ইউনিভার্সিতাত আউতোনোমা দে বার্সেলোনার জেনেটিকস অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মিউটাজেনেসিস গ্রুপের গবেষণায় মাপা হয়েছে, ফোটানোর সময় বাণিজ্যিক টি ব্যাগ কাপে কী ছাড়ে। সংখ্যাগুলো বড়, তবে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সেটি নয়।
প্রতিটি উপকরণ যা ছেড়েছে
দলটি তিন ধরনের ব্যাগ-উপকরণ পরীক্ষা করে ফোটানো তরলের মিলিলিটারপ্রতি কণা গুনেছে:
- পলিপ্রোপিলিন — মিলিলিটারপ্রতি প্রায় ১২০ কোটি কণা, গড় আকার ১৩৬.৭ ন্যানোমিটার।
- সেলুলোজ — মিলিলিটারপ্রতি প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ কণা, গড় আকার ২৪৪ ন্যানোমিটার।
- নাইলন-৬ — মিলিলিটারপ্রতি প্রায় ৮১ লাখ ৮০ হাজার কণা, গড় আকার ১৩৮.৪ ন্যানোমিটার।
কণার হিসাব বের করা হয়েছে স্ক্যানিং ও ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপি, ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি, ডায়নামিক লাইট স্ক্যাটারিং, লেজার ডপলার ভেলোসিমেট্রি আর ন্যানোপার্টিকল ট্র্যাকিং অ্যানালাইসিস দিয়ে—পদ্ধতির এই বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একশ ন্যানোমিটার আকারের বস্তু গোনার জায়গাতেই এ ধরনের গবেষণা সাধারণত ভুল করে।
যে ফলটি আসলেই নতুন
নিঃসরণ মাপা নতুন কিছু নয়; কয়েকটি দল আগেও করেছে। এ গবেষণা যোগ করেছে পরের ধাপটি: কণাগুলোর সামনে মানুষের অন্ত্রকোষ রেখে কী ঘটে তা দেখা।
কোষগুলো সেগুলো শুষে নিয়েছে। শ্লেষ্মা তৈরি করা অন্ত্রকোষ নিয়েছে সবচেয়ে বেশি, আর দেখা গেছে কণা ঢুকে পড়েছে কোষকেন্দ্রে—কোষের ডিএনএ যেখানে থাকে।
জানানোর মতো ফল এটিই, আর "আপনার চায়ে কণা আছে" কথাটির চেয়ে এটি ভিন্ন দাবি। এটি কাপ থেকে কোষ পর্যন্ত একটি পথ প্রতিষ্ঠা করে—আগের প্রতিটি গবেষণাকে যে ধাপটি ধরে নিতে হয়েছিল।
যে অংশটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াটিকেই উল্টে দেয়
"টি ব্যাগে প্লাস্টিক" শুনলে স্বজ্ঞাত প্রতিক্রিয়া হলো প্লাস্টিকমুক্ত ধরনটি কেনা। উপাত্ত সেটিকে জটিল করে তোলে।
প্লাস্টিকমুক্ত বা পচনশীল বলে বিপণন হওয়া ব্যাগে ব্যবহৃত উদ্ভিজ্জ উপকরণটিই সেলুলোজ। এটি ছেড়েছে মিলিলিটারপ্রতি ১৩ কোটি ৫০ লাখ কণা—নাইলন-৬-এর ষোলো গুণ, আর তিনটির মধ্যে কণার গড় আকারও সবচেয়ে বড়।
অর্থাৎ বাছাইটি কণা ছাড়া আর না-ছাড়া ব্যাগের মধ্যে নয়। তিনটি উপকরণই ছাড়ে; পার্থক্য কতটা আর কোন আকারে। মোড়ক দেখে যাঁরা কাগজ বা কর্নস্টার্চের ব্যাগে যাচ্ছেন এই ভেবে যে সমস্যাটি মিটল, তাঁদের উন্নতি মোড়কের ইঙ্গিতের চেয়ে কম।
যা এটি প্রতিষ্ঠা করে না
তিনটি সীমা, আর সেগুলো শিরোনামের সংখ্যাগুলোর পাশেই থাকা উচিত।
কোষ-কালচার মানুষ নয়। পাত্রে রাখা অন্ত্রকোষে সরাসরি কণার দ্রবণ ঢাললে তা শোষণের যুক্তিসংগত নকল, কিন্তু পরিপাকতন্ত্রের দুর্বল নকল—যেখানে শ্লেষ্মার স্তর, চলার সময় আর রোগ প্রতিরোধী সাড়া আছে, কালচারে যা নেই।
শোষণ মানেই ক্ষতি নয়। গবেষণাটি দেখায় কণা কোষে ঢুকছে আর কোষকেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে। সেখানে সেগুলো কী করে, তা দেখায় না। সৎ অবস্থান হলো—ক্ষতির একটি সম্ভাব্য পথ দেখানো হয়েছে, ক্ষতিটি নয়।
"মিলিলিটারপ্রতি কোটি কোটি" কথাটির মাপ দরকার। সংখ্যাটি চমকে দেয় কারণ ন্যানোকণা ছোট—১৩৭ ন্যানোমিটারের ১০০ কোটি কণার মোট ভর খুবই সামান্য। এতে এটি নিরীহ হয়ে যায় না; বরং এর মানে, কেবল সংখ্যা দিয়ে নিরীহ কি না তা বলা যায় না।
প্রমাণ থেকে যে একটিমাত্র বদল আসে
বিষতত্ত্বের ফলের অপেক্ষা না করেই সংস্পর্শ কমাতে চাইলে উত্তর অন্য কোনো ব্যাগ নয়। উত্তর হলো খোলা চা-পাতা আর একটি ইনফিউজার, যা হিসাব থেকে ব্যাগটিকেই সরিয়ে দেয় আর খরচও সামান্য।
এর বাইরে যুক্তিসংগত অবস্থান গবেষকেরা নিজেরা যা নিয়েছেন সেটিই: খাদ্যসংলগ্ন উপকরণ প্রকাশ বাধ্যতামূলক করতে নিয়ন্ত্রকদের জন্য আর যথাযথ সংস্পর্শ-গবেষণা চালাতে এ ক্ষেত্রের জন্য এটি একটি কারণ—চা খাওয়া বন্ধ করার কারণ নয়।
সূত্র: ইউনিভার্সিতাত আউতোনোমা দে বার্সেলোনার গবেষণা ও ইউরেকঅ্যালার্ট বিজ্ঞপ্তি; ফুড সেফটি ম্যাগাজিন; আর্থ ডটকম; ফরচুন ওয়েল; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।




