প্রযুক্তি

তাকের পণ্যের দিকে গুগল লেন্স তাক করুন, দেখাবে দাম, রিভিউ আর পাশের দোকানে সস্তা কি না—আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে

লোকেশন শেয়ারিং চালু থাকলে লেন্স এখন সশরীর দোকানে তোলা পণ্যের ছবি চেনে আর দেয় তার বিবরণ, ক্রেতার রিভিউ, সেই ও কাছের খুচরা বিক্রেতায় দাম ও মজুত—আগে প্রসাধনী, খেলনা ও ইলেকট্রনিকস। গুগল বলছে ৭২% মার্কিন ক্রেতা দোকানে ফোন ব্যবহার করেন আর অর্ধেক তথ্যের অভাবে খালি হাতে ফেরেন। কীভাবে কাজ করে, অবস্থান কেন লাগে, আর কখনো ঢাকায় পৌঁছালে নিউমার্কেটের দরদামের রীতির কী হতো।

তাকের পণ্যের দিকে গুগল লেন্স তাক করুন, দেখাবে দাম, রিভিউ আর পাশের দোকানে সস্তা কি না—আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে

গুগল লেন্স বরাবর ছবি থেকে জিনিস চিনতে পারত। এ সপ্তাহে ঘোষিত নতুন সংস্করণ জানে ছবি তোলার সময় আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে। গুগল অ্যাপে অবস্থান শেয়ার করুন, দোকানের তাকের পণ্যের ছবি তুলুন, আর লেন্স দেয় শুধু এটি কী তা নয়, এই দোকান এর জন্য কত নেয়, এখানে ও কাছে মজুত আছে কি না, ক্রেতারা কী বলেছেন, আর অন্যত্র দামের তুলনা।

যেভাবে কাজ করে

লেন্স ছবি থেকে পণ্য চেনে, আগের মতো। অবস্থান বলে আপনি কোন খুচরা বিক্রেতায়; গুগলের শপিং গ্রাফ—যে মজুত ও দামের ফিড খুচরা বিক্রেতারা ইতিমধ্যে সার্চের জন্য গুগলকে দেয়—বলে সেই বিক্রেতা কী রাখে ও কত দামে, আর কাছের দোকানের একই ফিড দেয় তুলনা। রিভিউ আসে গুগলের নিজের তালিকা ও বিক্রেতার সাইট থেকে। ফল একটি কার্ড: পণ্যের বিবরণ, তারকা রেটিং, এখানকার দাম, আর বিকল্পের তালিকা। চালু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে, প্রসাধনী, খেলনা ও ইলেকট্রনিকসে, আরও শ্রেণি আসছে।

গুগল কেন গড়ল

গুগলের কনজিউমার শপিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিলিয়ান রিনকন সংখ্যা দিলেন: ৭২ শতাংশ মার্কিন ক্রেতা দোকানে থাকতে ফোন ব্যবহার করেন, আর তাঁদের অর্ধেকের বেশি দরকারি তথ্য না পেয়ে না কিনে বেরিয়ে যান। সেই ফাঁকই লেন্স বন্ধ করতে চায়। এটি প্রতিরক্ষাও: দোকানে ফোন সাধারণত খোলা থাকে অ্যামাজনে, তাকের জিনিসটি অনলাইনে সস্তা কি না দেখতে। গুগল চায় যাচাইটি হোক তার অ্যাপে, ক্রেতার সামনে তার খুচরা অংশীদারদের দাম আর পাশে নিজের বিজ্ঞাপন নিয়ে।

যা এটি নয়

এটি যেকোনো জায়গায় কাজ করা দাম-স্ক্যানার নয়। নির্ভর করে খুচরা বিক্রেতার গুগলকে মজুত ও দাম দেওয়ার ওপর, যা বড় মার্কিন চেইন করে আর ছোট দোকান করে না। শপিং গ্রাফে নেই এমন দোকানে পণ্যের ছবি তুলুন, পাবেন পুরোনো লেন্সের ফল—এটি কী, আর অনলাইনে কোথায় কিনবেন।

ঢাকায় পৌঁছালে

পৌঁছায়নি, তারিখও নেই। কিন্তু চিন্তার পরীক্ষাটি শিক্ষণীয়। বাংলাদেশি খুচরা চলে টাঙানো দামের অনুপস্থিতিতে—বসুন্ধরা সিটির পাশাপাশি দোকানে একই ফোনের দাম আলাদা, আর নিউমার্কেটে যা দেন তা নির্ভর করে কথোপকথনে। পাশের দোকানের চলতি দর দেখানো একটি টুল কথোপকথনটি ক্রেতার পক্ষে বদলে দিত। এতে লাগত দারাজ, পিকাবু, রায়ান্স ও স্টার টেকের গুগলকে দাম দেওয়া—অনলাইনগুলো ইতিমধ্যে দেয়—আর লাগত গুগলের এমন বাজার নিয়ে মাথা ঘামানো, যেখানে সে অল্প বিজ্ঞাপন বেচে। প্রথম শর্ত প্রায় পূরণ; দ্বিতীয়টিই এমন সুবিধাকে আমেরিকান রাখে।

এখানে আজই লেন্স সত্যিই যে কাজে লাগে

কেনাকাটার সুবিধাটি আমেরিকান থেকে গেলেও একই অ্যাপ আরও তিনটি কাজ এখনই বাংলাদেশে ভালোভাবে করে, আর সেগুলো কম ব্যবহৃত।

সাইন ও নথির অনুবাদ। আরবি, চীনা বা হিন্দি লেখার দিকে তাক করুন, অনুবাদ বসে যাবে সেখানেই। আমদানি করা পণ্য, চীনা মোড়ক বা পণ্যের ম্যানুয়াল নিয়ে কাজ করা যে কারও জন্য ফোনের ক্যামেরার সবচেয়ে কাজের সুবিধা এটিই।

যন্ত্রাংশ শনাক্ত করা। লেবেলহীন চার্জার, পানির লাইনের ফিটিং বা কোনো খুচরা যন্ত্রাংশের ছবি সাধারণত ঠিক নামটিই ফিরিয়ে দেয়—আর বদলি কেনার কঠিন অর্ধেকটা সেটিই।

কাগজ থেকে লেখা তুলে নেওয়া। ছাপা পাতার ছবি তুলুন, লেন্স লেখাটি তুলে দেয় এমনভাবে যা পেস্ট করা যায়—বাংলাসহ, যা এটি ভালোই পড়ে।

সূত্র: দ্য ভার্জ, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।