ফেসবুকের ফিড যদি ধূসর, হলুদ আর সবুজ ছোট ছোট বর্গের গ্রিডে ভরে যায়, তবে আপনি ওয়ার্ডলের দেখা পেয়েছেন। বিনা মূল্যের ওয়েবসাইটটি প্রতিদিন পাঁচ অক্ষরের একটি ইংরেজি শব্দ ধরায়। সুযোগ ছয়বার। প্রতিবার অনুমানের পর টাইলের রং বদলায়: ধূসর মানে অক্ষরটি শব্দে নেই, হলুদ মানে আছে কিন্তু ভুল জায়গায়, সবুজ মানে সঠিক অক্ষর সঠিক জায়গায়। মিলে গেলে গ্রিডটি শেয়ার করা যায়, শব্দটি নয়—কারণ সারা বিশ্ব একই ধাঁধা খেলছে।
যে ভালোবাসার গল্প হাতছাড়া হয়ে গেল
ব্রুকলিনের সফটওয়্যার প্রকৌশলী জশ ওয়ার্ডল খেলাটি বানান সঙ্গী পলক শাহর জন্য, যিনি নিউইয়র্ক টাইমসের ক্রসওয়ার্ড আর স্পেলিং বি ভালোবাসেন। ২০১৩ সালে একবার চেষ্টা করে তিনি ফেলে রেখেছিলেন; মহামারির সময় শেষ করেন, দুজনে নিজেরা খেলেন, তারপর পারিবারিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছাড়েন। ২০২১ সালের ১ নভেম্বর খেলোয়াড় ছিল ৯০ জন। জানুয়ারির শুরুতে তিন লাখ; মাসের শেষে দিনে প্রায় ২০ লাখ। যে ইমোজি-গ্রিড শেয়ার করার সুবিধা এটিকে ভাইরাল করল, সেটি নিউজিল্যান্ডের এক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে নেওয়া—তিনি টুইটারে রঙিন বর্গ টাইপ করে ফল জানিয়েছিলেন।
কেন কাজ করে
- অ্যাপ নেই, অ্যাকাউন্ট নেই, তথ্য নেই। যেকোনো ব্রাউজারে চলে। কিছু ইনস্টল বা সাইন আপ করতে হয় না।
- দিনে একটিই ধাঁধা। পরের লেভেল নেই, নোটিফিকেশন নেই, স্ট্রিকের তাগাদা নেই। তিন মিনিট নিয়ে ছেড়ে দেয়।
- পয়েন্ট নেই, বিজ্ঞাপন নেই। দুজনের জন্য বানানো খেলায় ওয়ার্ডল অন্য গেমের "গ্রোথ হ্যাক" যোগ করেননি।
- ছোট, ভাগ করা জয়। সবাই একই শব্দ মেলায়, তাই গ্রিডটি স্কোরবোর্ড নয়, আলাপ।
শুরুর যে শব্দে সুবিধা
খেলার অভিধানে পাঁচ অক্ষরের প্রায় ১২ হাজার শব্দ থাকলেও দৈনিক উত্তর আসে প্রচলিত শব্দের ছোট তালিকা থেকে। AUDIO, ADIEU বা QUERY-র মতো স্বরবর্ণভরা শব্দে দ্রুত স্বরবর্ণ ধরা পড়ে; এরপর T, N, S, R, H, L—সবচেয়ে প্রচলিত ব্যঞ্জনবর্ণগুলো। কেউ কেউ ১৫টি ভিন্ন অক্ষরের তিনটি নির্দিষ্ট শব্দ দিয়ে শুরু করেন। ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে রাত জাগা ফ্রিল্যান্সার—অনেকে রাত ১২টা ১ মিনিটে নতুন শব্দের অপেক্ষায় থাকেন; কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলা সংস্করণও এসেছে। সংকেতসহ বাংলায় একই ধারণা চাইলে প্রথম আলোর দৈনিক "শব্দভেদ" তো আছেই।
হালনাগাদ: ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক টাইমস ওয়ার্ডল কিনে নেয়, দাম "সাত অঙ্কের নিচের দিকে"। nytimes.com-এ খেলাটি এখনো বিনা মূল্যে।




