প্রযুক্তি

রাত ৯টার নাটক এখন যখন খুশি তখন—স্মার্ট টিভি ও স্ট্রিমিং যেভাবে বাংলাদেশি বসার ঘর নতুন করে সাজাল, আর পরের সেটে যা দেখবেন

টেলিভিশন একসময় ছিল একটি সময়সূচি; এখন বড় পর্দার ফোন, যা এক হোম স্ক্রিন থেকে ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, টফি, চরকি ও হইচই চালায়, কণ্ঠের নির্দেশ নেয়, আর পেছনে টানে সাউন্ডবার ও ৪কে এইচডিআর ছবি। আসলে কী বদলাল, প্যানেলের চেয়ে অপারেটিং সিস্টেম কেন বেশি জরুরি, আর যে পাঁচটি জিনিস ঠিক করে ২০২৯ সালেও একটি স্মার্ট টিভি স্মার্ট থাকবে কি না।

রাত ৯টার নাটক এখন যখন খুশি তখন—স্মার্ট টিভি ও স্ট্রিমিং যেভাবে বাংলাদেশি বসার ঘর নতুন করে সাজাল, আর পরের সেটে যা দেখবেন

টেলিভিশনের জীবনের বেশির ভাগ সময় দেখা মানে ছিল নির্দিষ্ট সময়ে সেটের সামনে থাকা। রাত ৯টার নাটক ৯টাতেই; মিস করলে গেল। সেই ব্যবস্থা নীরবে শেষ হয়েছে, আর যে দুটি জিনিস তা শেষ করেছে—স্মার্ট টিভি ও স্ট্রিমিং সেবা—রঙিন সেট ত্রিশ বছরে যা করেছিল, বাংলাদেশি বসার ঘরকে পাঁচ বছরে তার চেয়ে বেশি বদলেছে।

আসলে যা বদলাল

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম পর্দার পেছনে সময়সূচির বদলে রাখল একটি ভান্ডার। সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, তথ্যচিত্র ও লাইভ কনসার্ট আসে চাহিদামতো, আর দর্শক বাছেন ঘড়ি নয়, মেজাজ ধরে। বাংলাদেশে সেই ভান্ডার বৈশ্বিক সেবা—ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম, এইচবিও ম্যাক্স, স্পটিফাই—আর বাংলা নাটক, ক্রিকেট ও সিনেমা বহন করা দেশীয় ওটিটি টফি, চরকি, বঙ্গ ও হইচইয়ের মিশ্রণ। পুরোনো নাটকটি এখনো আছে; এখন তা তিন বছর পর, রাত ২টায়, রিয়াদের একটি ফোনে পাওয়া যায়।

টিভি হয়ে গেল কম্পিউটার

তাল রাখতে সেটটিও বদলাল। আধুনিক স্মার্ট টিভি কাজ করে অনেকটা স্মার্টফোনের মতো: একটি অপারেটিং সিস্টেম, একটি অ্যাপ স্টোর, একটি হোম স্ক্রিন—‘স্মার্ট হাব’—যা প্রতিটি সেবা এক জায়গায় জড়ো করে। মিলিয়ে বেড়েছে প্রসেসর ও মেমোরি, তাই অ্যাপ দ্রুত খোলে আর ভিডিও চলে আটকানো ছাড়া। ২০২৩ সাল থেকে স্যামসাংয়ের টাইজেনভিত্তিক টিভি এখানে একটি মানদণ্ড গড়েছে—হাবটি দেখার অভ্যাস শিখে আপনি যা চাইতে পারেন তা সামনে আনে; সনি, টিসিএল, শাওমি ও দেশীয় ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রয়েড টিভি ও গুগল টিভি সেট গুগলের সুপারিশে একই কাজ করে। নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট প্ল্যাটফর্মকে হালনাগাদ রাখে আর নিরাপত্তা ছিদ্র সারায়—যা জরুরি, কারণ টিভিতে এখন আপনার অ্যাকাউন্ট থাকে।

কণ্ঠ, শব্দ ও ছবি

ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট—বিক্সবি, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যালেক্সা—রিমোটে কথা বলে খোঁজা, অ্যাপ খোলা ও স্মার্ট-হোম যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে দেয়। সাউন্ডবার ও হোম-থিয়েটার সাধারণ সংযোজন হয়ে উঠেছে, কারণ আধুনিক টিভিকে সুন্দর করা পাতলা প্যানেলে ভালো স্পিকারের জায়গা নেই। আর ছবি ফুল এইচডি থেকে গেছে ৪কে-তে, ফ্ল্যাগশিপ সেটে ৮কে, সঙ্গে হাই ডায়নামিক রেঞ্জ (এইচডিআর), যা রেজল্যুশনের চেয়ে সিনেমা দেখতে কেমন, তাতে বেশি করে।

কেনার আগে দেখার পাঁচটি জিনিস

  1. অপারেটিং সিস্টেম আর নির্মাতা কত দিন আপডেট দেয়—মৃত অ্যাপ স্টোরের পাঁচ বছরের প্যানেল স্রেফ একটি মনিটর।
  2. দেশীয় অ্যাপ: শুধু বৈশ্বিক নয়, টফি, চরকি ও হইচই স্টোরে আছে কি না নিশ্চিত করুন।
  3. বড় রেজল্যুশনের সংখ্যার চেয়ে এইচডিআর সমর্থন (অন্তত এইচডিআর১০, সম্ভব হলে ডলবি ভিশন)।
  4. যথেষ্ট এইচডিএমআই পোর্ট, সাউন্ডবারের জন্য একটি ইএআরসিসহ।
  5. ওয়াই-ফাই ৫ বা ভালো আর সম্ভব হলে ইথারনেট পোর্ট—৪কে স্ট্রিমে স্থির ২৫ এমবিপিএস লাগে, যা দূরের রাউটার দেবে না।

সেটটি আর মূল কথা নয়; পেছনের প্ল্যাটফর্মটি। স্মার্ট টিভি একটি সফটওয়্যার ইকোসিস্টেমের সাবস্ক্রিপশন, যার সঙ্গে একটি পর্দা জোড়া—আর তা সেভাবেই বাছা উচিত।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।