ঢাকার বাসে হোয়াটসঅ্যাপ কল ধরেছেন এমন যে কেউ আচারটি চেনেন: ‘হ্যালো? হ্যালো? আবার বলেন?’—আর মাইক্রোফোনের দখল নিয়ে লড়ে হর্ন, কন্ডাক্টর আর আরও চল্লিশটি কথোপকথন। হোয়াটসঅ্যাপ তাদের অডিও ও ভিডিও কলে যোগ করছে নয়েজ ক্যান্সেলেশন, আর বর্ণনামতো কাজ করলে, যাঁরা নিরিবিলি অফিস থেকে কল করেন না, তাঁদের জন্য এটি বহু বছরে অ্যাপটির সবচেয়ে কাজের সুবিধাগুলোর একটি।
যা জানা গেছে
ডব্লিউএবেটাইনফো জানাচ্ছে, অপশনটি ইতিমধ্যে অ্যান্ড্রয়েড বেটা ২.২৬.১৪.১ সংস্করণের ব্যবহারকারীদের কলিং মেনুতে এসেছে। অডিও বা ভিডিও কল শুরু করলেই এটি আপনাআপনি চালু হয়, চাইলে বন্ধ করা যায়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ সবার জন্য চালুর ঘোষণা দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিস্তারিত প্রথম জানায় গ্যাজেটস ৩৬০।
কীভাবে কাজ করে—আর ফাঁদটি
প্রক্রিয়াকরণটি চলে আপনার ফোনে, আপনার পাঠানো অডিওর ওপর। কথার শব্দে প্রশিক্ষিত সফটওয়্যার মডেল কণ্ঠের ব্যান্ড আলাদা করে বাকি সব—ইঞ্জিনের গোঙানি, বাতাস, হট্টগোল, সিলিং ফ্যান—চেপে দেয় অডিও পাঠানোর আগে। ফল: অন্য প্রান্তের মানুষটি আপনাকে আরও পরিষ্কার শোনেন। সীমাবদ্ধতাও এটিই: আপনি যা শোনেন, তাতে এর কিছুই হয় না। যিনি কল করেছেন তিনি বাজারে দাঁড়িয়ে থাকলে আর সুবিধাটি চালু না করলে (বা এমন সংস্করণে থাকলে যেখানে এটি নেই), তাঁর কোলাহল আপনার কাছে আসতেই থাকবে। দুই দিক থেকে উন্নতির জন্য দুই পক্ষেরই চালু থাকা চাই—ডিফল্টে চালু রাখার সিদ্ধান্ত সে কারণেই গুরুত্বপূর্ণ।
দেরি কেন, আর এখানে কেন গুরুত্বপূর্ণ
গুগল মিট, জুম ও মাইক্রোসফট টিমস মহামারির সময় থেকেই নয়েজ সাপ্রেশন দেয়, ফোন নির্মাতারা ডায়ালারে বেঁধে দেয়। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ কলই বাংলাদেশিদের বড় অংশের বিদেশে পরিবার আর দেশে গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলার পথ—প্রায়ই ঠিক সেই পরিবেশ থেকে, যার জন্য এটি বানানো। নির্মাণস্থল থেকে ফোন করা প্রবাসী শ্রমিক, বা মূল সড়কের দোকান থেকে অর্ডার নেওয়া ছোট ব্যবসায়ীর জন্য সুবিধাটি ঠিক করে দেয়, কলটি আদৌ ব্যবহারযোগ্য কি না।
যা আশা করবেন
- কলের সময় ব্যাটারি একটু বেশি খরচ, কারণ ছাঁকনিটি ডিভাইসেই চলে।
- গান বা সুর অন্য পক্ষের কাছে চাপা শোনাতে পারে—মডেল সেগুলোকে শব্দদূষণ ভাবে। ওই কলগুলোতে সুইচ বন্ধ রাখুন।
- পুরোনো বা কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সুবিধাটি পরে, বা হালকা প্রক্রিয়াকরণে আসতে পারে—হার্ডওয়্যার যতটা সামলাতে পারে।




