প্রযুক্তি

ইগ নোবেল পুরস্কার আমেরিকা ছাড়ছে — আর যিনি একবার এটি জিতেছিলেন তিনি পরে সত্যিকারের নোবেলও জিতেছেন, যুক্তিটি এটিই

একটি মজার পুরস্কারের জায়গা বদল ছোট খবর। পড়ার মতো করে তোলে এই প্রশ্নটি: অদ্ভুত শোনানো গবেষণা বারবার কাজের হয়ে ওঠে কেন, আর ভিসার ঝামেলা নীরবে একটি বৈজ্ঞানিক জীবনের কী ক্ষতি করে।

ইগ নোবেল পুরস্কার আমেরিকা ছাড়ছে — আর যিনি একবার এটি জিতেছিলেন তিনি পরে সত্যিকারের নোবেলও জিতেছেন, যুক্তিটি এটিই

ইগ নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় এমন গবেষণাকে, যা “আগে হাসায়, পরে ভাবায়” — আলাদা নাম ধরে ডাকলে গরু বেশি দুধ দেয় কি না, কিংবা ওমব্যাট কত দ্রুত ঘনকাকৃতি মল তৈরি করে, এ ধরনের গবেষণা। ৩৫ বছর ধরে অনুষ্ঠানটি ছিল আমেরিকার প্রতিষ্ঠান, প্রতি সেপ্টেম্বরে আসল নোবেলের কিছু আগে — আর দর্শকের ছোড়া কাগজের উড়োজাহাজের বৃষ্টির নিচে বিজয়ীরা পুরস্কার নিতেন। এ বছর প্রথমবারের মতো এটি যুক্তরাষ্ট্রে হচ্ছে না।

কী বদলাচ্ছে

অ্যানালস অব ইমপ্রোব্যাবল রিসার্চ সাময়িকীর আয়োজনে ৩৬তম অনুষ্ঠানটি হবে জুরিখে, ইউনিভার্সিটি অব জুরিখ ও সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ইটিএইচ)-এর সঙ্গে যৌথভাবে। আয়োজকেরা বলছেন, এটি প্রতি দুই বছর অন্তর জুরিখে ফিরবে, আর মাঝের বছরগুলোতে ইউরোপের অন্য শহরে হবে।

কেন

ঘোষিত কারণটি সরাসরি। সাময়িকীর সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মার্ক আব্রাহামস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, গত এক বছরে অনুষ্ঠানের অতিথিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত নিরাপদ থাকেনি, আর আয়োজকেরা বিবেকবানভাবে এ বছরের বিজয়ী বা আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের ওই যাত্রার আমন্ত্রণ জানাতে পারেননি। সমস্যাটি যতটা রাজনৈতিক, ততটাই বাস্তব: যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ায় ক্রমবর্ধমান কাঠিন্য ও অনিশ্চয়তা। প্রবণতাটি আগেই দেখা গিয়েছিল — আগের মূল অনুষ্ঠানে দশজন বিজয়ীর চারজনই বস্টনে আসেননি।

যিনি দুটিই জিতেছেন

মজার একটি পুরস্কারকে গুরুত্ব দিয়ে নেওয়ার যুক্তিটি সবচেয়ে ভালোভাবে দেন একজন মানুষ।

২০০০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে ইগ নোবেল পান আন্দ্রে গাইম, চুম্বক ব্যবহার করে জীবন্ত একটি ব্যাঙকে শূন্যে ভাসিয়ে। পুরস্কারটি যে ধরনের ফলের জন্য, এটি ঠিক তা-ই: মজার, আপাতদৃষ্টিতে অর্থহীন, আর ব্যাপকভাবে কসরত বলেই ধরা হয়েছিল। অথচ এটি ছিল ডায়াম্যাগনেটিজমের সত্যিকারের প্রদর্শনী — সাধারণ পদার্থ, যার মধ্যে পানি এবং সেই সূত্রে ব্যাঙও পড়ে, চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা অত্যন্ত দুর্বলভাবে বিকর্ষিত হয়; ক্ষেত্রটি যথেষ্ট শক্তিশালী হলে তা ভাসার মতো যথেষ্ট।

দশ বছর পর গাইম পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান গ্রাফিনের জন্য, যা তিনি গবেষণাগারে গ্রাফাইট থেকে আঠালো টেপ দিয়ে স্তর তুলে আলাদা করেছিলেন। দুটি পুরস্কারই পাওয়া একমাত্র মানুষ তিনিই, আর তাঁর দুটি পুরস্কারের মিল বিষয়ে নয়, পদ্ধতিতে: স্পষ্টতই হাস্যকর পরীক্ষাটি করে দেখা, কী হয়।

একটি কৌতুক-পুরস্কারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু এটিই। এক লাইনের সারসংক্ষেপে যে গবেষণা উদ্ভট শোনায়, তা গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার আলাদা কোনো শ্রেণি নয় — প্রায়ই সেটি একই কাজ, কোনটি কী হয়ে দাঁড়াবে তা জানার আগে বর্ণনা করা। শুকনো স্প্যাগেটি দুই টুকরোর বেশি হয়ে ভাঙে কেন, সেই ২০০৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানের ইগ নোবেল এখন ফ্র্যাকচার মেকানিকসের পাঠ্য উদাহরণ। পুরস্কারটির আসল কাজ হলো কোনো গবেষণা যখন হাস্যকর শোনাচ্ছে, তখনই তা লক্ষ করা।

