স্বাস্থ্য

পুরুষদের হট ফ্ল্যাশের অভিজ্ঞতা দেওয়ার জ্যাকেট, যাতে তাঁরা আর বলতে না পারেন "শুধু তো গরম লাগা"

হাল শহরের এক সহায়তা আয়োজনে মেনোপজের মধ্য দিয়ে যাওয়া নারীদের সঙ্গীদের মেনোভেস্ট পরার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। আয়োজকদের কথা গরম নিয়ে নয়—বরং তার সঙ্গে আসা আতঙ্ক নিয়ে।

পুরুষদের হট ফ্ল্যাশের অভিজ্ঞতা দেওয়ার জ্যাকেট, যাতে তাঁরা আর বলতে না পারেন "শুধু তো গরম লাগা"

মেনোপজের মধ্য দিয়ে যাওয়া নারীদের সঙ্গীদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে উপসর্গগুলোর একটি সোজাসুজি অনুভব করতে—এমন একটি জ্যাকেট পরে, যা ওই অনুভূতিটি তৈরি করে।

আয়োজনটি

আগামী মাসে হাল শহরে মেনোপজ’আল সাপোর্ট নেটওয়ার্কের আয়োজনে স্বাস্থ্যবিষয়ক সংগঠন ওভার দ্য ব্লাডি মুন নিয়ে আসবে তাদের একটি মেনোভেস্ট, যা পরে হট ফ্ল্যাশের অভিজ্ঞতা নেওয়া যাবে।

প্রকল্পের সহ-ব্যবস্থাপক সারা ওয়াইকার্ট বলেন, "আমরা বিশেষভাবে চাই পুরুষেরা আসুন আর মেনোভেস্টের অভিজ্ঞতা নিন, যাতে তাঁরা বুঝতে পারেন নারীরা কী দিয়ে যান।"

আয়োজনটি হবে প্রিন্সেস কি শপিং সেন্টারে, ১৭ অক্টোবর, সকাল ১০টা ৩০ থেকে দুপুর ২টা ৩০ পর্যন্ত (বিএসটি)।

লিফলেট নয়, পরার জিনিস কেন

জ্যাকেটটির পেছনের যুক্তি ওয়াইকার্টের দ্বিতীয় কথাটিতেই আছে, আর এই অংশটিই যেকোনো দেশে সমান খাটে।

তিনি বলেন, "এটি শুধু একটা হট ফ্ল্যাশ নয়, হট ফ্ল্যাশ সঙ্গে যা নিয়ে আসে সেটিই। তাই এর সঙ্গে থাকতে পারে আতঙ্ক, থাকতে পারে উদ্বেগ। সব একসঙ্গে অনুভব করা।"

এই ফাঁকটিই কোনো লিফলেট ভরাতে পারে না। কথায় বর্ণনা করলে হট ফ্ল্যাশ শোনায় গরম লাগার মতো—একটু অসুবিধা। আর অনুভব করলে তা আসে আকস্মিক এক স্নায়বিক ঝাপটার মতো, দ্রুত হৃৎস্পন্দন আর এক ঢেউ আশঙ্কা নিয়ে; কোনো মিটিং বা আলাপের মধ্যে, দিনে কয়েকবার, কোনো আগাম খবর ছাড়া। যাঁরা একে উড়িয়ে দেন, তাঁরা সাধারণত নিষ্ঠুর নন; তাঁদের কাছে কেবল এমন একটি বর্ণনা পৌঁছেছে, যা শুনতে তুচ্ছ লাগে।

মেনোপজ মানে নারীর প্রজননকালের সমাপ্তি, যা প্রায়ই ঘটে ৫০ বছর বয়সের কাছাকাছি। এর আগের সময়টিকে বলে পেরিমেনোপজ, যখন অনেক নারী প্রথম টের পান তাঁদের ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে আসছে—আর বিভ্রান্তির বেশির ভাগই এখানেই, কারণ ঋতুস্রাব চলতে চলতেই উপসর্গ শুরু হয়ে যায়।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশের কোথাও এ ধরনের আয়োজনের সমতুল্য কিছু নেই, আর মূল ফাঁকটিও যুক্তরাজ্যের চেয়ে বড়। এখানে মেনোপজ নিয়ে আলোচনা প্রায় হয়ই না, চিকিৎসা হয় কম, আর প্রায়ই এটিকে অন্য কিছু বলে ধরে নেওয়া হয়—চল্লিশের শেষ দিকের যে নারীর ধড়ফড়, রাতে ঘাম, অনিদ্রা, গিঁটে ব্যথা ও মনখারাপ, তাঁর প্রায়ই পরীক্ষা হয় হৃদ্‌রোগ বা থাইরয়েডের জন্য, নয়তো গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দেওয়া হয়, কিংবা বলা হয় এটি স্নায়ুর ব্যাপার।

দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীতে মেনোপজের গড় বয়স পশ্চিমা জনগোষ্ঠীর চেয়ে কিছুটা আগে, অর্থাৎ ভুল ব্যাখ্যাটিও শুরু হয় আগেই। আর ঢাকার হাতে গোনা কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকের বাইরে হরমোন থেরাপি নিয়ে আলোচনা প্রায় নেই বলে বাংলাদেশের বেশির ভাগ নারী এই ধাপটি পার করেন কোনো চিকিৎসার প্রস্তাব ছাড়াই, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই।

তিনটি কথা স্পষ্ট করে বলা দরকার। এই উপসর্গগুলো শারীরবৃত্তীয়, মানসিক নয়—নারীটি কল্পনা করছেন না, আর ঝামেলাও করছেন না। এগুলো চিকিৎসাযোগ্য, আর জিজ্ঞেস করার সঠিক মানুষ একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ—হরমোন থেরাপি উপযুক্ত না হলে হরমোনহীন বিকল্প নিয়েও। আর ঘরে যেসব উপসর্গ সবচেয়ে বেশি উড়িয়ে দেওয়া হয়, বছরের পর বছরে সেগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে: ভেঙে যাওয়া ঘুম, আর তার পিছু নেওয়া মন-মেজাজের প্রভাব।

বাংলাদেশের যেকোনো পরিবারের জন্য মেনোভেস্টের সবচেয়ে সস্তা সংস্করণটির দাম শূন্য। সেটি হলো একজন স্বামী বা ছেলে, যিনি প্রথমবার বলার সময়েই তাঁকে বিশ্বাস করেন। মেনোপজের পর ভার তোলার ব্যায়াম নিয়ে আমাদের একই যুক্তি খাটে এখানেও—দেখুন সেই নানির গল্প, যিনি শুরু করেছিলেন ৬২ বছরে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।