ডেটা প্যাকের মেয়াদ শেষ হচ্ছে জানিয়ে অপারেটরের যে এসএমএস আসে, তা শিগগিরই আসবে বাংলায়। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রোববার, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আগের দিন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন অপারেটরের সব এসএমএস ও নোটিফিকেশন বাংলায় পাঠানোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে; ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার চার অপারেটরকে জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
অপারেটরগুলো কোথায় দাঁড়িয়ে
বিটিআরসি মিলনায়তনে মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ হিসাব তুলে ধরেন: বাংলালিংক ৯৫ শতাংশ বার্তা বাংলায় রূপান্তর করেছে, গ্রামীণফোন ৯২, টেলিটক ৮৯, রবি ৮৫। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিজের সময়সূচিতে ছিল ৩০ জুনের মধ্যে ৯১ শতাংশ, ডিসেম্বরে শতভাগ; মন্ত্রী সেটি নাকচ করে সবকিছুর জন্য জুনই বেঁধে দেন। তাঁর কথায়, "পেছনের কাজগুলো চ্যালেঞ্জিং হলেও করা হয়েছে। এমন কোনো ডিভাইস নেই, যেখানে বাংলা লেখা যাবে না।"
যা ইংরেজিতেই থাকবে
নির্দেশটি নিরঙ্কুশ নয়। বিটিআরসি ব্যতিক্রমের তালিকা দিয়েছে: তারিখ, সংখ্যা ও মুদ্রার অঙ্ক; বিটিএস টাওয়ারের অবস্থান কোড; ব্র্যান্ড ও ফ্ল্যাগশিপের নাম; ভ্যালু অ্যাডেড সেবায় গ্রাহকের দ্বিতীয় সম্মতি "YES/Y" আর সেবা চালু-বন্ধের কি-ওয়ার্ড; ফেসবুক, গুগলের মতো আন্তর্জাতিক সেবার ওটিপি; আর বিটুবি ও ভেন্ডর প্ল্যাটফর্মের বার্তা। অর্থাৎ বিপণন ও সেবার বার্তা বাংলায় যাবে, আর যা যন্ত্রকে পড়তে হয়, তা থাকবে ল্যাটিন হরফে।
খরচের যে প্রশ্ন কেউ তোলেনি
বাংলা এসএমএসে ইউনিকোড (ইউসিএস-২) এনকোডিং লাগে, তাতে এক বার্তায় ধরে ৭০ অক্ষর, ইংরেজিতে যেখানে ১৬০। সে কারণেই আপনার পাঠানো বাংলা এসএমএস প্রায়ই দুই-তিনটি বার্তা হিসেবে বিল হয়। অপারেটরের কাছ থেকে যা পাবেন তাতে এর প্রভাব নেই, তবে নিজের ফোনের কি-বোর্ড সব কাজে বাংলায় বদলানোর আগে জেনে রাখা ভালো।
যা দেখে নেবেন
- অপারেটরের বার্তা যদি বাক্স বা প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে আসে, ফোনের ফন্ট পুরোনো; গত আট বছরের যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড আর প্রতিটি আইফোনে বাংলা এমনিতেই দেখায়।
- বাংলা বার্তাও আসবে আগের শর্ট কোড থেকেই (যেমন গ্রামীণফোনের ১২১); তাই অপারেটর সেজে পাঠানো প্রতারণার বার্তা চেনা সহজ হচ্ছে না—ভাষা প্রেরকের প্রমাণ নয়।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. খলিলুর রহমান শুধু এসএমএস নয়, সব ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলার প্রয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ছিলেন গ্রামীণফোনের ইয়াসির আজমান, রবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান রিয়াজ রশিদ ও বাংলালিংকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান তৈমুর রহমান।




