২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রোববার ফোর্বস এশিয়া প্রকাশ করল তাদের "১০০ টু ওয়াচ" তালিকা, আর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সত্যিকারের সমস্যা সমাধান করছে বলে তারা যে একশ ছোট কোম্পানি ও স্টার্টআপকে ভাবে, তার একটি বাংলাদেশের: অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম শিখো, এডুকেশন অ্যান্ড রিক্রুটমেন্ট বিভাগে।
শিখো কী
শিখো গড়েন ২০১৯ সালে শাহীর চৌধুরী, এখন প্রধান নির্বাহী, ও জিশান জাকারিয়া, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা—বেশির ভাগ পরিবার যে কোচিং সেন্টারে টাকা দেয়, তার চেয়ে সস্তায় ও স্পষ্টভাবে জাতীয় পাঠ্যক্রম অনলাইনে পড়াতে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থী; বাংলায় অ্যানিমেটেড পাঠ, অনুশীলনী, লাইভ ক্লাস, আর সম্প্রতি ফ্রিল্যান্সিং ও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির কোর্স। "জটিল বিষয়কে আমরা অনলাইনে সহজ ভাষায় শেখাতে কাজ করছি," প্রথম আলোকে বলেন চৌধুরী। "এখন আমাদের প্রায় আট লাখ নিবন্ধিত ব্যবহারকারী, ৬৪ জেলা থেকেই। এই স্বীকৃতি আরও কাজের অনুপ্রেরণা দেবে।"
তালিকা যেভাবে হয়
কোম্পানি, ভেঞ্চার ফান্ড ও অ্যাক্সিলারেটরের পাঠানো ৬৫০ মনোনয়ন থেকে ফোর্বস এশিয়ার সম্পাদক ও বিচারক প্যানেল একশটি বাছাই করে। শর্ত: বেসরকারি মালিকানা, মুনাফাভিত্তিক, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সদর দপ্তর, বছরে ৫ কোটি ডলারের নিচে আয়, প্রমাণিত অগ্রগতি আর বড় হওয়ার বিশ্বাসযোগ্য পথ। সবচেয়ে বেশি সিঙ্গাপুরের ১৯টি, হংকংয়ের ১৬টি; বিভাগ ই-কমার্স ও ফিনটেক থেকে কৃষি, বায়োটেক, নির্মাণ।
এডটেক কেন, এখন কেন
মহামারিতে বাংলাদেশের স্কুল বন্ধ ছিল ১৮ মাস—প্রায় সব দেশের চেয়ে বেশি—আর এক প্রজন্মের মা-বাবা প্রথমবার অনলাইন পাঠ চেষ্টা করলেন। এক দশক আগে টেন মিনিট স্কুল দেখিয়েছিল বিনা মূল্যের বাংলা ভিডিও লাখো মানুষে পৌঁছায়; শিখোর বাজি, যে পরিবার কোচিংয়ে মাসে হাজার হাজার টাকা দেয়, তারা একটি গোছানো অ্যাপের জন্য তার ভগ্নাংশ দেবে। লার্ন ক্যাপিটাল ও অ্যাংকরলেস বাংলাদেশসহ বিনিয়োগকারীরা ২০২১ থেকে সেই বাজিতে ৫০ লাখ ডলারের বেশি ঢেলেছেন।
এর মানে
ফোর্বসের তালিকা পণ্য বদলায় না, কিন্তু কে প্রতিষ্ঠাতার ই-মেইলের উত্তর দেয়, তা বদলায়। যে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এক বছর ধরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ইভ্যালির ধস ব্যাখ্যা করছে, তার জন্য ৬৫০ প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে যোগ্যতায় বাছাই হওয়া একটি শিক্ষা কোম্পানি কাজের পাল্টা উদাহরণ—আর মনে করিয়ে দেয়, সবচেয়ে টেকসই বাংলাদেশি স্টার্টআপগুলো এমন কিছু বেচে, যা পরিবার এমনিতেই কেনে।
২০২২ সালের পর এডটেকের কী হলো
তালিকাটি এসেছিল বাজারের চূড়ায়, মাঝপথে নয়। স্কুল বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে অনলাইন শিক্ষা ফুলেফেঁপে উঠেছিল, আর বিনিয়োগকারীরা অর্থ ঢেলেছিলেন এই ধারণায় যে অভ্যাসটি কারণটির চেয়ে বেশি দিন টিকবে। মূলত টেকেনি: শ্রেণিকক্ষ খুলে যাওয়ার পর গোটা খাতেই অর্থ দিয়ে কোর্স শেষ করার হার কমে যায়; আর এরপর যে হিসাব মেলানোর ধাক্কা আসে, তাতে বাংলাদেশের যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বড় নামও পড়ে যায়—২০২২ সালে ২,২০০ কোটি ডলার মূল্যের ভারতীয় বাইজুস দুই বছরের মধ্যেই দেউলিয়া প্রক্রিয়ায় গড়ায়।
এমন তালিকা এই প্রেক্ষাপটেই পড়া দরকার। তালিকাভুক্ত হওয়া সময়টি সম্পর্কে ইঙ্গিত, প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে পূর্বাভাস নয়। যে এডটেক ব্যবসাগুলো টিকেছে, সেগুলো সাধারণত এমন কিছু বিক্রি করত যার জন্য পরিবারগুলো আগে থেকেই অর্থ দিত—পরীক্ষার প্রস্তুতি, টিউশন, ভর্তি কোচিং—নতুন কোনো অভ্যাস শূন্য থেকে তৈরি করার চেষ্টা নয়।




