প্রযুক্তি

আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ফাইনাল ভাঙল গুগলের ২৫ বছরের ট্রাফিকের রেকর্ড, টুইটারের টুইটের হার আর টফির দর্শকসংখ্যা

"মনে হচ্ছিল সারা বিশ্ব একটি বিষয়েই খুঁজছে," বললেন সুন্দর পিচাই। এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলের পর সেকেন্ডে ২৪,৪০০ টুইট, আর একটি স্ট্রিমিং অ্যাপে ১ কোটি ৫৫ লাখ বাংলাদেশি দর্শক।

আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ফাইনাল ভাঙল গুগলের ২৫ বছরের ট্রাফিকের রেকর্ড, টুইটারের টুইটের হার আর টফির দর্শকসংখ্যা

২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর রোববার লুসাইলে ৩-৩ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে ৪-২ গোলে হারাল আর্জেন্টিনা—অনেকের মতে সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ ফাইনাল—আর ইন্টারনেটের নলঘাটও একমত হলো। "ফাইনালের সময় সার্চে ২৫ বছরের সর্বোচ্চ ট্রাফিক রেকর্ড হয়েছে," পরে টুইট করলেন গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই। "মনে হচ্ছিল সারা বিশ্ব একটি বিষয়েই খুঁজছে।" নিজের রায়ও যোগ করলেন: সর্বকালের সেরা খেলাগুলোর একটি, দুই দলই দুর্দান্ত, আর "মেসির চেয়ে যোগ্য কেউ নেই"।

সংখ্যাগুলো

  • গুগল: কোম্পানির ২৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সার্চ ট্রাফিক—যে মুহূর্তে বিশ্ব একসঙ্গে স্কোর, রেকর্ড আর টাইব্রেকারের নিয়ম জানতে চাইল।
  • টুইটার: কিলিয়ান এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলের পর সেকেন্ডে প্রায় ২৪,৪০০ টুইট—টুর্নামেন্টের চূড়া, মালিক ইলন মাস্কের হিসাবে; বিশ্বকাপের আগে তিনি জানিয়েছিলেন সেকেন্ডে প্রায় ২০ হাজার, আর ফাইনাল দেখছিলেন স্টেডিয়াম থেকে।
  • টফি: বাংলালিংকের স্ট্রিমিং অ্যাপে ফাইনালের দর্শক ১ কোটি ৫৫ লাখ—বাংলাদেশের স্ট্রিমিং ইতিহাসে একক ইভেন্টে সবচেয়ে বড়; একই অ্যাপে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার প্রথম হার দেখেছিলেন ১ কোটি।

টফির সংখ্যাটি যা বলে

টুর্নামেন্টে দল নেই যে দেশের, সেই বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে আর্জেন্টিনা-পাগল জায়গাগুলোর একটি, আর এ বছর সে দেখল ফোনে। বিনা মূল্যের ডিজিটাল স্বত্ব ছিল টফির, আর ফাইনালে তার ১ কোটি ৫৫ লাখ ঢাকার জনসংখ্যার চেয়ে বেশি; দাঁড়ায় দেশের প্রতি এগারো জনে একজন একটি অ্যাপে। টেলিভিশনের দর্শক এখনো বেশি, কিন্তু মোবাইলের সংখ্যাটিই সম্প্রচারক ও বিজ্ঞাপনদাতারা মনে রাখবেন—কারণ তা যন্ত্র ধরে মাপা। এটি মোবাইল নেটওয়ার্কের সন্ধ্যার ভিড়ও ব্যাখ্যা করে, আর কেন ভাগ করা ফোনে খেলা দেখা গ্রামে রাত দুইটায় আর্জেন্টিনার জয় উদ্‌যাপিত হলো।

রেকর্ডের পেছনের অবকাঠামো

গুগলের সার্চ বহর চূড়া শুষে নিতে বানানো; ফুটবল ম্যাচের রেকর্ড প্রকৌশলের সমস্যার চেয়ে বিপণনের পরিসংখ্যান। টুইটারেরটা বেশি আকর্ষণীয় পরীক্ষা: কোম্পানির অর্ধেক প্রকৌশলীকে মাস্কের ছাঁটাইয়ের সাত সপ্তাহ পর বিশ্বকাপে বহু-অনুমিত ধস ঘটল না, যদিও টুর্নামেন্টজুড়ে সেবা ছোটখাটোভাবে ভেঙেছে। টফিরটাই আসল চাপের পরীক্ষা, আর অ্যাপের নিজের ভাষ্যে তা টিকেছে—সেই ফোর-জি নেটওয়ার্কে, যা সাধারণ বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যাতেই হিমশিম খায়।

ফাইনাল সর্বকালের সবচেয়ে বেশি লাইক পাওয়া ইনস্টাগ্রাম পোস্টও দিল—ট্রফিসহ মেসির ছবি, এক দিনে ৬ কোটি লাইক পার। রাতটির প্রতিটি রেকর্ড গড়েছে একই মুহূর্তে একই জিনিস দেখা মানুষ—যা, এক সন্ধ্যার জন্য, ইন্টারনেট যে কারণে বানানো।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।