প্রযুক্তি

আঙুল ফোটালে শব্দ হয় কেন—যে এমআরআই বিষয়টি মিটিয়েছে, আর যে মানুষ ক্ষতি হয় না প্রমাণ করতে ৫০ বছর এক হাত ফুটিয়েছেন

২০১৫ সালের রিয়েল-টাইম এমআরআই গবেষণা দেখায়, শব্দটি হয় সন্ধির তরলে গ্যাসের গহ্বর তৈরি হওয়ার সময়, ফাটার সময় নয়। কোনো গবেষণা নিয়মিত ফোটানো মানুষের আঙুল মোটা, তরুণাস্থি পাতলা বা আর্থ্রাইটিস পায়নি—সেই চিকিৎসকসহ, যিনি পাঁচ দশক শুধু বাঁ হাত ফুটিয়ে আইজি নোবেল জিতেছেন। সন্ধিতে কী ঘটে, আর দ্বিতীয়বার সঙ্গে সঙ্গে কেন পারেন না।

আঙুল ফোটালে শব্দ হয় কেন—যে এমআরআই বিষয়টি মিটিয়েছে, আর যে মানুষ ক্ষতি হয় না প্রমাণ করতে ৫০ বছর এক হাত ফুটিয়েছেন

যাঁরা আঙুল ফোটান, সবাই একই তিনটি কথা শুনেছেন: আঙুল মোটা হবে, সন্ধিতে ব্যথা হবে, আর্থ্রাইটিস আসছে। সতর্কবাণীগুলো দশকের পুরোনো। এর উত্তর দেওয়া বিজ্ঞানও তা-ই, আর তা সতর্কবাণীর চেয়ে আকর্ষণীয়।

শব্দটি হয় কীসে

আঙুলের সন্ধি ডুবে থাকে সিনোভিয়াল তরলে—এক পিচ্ছিল তরল, যা হাড়কে মসৃণভাবে চলতে দেয়। সন্ধি জোরে টানলে বা বাঁকালে হাড়ের দুই তল সামান্য আলাদা হয় আর মাঝের আয়তন বাড়ে তরল বয়ে এসে ভরার চেয়ে দ্রুত। চাপ কমে, দ্রবীভূত গ্যাস বেরিয়ে আসে, আর মুহূর্তে একটি গহ্বর—একটি বুদ্‌বুদ—তৈরি হয়। সেটাই ফট শব্দ। প্রক্রিয়াটির নাম ট্রাইবোনিউক্লিয়েশন, আর ২০১৫ সালে তা ঘটতে দেখা হয়েছিল, যখন গবেষকেরা এক স্বেচ্ছাসেবকের আঙুল রিয়েল-টাইমে চলা এমআরআই স্ক্যানারে ঢুকিয়ে টানেন। কাজটির নেতৃত্ব দেওয়া আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রেগ কাউচুক একে তুলনা করেন শূন্যস্থান তৈরির সঙ্গে। দশকের পর দশক ধরে নেওয়া হয়েছিল শব্দটি আসে বুদ্‌বুদ ফাটায়; এমআরআই দেখাল বুদ্‌বুদটি তৈরি হচ্ছে ঠিক ফোটার মুহূর্তে, আর পরেও রয়ে যাচ্ছে।

অপেক্ষা কেন করতে হয়

বুদ্‌বুদটি একবারে মিলিয়ে যায় না। তরলে আবার দ্রবীভূত হতে প্রায় বিশ মিনিট লাগে, আর তত দিন সন্ধি নতুন একটি তৈরি করতে পারে না—তাই একবার ফোটানো আঙুল যত জোরেই চেষ্টা করুন, সঙ্গে সঙ্গে আবার ফোটে না। এটি ক্ষতি সেরে ওঠা নয়। এটি গ্যাসের আবার দ্রবীভূত হওয়া।

৫০ বছরের পরীক্ষা

আর্থ্রাইটিসের ভয় পরীক্ষা হয়েছে সম্ভাব্য সবচেয়ে আক্ষরিক উপায়ে। আমেরিকান চিকিৎসক ডোনাল্ড উঙ্গার পঞ্চাশ বছর দিনে অন্তত দুবার বাঁ হাতের আঙুল ফুটিয়েছেন, ডান হাত কখনো নয়, তারপর দুটো মিলিয়ে দেখেছেন। ২০০৪ সালে তিনি ফল জানান: কোনো হাতেই আর্থ্রাইটিস নেই, দুয়ের মধ্যে পার্থক্য নেই। এ জন্য ২০০৯ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে আইজি নোবেল—‘মানুষকে আগে হাসায়, তারপর ভাবায়’ এমন গবেষণার প্যারোডি নোবেল—তাঁর। বড় গবেষণাগুলোও একমত: নিয়মিত ফোটানো ও না-ফোটানো মানুষের মুঠোর শক্তি, তরুণাস্থির পুরুত্ব বা সন্ধির রোগে অর্থবহ পার্থক্য নেই।

তাহলে ঠিক আছে?

সন্ধির জন্য, হ্যাঁ। ফোটানো আঙুল চওড়া করে না, তরুণাস্থি পাতলা করে না, আর্থ্রাইটিস ঘটায় না, আর শব্দটি ক্ষতির সংকেত নয়। একমাত্র সৎ সতর্কতা: ফোটানোর পর ব্যথা, ফোলা বা নড়াচড়া কমে যাওয়া স্বাভাবিক নয়, ডাক্তার দেখানো প্রাপ্য। এর বাইরে অভ্যাসটির একমাত্র সত্যিকারের খরচ পাশে বসা মানুষের ওপর এর প্রভাব।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।