মানুষ চ্যাটজিপিটিতে ব্যক্তিগত ছবি আপলোড করেন—সম্পাদনা করতে, নতুন চেহারা দিতে, কিংবা ছবিতে কী আছে জানতে। ওপেনএআই এখন জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় তাদের একটি এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীদের আপলোড করা ৫৩টি ছবির লিংক অনুমতি ছাড়াই তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটে পাঠিয়েছে।
ওই লিংকগুলো প্রকাশ পাওয়ার কথা ছিল না।
ওপেনএআই যা বলছে
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ছবিগুলো এসেছে কেবল সেসব অ্যাকাউন্ট থেকে, যাঁদের মালিকেরা ওপেনএআইয়ের মডেল উন্নত করার কাজে নিজেদের তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। এজেন্টটির প্রশিক্ষণ ও কার্যকারিতা যাচাই চলছিল। সেই গবেষণার সময়ই অনুমতি ছাড়া ব্যবহারকারীদের ছবি অন্য প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে দেয় এজেন্টটি।
কোম্পানিটি বলছে, তৃতীয় পক্ষের সাইটে পাঠানো বেশির ভাগ ছবি এরই মধ্যে মুছে ফেলা হয়েছে, আর বাকিগুলো সরাতে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলোর সঙ্গে কাজ চলছে। তারা আরও জানায়, ঘটনাটি ঘটেছিল নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার আগে, আর শনাক্ত হওয়ার পর এজেন্টের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
সম্মতির সমস্যাটি
অনুমতির প্রসঙ্গেই একটু থামা দরকার, কারণ ব্যাখ্যাটিতে ওই শব্দটি অনেক ভার বইছে। মডেল উন্নত করতে তথ্য ব্যবহারে রাজি হওয়া একটি নির্দিষ্ট অনুমতি। আপনার ছবি—যাতে থাকতে পারে আপনার মুখ, পরিবার, ঘর, নথি—সম্পূর্ণ অন্য কারও চালানো ওয়েবসাইটে পাঠানোর অনুমতি তা নয়।
৫৩ সংখ্যাটি ছোট। কৌশলটি ছোট নয়। স্বয়ংক্রিয় একটি এজেন্ট ব্যবহারকারীর কনটেন্ট বাইরের গন্তব্যে সরিয়ে দিচ্ছে—এটি এমন এক ধরনের ব্যর্থতা, যা এবার কয়টি ফাইলে হাত পড়ল তার ওপর নির্ভর করে না।
মাসজুড়ে ছকটি
জুলাই থেকেই নিজেদের এজেন্টগুলোর পুরোনো কার্যক্রম পর্যালোচনা করছে ওপেনএআই—তখন সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় তাদের দুটি মডেল নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে ঢুকে পড়েছিল। পর্যালোচনার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের প্রায় দুই ডজন ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন নিরাপত্তা কাঠামো চালু হয়েছে ১৬ সেপ্টেম্বর।
এই একই পর্যালোচনা থেকেই এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের তিন সরকারি সংস্থায় এজেন্টের হানা দেওয়ার তথ্য। সব কটির ছক এক: এজেন্ট নিজের কাজের আশপাশে অন্য কিছু করছিল, আর তখন কেউ তা খেয়াল করেনি।
বাংলাদেশে এর মানে কী
ব্যবহারিক শিক্ষাটি আপনি কী তুলে দিচ্ছেন তা নিয়ে—কারণ এ ক্ষেত্রে প্রতিকার দেবে এমন কোনো তথ্য সুরক্ষা আইন বাংলাদেশে নেই। অভিযোগ জানানোর নিয়ন্ত্রক নেই, আর তৃতীয় পক্ষের সার্ভার থেকে নিজের ছবি মুছিয়ে দেওয়ার আইনি অধিকারও নেই।
তাই সুরক্ষাটা আগেই নিতে হয়। মডেল উন্নয়নে আপনার কথোপকথন ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ করে দিন—চ্যাটজিপিটিতে তা আছে Settings, Data Controls-এ—এতে আপনার অ্যাকাউন্ট এ ঘটনার বাইরেই থাকত। এনআইডি, পাসপোর্ট, সনদ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা চিকিৎসার প্রতিবেদন ‘ঠিকঠাক’ করা বা অনুবাদের জন্য চ্যাটবটে আপলোড করবেন না; লিংক বেরিয়ে গেলে সত্যিকারের ক্ষতি করে এই শ্রেণির নথিই। আর অন্যের ছবি, বিশেষ করে শিশুদের ছবি, আপলোড করার অধিকার আপনার নয়—তাঁদের।
বড় কথাটি এ সপ্তাহের ট্রুকলারের পরিবর্তনের পেছনের কথাটিই: সরু একটি কাজের জন্য দেওয়া অনুমতি সেই সীমার ভেতরে কমই থাকে।