সম্মেলন আসলে কী করে

অতিথিরা নির্ভরযোগ্যভাবে ভিসা পাচ্ছেন না বলে কোনো অনুষ্ঠানের জায়গা বদল শুনতে অসুবিধা মনে হয়। কী হারাচ্ছে তা নির্ভুলভাবে বলা দরকার, কারণ একাডেমিয়ার বাইরে থেকে ব্যবস্থাটি স্পষ্ট নয়।

গবেষণাপত্র যেকোনো জায়গা থেকে পড়া যায়, আর ক্রমেই পড়া হচ্ছে। সম্মেলন যা দেয় তা হলো সেই অংশ, যা গবেষণাপত্রে থাকে না: বক্তৃতার পরের যে আলাপ সহযোগিতায় রূপ নেয়, যে জ্যেষ্ঠ গবেষক একজন পিএইচডি শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচিত হন আর দুই বছর পর পদ খালি হলে নামটি মনে রাখেন, করিডরের যে কথাবার্তা কারও এক বছরের শ্রম বাঁচিয়ে দেয় কারণ দেখা যায় দুটি দল একই সমস্যায় কাজ করছে।

এগুলোর মূল্য অসমভাবে বেশি কর্মজীবনের শুরুতে আর তাঁদের জন্য যাঁদের প্রতিষ্ঠিত যোগাযোগবলয় নেই — অর্থাৎ ঠিক সেসব গবেষকের জন্য, যাঁদের ভিসা পাওয়া সবচেয়ে কঠিন। ঝামেলাটি এলোমেলোভাবে বণ্টিত নয়। এটি গিয়ে পড়ে নির্দিষ্ট কিছু পাসপোর্টধারীর ওপর, আর এটি জমতে থাকে: প্রথম পাঁচ বছরে তিনটি সম্মেলন ফসকে যাওয়া গবেষকের যোগাযোগবলয় মাপা যায় এমনভাবেই ছোট থাকে, আর ব্যবধানটি পরে আর মেটে না।

হাইব্রিড সেশন কিছুই না থাকার চেয়ে ভালো, আর বিকল্প নয়। যে ভিডিও কলে কেউ আগে থেকেই আমন্ত্রিত ছিলেন না, সেখানে কখনো কোনো সহযোগিতা শুরু হয়নি।

ব্যাপক ধরনটি

বৈজ্ঞানিক সম্মেলনগুলো বেশ কিছুকাল ধরেই নীরবে জায়গা বদলাচ্ছে, এমন শহর বেছে নিচ্ছে যেখানে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অংশগ্রহণকারীরা সত্যিই ঢুকতে পারেন। আয়োজকেরা ক্রমেই খরচ ও সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি ভিসা-সহজতাকেও বাছাইয়ের মাপকাঠি ধরছেন — আর বিজ্ঞানের অবকাঠামো কীভাবে পরিকল্পিত হয়, এটি তাতেই একটি পরিবর্তন।

বাংলাদেশের গবেষকেরা, যাঁদের নিয়মিতই সাক্ষাৎকারের সিরিয়ালে সপ্তাহ চলে যায় আর কখনো যাত্রাটিই বাতিল হয়, তাঁদের জন্য ইউরোপে হওয়া ইগ নোবেল সামান্য হলেও সহজে নাগালে। শেঙেন ভিসা এখনো বাধা, তবে বেশি অনুমেয় বাধা — আর সম্মেলনের তারিখ নির্দিষ্ট আর সাক্ষাৎকারের তারিখ অনির্দিষ্ট হলে অনুমেয়তাই সবচেয়ে বেশি দরকারি।

বিদেশে গবেষণা উপস্থাপন করতে যাওয়া যে কারও জন্য বাস্তব পরামর্শটি জৌলুসহীন আর ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত: ভ্রমণের টিকিট কাটার সময় নয়, গবেষণাপত্র গৃহীত হওয়ার দিনেই ভিসার প্রক্রিয়া শুরু করুন — কারণ আসল বাধা প্রায় কখনোই সিদ্ধান্ত নয়, বাধা হলো সাক্ষাৎকারের সুযোগটুকুর জন্য অপেক্ষা।

সরে যাওয়াটি সাময়িক, নাকি স্থায়ীভাবে ইউরোপে ঘর বাঁধার শুরু — যা-ই হোক, আয়োজকেরা কথাটি স্পষ্ট করেছেন: বিজ্ঞানীরা যেখানে পৌঁছাতে পারবেন, কাগজের উড়োজাহাজ সেখানেই উড়বে।

সূত্র: Annals of Improbable Research, The Guardian, conference mobility reporting

লিখেছেন

Tanmay Das

টেক বিডিতে বিজ্ঞান, মহাকাশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে লেখেন তন্ময় দাস — গবেষণার ফল, মহাকাশ অভিযান আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের খবর। কোনো গবেষণা আসলে কী মেপেছে, তিনি তা-ই পড়েন; আর লেখেন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির জন্য নয়, ঢাকার পাঠকের জন্য তার মানে কী—তা নিয়ে।