অ্যান্ড্রয়েডে গুগল ম্যাপস চালকদের বর্তমান গতি আর রাস্তার সীমা দেখাচ্ছে ২০১৯ থেকে। আইফোন ব্যবহারকারীরা পাঁচ বছর একই জিনিস চেয়েছেন; এ সপ্তাহে পেলেন। আইওএসের গুগল ম্যাপসের ৬.১২৩.০ সংস্করণ নেভিগেশনে যোগ করে স্পিডোমিটার ও গতিসীমা সূচক, ফোনের পর্দায় ও কারপ্লেতে। চালু হচ্ছে সব আইওএস ব্যবহারকারীর জন্য, পরীক্ষার দলের জন্য নয়।
যেভাবে চালু করবেন
ডিফল্টে বন্ধ। গুগল ম্যাপস খুলুন, ওপরে ডানে প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করুন, তারপর সেটিংস → নেভিগেশন অ্যান্ড ড্রাইভিং। সেই পাতায় দুটি সুইচ, স্পিডোমিটার ও স্পিড লিমিট; দুটিই চালু করুন। পরের বার রুট শুরু করলে নেভিগেশন পর্দার নিচে বাঁয়ে ছোট একটি ডায়াল আসে আপনার গতি আর, গুগলের কাছে তথ্য থাকলে, যে রাস্তায় আছেন তার সীমাসহ। একক অঞ্চল অনুযায়ী—এখানে কিমি/ঘণ্টা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে মাইল—আর সীমা ছাড়ালে সূচকের রং বদলায়।
কতটা নিখুঁত
গতি আসে ফোনের জিপিএস থেকে, গাড়ি থেকে নয়, তাই ড্যাশবোর্ডের চেয়ে এক-দুই সেকেন্ড পিছিয়ে থাকে আর টানেলে বা উঁচু ভবনের মাঝে লাফাতে পারে। গুগল নিজেই বলে এটি তথ্যের জন্য, গাড়ির স্পিডোমিটারই মানদণ্ড। গতিসীমা আসে মানচিত্রের তথ্য থেকে, যা বাংলাদেশে পাতলা: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও প্রধান মহাসড়কে সাধারণত ঠিক, শহরের রাস্তায় প্রায়ই অনুপস্থিত, আর অ্যাপ ভুল সীমার বদলে স্রেফ কোনো সীমা দেখায় না।
পাঁচ বছর কেন লাগল
কারণ অ্যাপল। এর নিজের ম্যাপস অ্যাপ আইওএস ১১ থেকে গতিসীমা দেখায়, আর তৃতীয় পক্ষের নেভিগেশন অ্যাপ কী আঁকতে পারে তা নিয়ে কারপ্লের নিয়ম আইওএস ১৬ পর্যন্ত কড়া ছিল। গুগল ফোনে স্পিডোমিটার আগে ছাড়তে পারত, কিন্তু দুটো একসঙ্গে করতে পারা পর্যন্ত অপেক্ষা বেছে নেয়। ফল: আইফোন ব্যবহারকারীরা পান পরিণত সংস্করণ—অ্যান্ড্রয়েডের মতোই নকশা, রঙের সতর্কবার্তাসহ।
বাংলাদেশের কথা
বাংলাদেশ এ বছরের মে মাসে প্রথমবার আনুষ্ঠানিক গতিসীমা ঠিক করেছে—এক্সপ্রেসওয়েতে ৮০ কিমি/ঘণ্টা, শহরে গাড়ির ৪০, শহরে মোটরসাইকেলের ৩০—আর পুলিশ এক্সপ্রেসওয়েতে ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করেছে। সীমার পাশে আপনার গতি দেখানো ফোন এখানে প্রথমবারের মতো ড্যাশবোর্ডে কৌতূহলের বদলে কাজের জিনিস। শুধু মাউন্ট করুন; চালাতে চালাতে ছোঁয়া থেকে অ্যাপ আপনাকে থামায় না।
সুবিধাটি না দেখলে
অ্যাপ স্টোরে গুগল ম্যাপস হালনাগাদ করে সংস্করণ ৬.১২৩.০ বা নতুন কি না দেখুন; সেটিংসে টগল দুটি না থাকলে অ্যাপটি একবার পুরো বন্ধ করে আবার খুলুন। কারপ্লেতে ডায়ালটি আসে মানচিত্রের নিচের কোণে, আর ফোনের মতো একই সেটিংই তা নিয়ন্ত্রণ করে—আলাদা করে কিছু চালু করতে হয় না।
সূত্র: নিউজ১৮, প্রথম আলোর বরাতে।




