বার্তার কনটেন্ট উঠে এসেছে। এই হালনাগাদ থেকে মেটার কাছে দেওয়ার মতো সেই কনটেন্ট থাকবে না। রাষ্ট্র ও নাগরিকের ব্যক্তিগত কথোপকথনের ভারসাম্যে এটি সত্যিকারের বদল—আর সে কারণেই ব্রিটেনসহ সরকারগুলো এর বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়েছে। মেটা তবু ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অ্যাপ হালনাগাদ করুন; পিন বসান।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।