প্রযুক্তি

বিশ্বে তৃতীয়: ইউআইইউর মার্স রোভার দল যেভাবে গড়ল বাংলাদেশের সেরা রোবোটিকস রেকর্ড

মার্স সোসাইটির ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এ ৪০০.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রোভার দল, সঙ্গে সেরা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার স্বীকৃতি। ব্র্যাক (৭ম) ও মিস্টও (১১তম) জায়গা পেয়েছে। যে ধারাবাহিক ফল হঠাৎ আসেনি, তার ভেতরের গল্প।

বিশ্বে তৃতীয়: ইউআইইউর মার্স রোভার দল যেভাবে গড়ল বাংলাদেশের সেরা রোবোটিকস রেকর্ড

ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জ আয়োজন করে মার্স সোসাইটি, যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ মরুভূমিতে, মঙ্গলের মতো দেখতে বেছে নেওয়া ভূখণ্ডে—শিক্ষার্থীদের রোবোটিকসে বিশ্বকাপের সবচেয়ে কাছাকাছি যা আছে। এ বছরের মঞ্চে ছিল একটি বাংলাদেশি দল। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইউআইইউ মার্স রোভার ৪০০ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে হয়েছে সামগ্রিকভাবে তৃতীয়, আর রোভারের নেভিগেশন, পরিবেশ বিশ্লেষণ ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পেয়েছে বেস্ট অটোনোমাস সিস্টেম স্বীকৃতি। রোববার বিশ্ববিদ্যালয় দলটিকে লালগালিচায় বরণ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

একবারের ঘটনা নয়

ফলটি দাঁড়িয়ে আছে এমন একটি ধারাবাহিকতার ওপর, যার সঙ্গে পৃথিবীর খুব কম বিশ্ববিদ্যালয় দল পাল্লা দিতে পারে। ২০২৫ সালে দলের রোভার ‘অ্যাক্সিওস’ বিশ্বে ষষ্ঠ হয়েছিল, টানা চতুর্থ বছর এশিয়ার সেরা দল হয়েছিল, আর বিজ্ঞান মিশনে শতভাগ নম্বর পেয়ে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম এশীয় দল হিসেবে জিতেছিল ‘সেরা বিজ্ঞানী দল’ পুরস্কার। এ বছরের তৃতীয় স্থান চমক নয়, স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ।

ইউআইইউ একা নয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাকু মঙ্গোল-তোরি সপ্তম আর মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মিস্ট মঙ্গোল বারোতা একাদশ—অর্থাৎ এমন একটি প্রতিযোগিতার সেরা এক ডজনে বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে নিয়মিত থাকে এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড, ওয়ারশ ও বেঙ্গালুরুর দল। বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্য দলগুলোরও রেকর্ড আছে: ২০২৫ সালে প্রথম অংশগ্রহণেই ইউআইইউ মেরিনার বিশ্বে পঞ্চম, ইউআইইউ ক্যানস্যাট একাদশ।

স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার পুরস্কার আসলে কিসের

রিমোটে রোভার চালানো কঠিন; তাকে নিজে চালাতে দেওয়াই আসল পরীক্ষা। স্বয়ংক্রিয় মিশনে রোভারকে নিজে থেকে জিপিএস ওয়েপয়েন্ট ও দৃশ্যমান চিহ্ন খুঁজে পৌঁছাতে হয়, বাধা এড়িয়ে, জয়স্টিকে কোনো মানুষ ছাড়া। মরুভূমির ঝলকানি ও ধুলায়, স্পনসর আর বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে গড়া বাজেটে তা নির্ভরযোগ্যভাবে করা একটি সিস্টেম-প্রকৌশলের অর্জন—যান্ত্রিক, বৈদ্যুতিক, সফটওয়্যার ও সেন্সিং একসঙ্গে কাজ করা—বিচারকেরা একে আলাদা করে তুলে ধরেন সে কারণেই।

শীর্ষ টেবিলের বার্তা

ইউআইইউর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রকৌশলী মো. আব্দুল মোকাদ্দেম জয় ঘোষণায় সতর্ক ছিলেন: তৃতীয় হওয়াই শেষ নয়, লক্ষ্য প্রথম হওয়া, আর কাজগুলো দেশের ও মানুষের উপকারে লাগাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ইমেরিটাস অধ্যাপক এম রিজওয়ান খান ফলগুলোকে জুড়েছেন প্রতিষ্ঠানের ‘কোয়েস্ট ফর এক্সেলেন্স’ স্লোগান আর বৃহত্তর রেকর্ডের সঙ্গে।

ট্রফির বাইরে কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশ বছরে হাজারো প্রকৌশল স্নাতক তৈরি করে, আর তাদের খুব কমজনকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সামনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাস্তব কিছু বানানোর জায়গা দেয়। রোভার দলগুলো ঠিক সেটিই করে, আর তাদের প্রাক্তনেরা যান রোবোটিকস, এমবেডেড সিস্টেম ও স্বয়ংক্রিয় যানের কাজে—বিদেশে, আর ক্রমশ দেশেও। সেরা এগারোয় তিন দল এই সংকেত যে পাইপলাইন আছে; উপাচার্যের তোলা কঠিন প্রশ্ন—একে বাংলাদেশে পণ্য আর কোম্পানিতে বদলানো যায় কীভাবে—এখনো খোলা।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।