ইগ নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় এমন গবেষণাকে, যা ‘প্রথমে হাসায়, তারপর ভাবায়’—আলাদা নাম দেওয়া গরু বেশি দুধ দেয় কি না, বা উমব্যাট কত দ্রুত ঘনক আকারের মল তৈরি করে। ৩৫ বছর ধরে অনুষ্ঠানটি ছিল আমেরিকান প্রতিষ্ঠান: প্রতি সেপ্টেম্বরে, আসল নোবেলের কিছু আগে, বিজয়ীরা উড়ে এসে দর্শকদের ছোড়া কাগজের বিমানের বৃষ্টির নিচে পুরস্কার নিতেন। এ বছর প্রথমবারের মতো তা যুক্তরাষ্ট্রে হচ্ছে না।
কী বদলাচ্ছে
ডিজিটাল ম্যাগাজিন অ্যানালস অব ইম্প্রোবেবল রিসার্চ আয়োজিত ৩৬তম অনুষ্ঠানটি হবে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে, জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় ও সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (ইটিএইচ) সহযোগিতায়। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর জুরিখে ফিরবে আসরটি, মাঝের বছরগুলোতে ইউরোপের অন্য শহরে।
কেন
ঘোষিত কারণ খোলামেলা। ম্যাগাজিনটির সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মার্ক আব্রাহামস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, গত এক বছরে অনুষ্ঠানের অতিথিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফর অনিরাপদ হয়ে উঠেছে, আর এ বছরের বিজয়ী বা আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সেখানে যেতে বলে আয়োজকেরা নিজেদের বিবেককে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারেন না। সমস্যাটি যতটা রাজনৈতিক, ততটাই ব্যবহারিক: বিদেশি অতিথিদের মার্কিন ভিসা পাওয়ায় ক্রমবর্ধমান জটিলতা ও অনিশ্চয়তা। প্রবণতাটি গত বছরই দৃশ্যমান ছিল, যখন দশ বিজয়ীর চারজন বোস্টনের মূল অনুষ্ঠানে আসেননি।
একটি রসিকতার পুরস্কার কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইগ নোবেল একটি রসিকতা, কিন্তু এর দর্শক গম্ভীর। বিজয়ীরা প্রায়ই সম্মানিত বিজ্ঞানী, যাঁদের অদ্ভুত শোনানো কাজ পরে কাজে লাগে—শুকনো স্প্যাগেটি কেন দুই টুকরার বেশি হয়ে ভাঙে, তার ওপর ২০০৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার আজ ফ্র্যাকচার মেকানিক্সের আদর্শ উদাহরণ। অনুষ্ঠানে আসেন কয়েক ডজন দেশের গবেষক ও সাংবাদিক—ভিসার ঘর্ষণ ঠিক এ ধরনের সমাবেশকেই প্রথম আঘাত করে। যখন একটি কৌতুকপূর্ণ বিজ্ঞান অনুষ্ঠানও সিদ্ধান্ত নেয় যে অংশগ্রহণকারীদের নির্ভরযোগ্যভাবে একটি দেশে আনা যাচ্ছে না, সম্মেলন আয়োজকদের জন্য সংকেতটি অগ্রাহ্য করা কঠিন।
বৃহত্তর ধরন
বৈজ্ঞানিক সম্মেলনগুলো কিছুদিন ধরে চুপচাপ জায়গা বদলাচ্ছে—এমন ভেন্যু বাছছে, যেখানে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অংশগ্রহণকারীরা সত্যিই ঢুকতে পারেন। বাংলাদেশের গবেষকদের জন্য, যাঁরা নিয়মিত ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে সপ্তাহ হারান আর কখনো পুরো সফরই, ইউরোপভিত্তিক ইগ নোবেল বরং সামান্য সহজ—শেনজেন ভিসাও বাধা, তবে অপেক্ষাকৃত অনুমেয়। সরে যাওয়াটা সাময়িক না স্থায়ী ইউরোপীয় ঠিকানার সূচনা, তা যা-ই হোক, আয়োজকেরা কথাটি স্পষ্ট করেছেন: বিজ্ঞানীরা যেখানে যেতে পারবেন, কাগজের বিমান সেখানেই উড়বে।




