অ্যাপল-১ একটি খালি সবুজ সার্কিট বোর্ড। কেসিং নেই, কি-বোর্ড নেই, পর্দা নেই, পাওয়ার সাপ্লাই নেই; ১৯৭৬ সালে ক্রেতা নিজে সেসব জোগাড় করতেন, ভাগ্য ভালো হলে একটি কাঠের বাক্সও। হাতে বানানো হয়েছিল প্রায় ২০০টি, টিকে আছে বলে জানা প্রায় ৬০টি। তার একটি—এখনো চলে, স্টিভ জবসের হাতে লেখা সিরিয়াল নম্বরসহ—বিক্রি করছে বোস্টনের আরআর অকশন; নিলাম শেষ ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর। আনুমানিক দাম প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। আগের নমুনাগুলো অবস্থা ও উৎস অনুযায়ী বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ থেকে ৯ লাখ ডলারে।
যা ছিল
স্টিভ ওজনিয়াক ১৯৭৫-৭৬ সালে শখের প্রকল্প হিসেবে অ্যাপল-১ নকশা করেন: ১ মেগাহার্টজের মস ৬৫০২ প্রসেসর, ৪ কিলোবাইট মেমোরি, আর সে সময়ের জন্য অস্বাভাবিক—কি-বোর্ড ও টেলিভিশনের জন্য বসানো ইন্টারফেস, যাতে ব্যবহারকারী সুইচ আর বাতির সারি ছাড়াই টাইপ করে ফল দেখতে পারেন। জবস দেখলেন ব্যবসাটা। দুজনে একটি ভ্যান আর একটি ক্যালকুলেটর বেচে প্রথম ব্যাচের টাকা জোগাড় করেন, লস অ্যালটোসে জবসের পরিবারের গ্যারেজে বোর্ড জোড়েন, আর মাউন্টেন ভিউয়ে পল টেরেলের বাইট শপকে রাজি করান ৫০০ ডলার করে ৫০টির অর্ডারে। খুচরা দাম ৬৬৬.৬৬ ডলার—ওজনিয়াকের বাছাই, কারণ একই অঙ্কের পুনরাবৃত্তি তাঁর পছন্দ ছিল। এটি বেচতেই ১৯৭৬ সালের ১ এপ্রিল অ্যাপল কম্পিউটারের জন্ম।
কেন এক বাড়ির দাম
দুষ্প্রাপ্যতা, আর গল্প। ২০০টির বেশির ভাগ ১৯৭৭ সালে অ্যাপল টু-র বিনিময়ে ফেরত দিয়ে নষ্ট করা হয়; যেগুলো টিকে আছে, সাধারণত সেগুলো ফেরত দেওয়ার কথা কেউ ভাবেননি। এই বোর্ডের হাতে লেখা নম্বর একে ব্যক্তিগতভাবে জবসের সঙ্গে বাঁধে, আর "সচল" অংশটাই বিরল: ৪৬ বছরের ক্যাপাসিটর সাধারণত সহযোগিতা করে না। কম্পিউটিংয়ের ইতিহাসের সংগ্রাহকেরা অ্যাপল-১-কে দেখেন গাড়ির সংগ্রাহকেরা যেভাবে বুগাতি দেখেন, আর নিলাম প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করেছে এটি চলে।
বাংলাদেশের পাদটীকা
জবস ও ওজনিয়াক যখন গ্যারেজে সোল্ডারিং করছেন, বাংলাদেশে তখন কম্পিউটার আছে: ১৯৬৪ সালে ঢাকার পরমাণু শক্তি কেন্দ্রে বসানো আইবিএম ১৬২০, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম—ঘরের সমান একটি যন্ত্র, যা নিলামের বোর্ডটির চেয়ে বরং কম পারত। অ্যাপল-১ যার শুরু, সেই ব্যক্তিগত কম্পিউটার বাংলাদেশে পৌঁছায় এক দশক পরে, আশির দশকের শেষে ঢাকার স্টেডিয়াম মার্কেটে জোড়া আইবিএম পিসির ক্লোনে; আর দেশের প্রথম বাংলা সফটওয়্যার শহীদলিপি লেখা হয় ১৯৮৫ সালে অ্যাপল ম্যাকিনটশের জন্য। লস অ্যালটোসের গ্যারেজ এলিফ্যান্ট রোড থেকে অনেক দূর, কিন্তু রাস্তাটা সোজা।




