প্রযুক্তি

অচেনা নম্বরের লিংকে ট্যাপ করার আগে সতর্ক করবে গুগল মেসেজেস—বাংলাদেশের সবচেয়ে সাধারণ প্রতারণার দিকে তাক করা ছোট একটি পপআপ

এখন পরীক্ষায়: কন্ট্যাক্টে নেই এমন নম্বরের এসএমএসের লিংকে ট্যাপ করলে গুগল মেসেজেস সতর্ক করে এটি ক্ষতিকর হতে পারে, সঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ। এটি জেদি ব্যবহারকারীকে থামাবে না, কিন্তু ‘আপনার পার্সেল আটকে আছে, এখানে ক্লিক করুন’ বার্তা যে প্রতিবর্তে ভর করে, তাতে বাধা দেয়। কী করে, কী করে না, আর কাজটি শেষ করা তিনটি অভ্যাস।

অচেনা নম্বরের লিংকে ট্যাপ করার আগে সতর্ক করবে গুগল মেসেজেস—বাংলাদেশের সবচেয়ে সাধারণ প্রতারণার দিকে তাক করা ছোট একটি পপআপ

অচেনা নম্বর থেকে টেক্সট আসে: পার্সেল পৌঁছানো যায়নি, বিকাশ অ্যাকাউন্ট যাচাই দরকার, পুরস্কার অপেক্ষায়, ‘আপনার একটি ছবি’ পোস্ট হয়েছে—আর একটি লিংক। তাতে ট্যাপ করাই পুরো অপরাধ। অ্যান্ড্রয়েডের মেসেজেস অ্যাপে এখন পরীক্ষাধীন গুগলের উত্তর: বুড়ো আঙুল ও লিংকের মাঝে আরও একটি ধাপ।

সুবিধাটি যা করে

কন্ট্যাক্টে সেভ নেই এমন নম্বরের বার্তার ভেতরের লিংকে ট্যাপ করলে মেসেজেস একটি পপআপে সতর্ক করে যে অচেনা প্রেরকের লিংক ক্ষতিকর হতে পারে। পিছিয়ে আসতে পারেন, বা তবু সাইট খুলতে কনটিনিউ ট্যাপ করতে পারেন। সেভ করা কন্ট্যাক্টের লিংক অস্পৃষ্ট। সুবিধাটি সীমিত একদল বেটা পরীক্ষকের জন্য চালু; সবার কাছে কবে, গুগল বলেনি, কিন্তু মেসেজেসের সুবিধা সাধারণত বেটায় দেখা দেওয়ার কয়েক সপ্তাহে চালু হয়।

যা থামাবে, যা থামাবে না

এটি কিছু আটকাবে না—জেদ ধরলে লিংক তবু খোলে—আর নির্দিষ্ট সাইট বিপজ্জনক কি না জানবে না; সতর্কবার্তা আসে প্রেরক অচেনা বলে, লিংক খারাপ বলে নয়। যা করে, তা প্রতিবর্ত ভাঙা। স্মিশিং কাজ করে কারণ বার্তা তাড়া তৈরি করে আর লিংক এক ট্যাপ দূরে; ‘ক্ষতিকর হতে পারে’ লেখা একটি বিরতি একাংশ মানুষকে বার্তাটি আবার পড়াতে আর লক্ষ করাতে যথেষ্ট যে কুরিয়ার সাধারণত ব্যক্তিগত নম্বর থেকে টেক্সট করে না। এটি একটি স্পিড ব্রেকার, আর স্পিড ব্রেকার কাজ করে।

এখানে কেন জরুরি

বাংলাদেশ চলে এসএমএসে। ব্যাংক, মোবাইল-অর্থ সেবা, কুরিয়ার কোম্পানি ও সরকারি দপ্তর সবাই লিংকসহ বৈধ টেক্সট পাঠায়, আর ঠিক এ কারণেই নকলগুলো বিশ্বাস পায়। বিকাশ ও নগদের ‘অ্যাকাউন্ট যাচাই করুন’ প্রতারণা, ভুয়া পার্সেলের নোটিশ, লটারি জেতা—সব আসে কেউ সেভ করেনি এমন নম্বরের এসএমএসে, আর সব ভর করে একটি লিংকে। এখানে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল মেসেজেস ডিফল্ট এসএমএস অ্যাপ, তাই কেউ কিছু ইনস্টল না করেই সতর্কবার্তা জনসংখ্যার বড় অংশে পৌঁছাবে।

কাজটি শেষ করা তিনটি অভ্যাস

  1. টেক্সট থেকে ব্যাংক, বিকাশ বা নগদের লিংক কখনো খুলবেন না। বদলে অ্যাপ খুলুন; কিছু করার থাকলে সেখানে থাকবে।
  2. কোম্পানি দাবি করা ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরের লিংককে ডিফল্টে ভুয়া ধরুন। আসল কোম্পানি পাঠায় শর্ট কোড বা নামযুক্ত প্রেরক থেকে।
  3. মেসেজেসে স্প্যাম প্রোটেকশন চালু করুন (সেটিংস → স্প্যাম প্রোটেকশন), যাতে জানা প্রতারণার নম্বর আপনি দেখার আগেই ছাঁকা হয়।

ট্যাপ না করেই লিংক যাচাই করার উপায়

সতর্কবার্তা আসে ট্যাপ করার পর, আর তার আগেই কাজ করে এমন একটি অভ্যাস বেশি দরকারি—বিশেষত যেহেতু সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতারণার টেক্সট আসে এমন নম্বর থেকে, যাকে অবিশ্বাস করার কারণ আপনার ফোনের নেই।

ট্যাপ না করে লিংকটি চেপে ধরে রাখুন। অ্যান্ড্রয়েড ‘কপি লিংক অ্যাড্রেস’ দেয়, আর তারপর দেখানো সংক্ষিপ্ত লেখাটির বদলে পুরো ইউআরএলটি পড়তে পারবেন।

প্রথম একক স্ল্যাশ থেকে পিছিয়ে পড়ুন। আসল গন্তব্য হলো ওই স্ল্যাশের আগের শেষ দুটি শব্দ। bkash.verify-account.xyz/login-এ সাইটটি verify-account.xyz, আর bkash নিছকই কেউ টাইপ করা একটি শব্দ। bkash.com/login-এ সাইটটি bkash.com। আসল ডোমেইনের বাঁ দিকের সবকিছু প্রেরকের বেছে নেওয়া সাজসজ্জা।

অপ্রত্যাশিত শর্টনার কখনো খুলবেন না। অপরিচিতের পাঠানো bit.ly এমন একটি লিংক, যা কোথায় যাচ্ছে তা বলতে অস্বীকার করে—কারণ হিসেবে এটুকুই যথেষ্ট।

আর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নিয়মটিতে কোনো কৌশলই লাগে না: আপনার টাকা নিয়ে আসা বার্তায় লিংক থাকলে লিংকটি ব্যবহার করবেন না। আপনার কাছে আগেই থাকা অ্যাপটি খুলুন, বা কার্ডের পেছনের নম্বরে ফোন করুন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।