মিন্ডি মেলেয়ালের বয়স ৭৫; আধুনিক এলজিবিটি অধিকার আন্দোলনের প্রতিটি বড় মাইলফলক তিনি দেখেছেন—১৯৬৭ সালে অপরাধীকরণ তুলে নেওয়ার শুরু থেকে ২০১৪ সালের প্রথম সমলিঙ্গ বিয়ে পর্যন্ত। তিনি বলছেন, বয়সের কারণে তাঁর পরিচয়ের এই দিকটি এখন প্রায়ই উপেক্ষিত হয়।
প্রতিবেদনে যা মিলেছে
সেন্টার ফর এজিং বেটারের নতুন এক প্রতিবেদন বলছে, ইংল্যান্ডের বয়স্ক এলজিবিটিকিউ+ জনগোষ্ঠী বৃহত্তর প্রবীণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় প্রায়ই মুখোমুখি হন খারাপ স্বাস্থ্য, সীমিত আর্থিক সামর্থ্য ও বেশি সামাজিক একাকিত্বের।
এর মূল সতর্কবার্তাটি নির্দিষ্ট: বিশেষায়িত সহায়তা না থাকলে ক্রমবর্ধমান এই দলটিকে সেবা নিতে গিয়ে "আবার আড়ালে" ফিরতে বাধ্য হতে হতে পারে—আর সমকামভীতির আশঙ্কায় তাঁরা প্রয়োজনীয় সেবা নিতে দেরি করতে পারেন।
এলজিবিটি ফাউন্ডেশন দাতব্য সংস্থার হাউজিং ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার অ্যাডাম প্রেস্টন বলছেন, এই পরিস্থিতিতে থাকা প্রবীণদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিতই দেখা হয়।
এই দলটি কাঠামোগতভাবে বেশি অরক্ষিত কেন
এটি কেবল দৃষ্টিভঙ্গির বিষয় নয়—এর একটি জনমিতিক কারণ আছে, আর তা একাকিত্বের পর্যবেক্ষণটিও ব্যাখ্যা করে।
যাঁরা এখন সত্তর-আশির কোঠায়, তাঁদের বেড়ে ওঠার সময় প্রকাশ্য হওয়ার আইনি ও সামাজিক ঝুঁকি ছিল বাস্তব। তাঁদের অনেকেরই সন্তান থাকার সম্ভাবনা কম, জন্মসূত্রে পাওয়া পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আর বন্ধুদের ঘিরে সহায়তার বলয় গড়ার সম্ভাবনাও বেশি—যে বলয় বয়সের সঙ্গে পাতলা হয়ে আসে ঠিক তখনই, যখন সেবার প্রয়োজন বাড়ে। সমবয়সী কোনো বিষমকামী মানুষের পক্ষে হাসপাতাল বা কেয়ার হোমে যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানেরা কথা বলেন, এই দলটির ক্ষেত্রে প্রায়ই কেউ থাকেন না।
এ কারণেই আবার আড়ালে ফেরার দাম এত বেশি। ঘরে বা আবাসিক কেন্দ্রে সেবা ঘনিষ্ঠ বিষয়; আর যে মানুষ নিজেকে জানাতে নিরাপদ বোধ করেন না, তিনি সামলান গুটিয়ে গিয়ে, উপসর্গ কম করে বলে, কিংবা কিছু না চেয়ে।
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশের আইনি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট খুবই আলাদা, আর এই প্রতিবেদন সরাসরি এখানে খাটে না। যা খাটে তা মূল পর্যবেক্ষণটি, যা আসলে যৌনতা নিয়ে নয়: যাঁরা বিচারের মুখে পড়ার আশঙ্কা করেন, তাঁরা স্বাস্থ্যসেবা নিতে দেরি করেন—আর সেই দেরিতেই ক্ষতি জমে।
এই কৌশলটি এ দেশে একাধিক দলের ক্ষেত্রে ভালোভাবেই নথিভুক্ত—প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা অবিবাহিত নারী, মানসিক রোগে ভোগা মানুষ, হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী, আসক্তির চিকিৎসা নিতে চাওয়া মানুষ, আর বোঝা হতে না চাওয়া প্রবীণেরা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ক্লিনিক্যাল সমস্যা এক: রোগী আসেন দেরিতে, এমন অবস্থা নিয়ে যার চিকিৎসা আগে সস্তা ও সহজ ছিল।
নকশার শিক্ষাটিই ব্যবহারিক অংশ। যে সেবা বিচারের আশঙ্কা করা মানুষদের কাছে পৌঁছাতে চায়, তাকে চাওয়ার আগেই নিরাপত্তার সংকেত দিতে হয়—দেয়ালে কী লেখা আছে, নিবন্ধনে কী জিজ্ঞেস করা হয়, গোপনীয়তার কথা স্পষ্ট করে বলা হয় কি না, আর কর্মীদের সোজা করে বলা হয়েছে কি না যে রোগীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি তাঁদের দেখার বিষয় নয়। এগুলো এমন সিদ্ধান্ত, যা একটিমাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ব্যক্তিগত চেম্বারও এ সপ্তাহেই নিতে পারে, কোনো নীতিমালা ছাড়াই।
একাকিত্বের পর্যবেক্ষণটি বাকি অর্ধেক। বাংলাদেশে প্রবীণ জনসংখ্যা বাড়ছে আর শহরে যৌথ পরিবার পাতলা হচ্ছে; ফলে হাসপাতালে কথা বলার মতো কেউ নেই এমন প্রবীণের সংখ্যাও বাড়ছে। তাঁরা যে-ই হোন, এটিই সেই দল—যাঁদের উপসর্গ কেউ জানায় না, আর যাঁদের অবনতি কারও চোখে পড়ে না।




