প্রযুক্তি

৩৫ আলোকবর্ষ দূরে পঞ্চম গ্রহ, যে অঞ্চলে পানি তরল থাকে—এল ৯৮-৫৯ এফ কী, আর ওয়েব টেলিস্কোপ কেন পরের ধাপ

ইউনিভার্সিটি দ্য মন্ট্রিলের জ্যোতির্বিদেরা পৃথিবীর নিকটতম গ্রহব্যবস্থাগুলোর একটি, লাল বামন এল ৯৮-৫৯-এর চারপাশে পঞ্চম গ্রহ পেয়েছেন। ভর পৃথিবীর অন্তত ২.৮ গুণ, প্রায় বৃত্তাকার কক্ষপথ, আমাদের মতোই সূর্যালোক পায়। ‘বাসযোগ্য অঞ্চল’ আসলে কী বোঝায়, আর গ্রহটির বায়ুমণ্ডল থাকলে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ কী পেতে পারে।

৩৫ আলোকবর্ষ দূরে পঞ্চম গ্রহ, যে অঞ্চলে পানি তরল থাকে—এল ৯৮-৫৯ এফ কী, আর ওয়েব টেলিস্কোপ কেন পরের ধাপ

ছায়াপথের মাপে ৩৫ আলোকবর্ষ পাশের বাড়ি, আর ছোট লাল তারা এল ৯৮-৫৯ অস্বাভাবিক ভিড়ের প্রতিবেশী বলে প্রমাণিত হয়েছে। ইউনিভার্সিটি দ্য মন্ট্রিলের ট্রটিয়ার ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন এক্সোপ্ল্যানেটসের জ্যোতির্বিদেরা ব্যবস্থাটিতে পঞ্চম গ্রহ এল ৯৮-৫৯ এফ নিশ্চিত করেছেন, আর এটি বসে আছে তারার চারপাশের সেই অঞ্চলে, যেখানে গ্রহের পৃষ্ঠে তরল পানি থাকতে পারে।

যেভাবে পাওয়া গেল

ব্যবস্থাটি জোড়া লেগেছে এক এক করে। নাসার টেস মহাকাশ টেলিস্কোপ ২০১৯ সালে তিনটি ছোট গ্রহ দেখে তারার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আলো সামান্য কমতে দেখে। চতুর্থটি মেলে ইউরোপীয় সাউদার্ন অবজারভেটরির এসপ্রেসো স্পেকট্রোগ্রাফের তথ্যে, যা গ্রহের মহাকর্ষে তারার ক্ষুদ্র দুলুনি ধরে। পঞ্চমটি আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে তারাকে অতিক্রম করে না, তাই মিলেছে দ্বিতীয় পথে—বছরের পর বছরের উচ্চ-নির্ভুল দুলুনির মাপ মহাকাশ টেলিস্কোপের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে, যতক্ষণ না আরেকটি বস্তুর সংকেত অভ্রান্ত হয়। ‘মহাকাশ টেলিস্কোপ ও উচ্চ-নির্ভুল যন্ত্রের তথ্য একত্র করে আমরা গ্রহটি পেয়েছি এমন অঞ্চলে, যেখানে পরিস্থিতি পানির অস্তিত্বের অনুকূল হতে পারে,’ দলটি বলেছে।

কেমন গ্রহ

এল ৯৮-৫৯ এফ-এর ভর পৃথিবীর অন্তত ২.৮ গুণ, যাতে এটি সুপার-আর্থ—আমাদের গ্রহের চেয়ে বড়, নেপচুনের চেয়ে ছোট, এমন ধরন যা আমাদের সৌরজগতে নেই আর ছায়াপথে সবচেয়ে সাধারণ। কক্ষপথ প্রায় নিখুঁত বৃত্তাকার, আর তারাটি ছোট ও শীতল বলে অনেক কাছে ঘুরলেও গ্রহটি তার থেকে মোটামুটি সেই শক্তিই পায়, যা পৃথিবী সূর্য থেকে পায়। তাতেই এটি বাসযোগ্য অঞ্চলে। এর মানে গ্রহটি বাসযোগ্য নয়: তা নির্ভর করে বায়ুমণ্ডল আছে কি না, তা কী দিয়ে তৈরি, আর শত কোটি বছরে তারার অগ্নিশিখা তাকে কেমন সামলেছে।

ওয়েব কেন পরের ধাপ

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ শুরু করতে পারে। এল ৯৮-৫৯ এফ-এর বায়ুমণ্ডল থাকলে ওয়েবের যন্ত্র তার ভেতর দিয়ে ছেঁকে আসা তারার আলোয় জলীয় বাষ্প ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের চিহ্ন খুঁজতে পারে। ইনস্টিটিউটের নেতৃত্বে থাকা রেনে ডয়ন বলছেন, ব্যবস্থাটি ছোট তারার চারপাশে পাথুরে গ্রহ কীভাবে গড়ে ও বদলায়, সুপার-আর্থ ও সাব-নেপচুন কী দিয়ে তৈরি, আর লাল বামনের চারপাশে পাথুরে জগৎ আদৌ বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে কি না—প্রাণ কোথায় সাধারণ হতে পারে, তার সবচেয়ে বড় খোলা প্রশ্ন—তা জানার বিরল সুযোগ দেয়। বাংলাদেশের ছাদে দাঁড়িয়ে যিনি ভেবেছেন নিকটতম তারাগুলোর গ্রহ আছে কি না: যেগুলো আমরা কাছ থেকে পড়তে পারি, তাদের আছে—এখানে পাঁচটি, আর একটি ঠিক জায়গায়।

সূত্র: এনডিটিভি, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।