প্রযুক্তি

বাংলা হাতের লেখা পড়তে পারে যে সফটওয়্যার, তা দিয়ে "বাংলার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা" জিতল অভিযাত্রিক

১৬১টি প্রকল্প, মুহম্মদ জাফর ইকবালের নেতৃত্বে বিচারক প্যানেল আর ১ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার: বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের প্রথম "বাংলার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা" প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হলো হাতের লেখার ওসিআর, এনএলপি টুলকিট ও দুটি ডেটাসেট।

বাংলা হাতের লেখা পড়তে পারে যে সফটওয়্যার, তা দিয়ে "বাংলার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা" জিতল অভিযাত্রিক

হাতে লেখা বাংলাকে টাইপ করা লেখায় বদলে দেয় যে প্রোগ্রাম, সেটি ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার প্রথম "বাংলার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা" প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হলো। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পরদিন আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারের বিসিসি মিলনায়তনে অভিযাত্রিক দল পেল ১ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার—এমন এক কাজের জন্য, যা দেশের প্রতিটি ব্যাংক, স্কুল আর ভূমি অফিসে এখনো কেরানিরা হাতে করেন।

বিজয়ীরা

  • প্রথম, ১ লাখ টাকা: অভিযাত্রিক—বাংলা হাতের লেখা থেকে ছাপার অক্ষর (হাতের লেখার ওসিআর)।
  • দ্বিতীয়, ৫০ হাজার টাকা: সাস্ট ড্রিমারস—"এনএলপি বাংলা টুলকিট", বাংলা টেক্সট প্রক্রিয়াকরণের উপাদানের লাইব্রেরি।
  • যৌথ তৃতীয়, ২৫ হাজার টাকা করে: বুয়েট অনুমিতি, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ ইনফারেন্স ডেটাসেটের জন্য; আর ইন্টেলিজেন্ট মেশিনস লিমিটেড, রসিদে লেখা বাংলা হাতের লেখা পড়ার জন্য।

প্রতিযোগিতায় তরুণ গবেষক ও নির্মাতাদের ১৬১টি প্রকল্প জমা পড়ে। লেখক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবালের নেতৃত্বে বিচারক প্যানেল সেরা দশ বাছাই করে; তালিকায় আরও ছিল এক্সএমএল ইন্ডিক (ভারতীয় ভাষার মডেলিং), বিয়ন্ড দ্য হিলস (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষার অনুবাদ টুল), একুশ (বাংলা হাতের লেখার ডেটাসেট), ড্যাব (লেখক শনাক্তকরণ), রক্তিম (নেমড এনটিটি ডেটাসেট) ও ইনোভেশন গ্যারেজ (দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ডক-রিডার)। দশটি দলই সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছে।

আসল পুরস্কার ডেটাসেট কেন

পুরস্কৃত সাতটি প্রকল্পের তিনটি পণ্য নয়, ডেটাসেট ও টুলকিট। এটি সান্ত্বনা পুরস্কার নয়। ইংরেজির আছে কয়েক দশকের লেবেল করা লেখা ও কণ্ঠস্বর, যা দিয়ে মডেল শেখানো যায়; বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম ভাষা বাংলার তুলনায় তা সামান্য—উন্মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন তো আরও কম। একুশের মতো হাতের লেখার ডেটাসেট বা বুয়েটের ইনফারেন্স ডেটাসেটই পরের একশ দলকে শূন্য থেকে শুরু না করে কিছু বানানোর সুযোগ দেয়। সে কারণেই আয়োজক বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের "গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ" প্রকল্প, যার কাজই এই ভিত্তি গড়া।

যা বলা হলো

"বাংলা ভাষা নিয়ে সারা বিশ্বে আজ গবেষণা হচ্ছে," বিজয়ীদের বলেন জাফর ইকবাল। "তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা ব্যবহার করে সারা বিশ্বের কাছে যারা তুলে ধরছে, তারাই আজকের বাংলা ভাষার যোদ্ধা।" আইসিটি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম জানান, প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতা হবে। বিসিসির গবেষণা পরিচালক এহছানুল পারভেজ ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাবিল মুহাম্মদও বক্তব্য দেন।

হাতে লেখা প্রেসক্রিপশন, দলিল বা স্কুলের রেজিস্টার যাঁরা অক্ষর ধরে ধরে টাইপ করেছেন, তাঁদের জন্য বিজয়ী প্রকল্পটি প্রথম ইঙ্গিত—কাজটা শিগগিরই যন্ত্র করে দিতে পারে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।