প্রযুক্তি

শিশুদের আকাশ শেখানো গেম নিয়ে নাসার স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ জিতল ঢাকার টিম ডায়মন্ডস

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী ১৬২ দেশের ২,৮১৪ দলকে হারিয়ে "ডায়মন্ড ইন দ্য স্কাই" নিয়ে জিতলেন মোস্ট ইন্সপিরেশনাল পুরস্কার। বাংলাদেশের তৃতীয় বৈশ্বিক জয়।

শিশুদের আকাশ শেখানো গেম নিয়ে নাসার স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ জিতল ঢাকার টিম ডায়মন্ডস

২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বর শুক্রবার বাংলাদেশ সময়ে ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবের সম্প্রচারে নাসা ঘোষণা করল বিশ্বের বৃহত্তম হ্যাকাথন ২০২২ স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের দশ বৈশ্বিক বিজয়ী, আর দশটির একটি ঢাকার। টিম ডায়মন্ডস মোস্ট ইন্সপিরেশনাল বিভাগে জিতল "ডায়মন্ড ইন দ্য স্কাই" নিয়ে—ইন্টারঅ্যাকটিভ গেম, যা খেলার ছলে শিশুদের মহাকাশের রহস্য শেখায়।

দলটি

দলনেতা তিশা খন্দকার; ইঞ্জামামুল হক, মুনিম আহমেদ ও আবু নিয়াজ তাঁর মতোই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী, আর জারিন চৌধুরী পড়েন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের আয়োজনে ৪৮ ঘণ্টার বাংলাদেশ পর্বে তাঁরা প্রকল্পটি বানান; সংগঠনটি সেরা ১৮টি স্থানীয় প্রকল্প নাসায় পাঠায়। ১৬২ দেশের ২,৮১৪ দল থেকে নাসার বিচারকেরা ৩৫ বৈশ্বিক ফাইনালিস্ট বাছেন, তারপর দশ বিভাগে একজন করে বিজয়ী।

স্পেস অ্যাপস কী

প্রতি অক্টোবরে নাসা তার উন্মুক্ত তথ্যের ওপর একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জ প্রকাশ করে—স্যাটেলাইটের ছবিতে দাবানল ট্র্যাক করা থেকে সৌরজগতের শব্দ দৃশ্যমান করা—আর বিশ্বের যেকোনো জায়গার দল এক সপ্তাহান্তে কিছু বানায়। পুরস্কার টাকা নয়, নাসার কোনো উৎক্ষেপণ দেখার সফর আর সুনাম। প্রতিযোগিতা পুরস্কৃত করে চালু প্রোটোটাইপ, স্পষ্ট গল্প আর নাসার আসল তথ্যের ব্যবহার; পরিপাটি গুরুত্বপূর্ণ, "এটা কার জন্য?"-এর উত্তরও। ডায়মন্ড ইন দ্য স্কাইয়ের উত্তর সরল: শিশুদের।

বাংলাদেশের রেকর্ড

এটি প্রথম নয়। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম অলীক ২০১৮ সালে গ্রহের তথ্য নিয়ে প্রকল্পে বেস্ট ইউজ অব ডেটা পুরস্কার জেতে, আর এরপর বাংলাদেশি দল বেশ কয়েকবার বৈশ্বিক ফাইনালিস্ট; ২০১৪ থেকে বেসিসের চালানো স্থানীয় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে নিয়মিত হাজারো অংশগ্রহণকারী। বলার মতো মহাকাশ সংস্থা নেই যে দেশের, তা স্পেস অ্যাপস বিজয়ীর নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠেছে—মূলত কারণ হ্যাকাথনটি খেলে বাংলাদেশি কম্পিউটারবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা এমনিতেই যা ভালো পারেন, তার ওপর: দ্রুত বানানো, ভালো উপস্থাপন, আর প্রতিযোগিতা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

পাঁচ শিক্ষার্থীর জন্য পুরস্কার সিভির এমন এক লাইন, যা বিদেশে দরজা খোলে। দেশের জন্য বিদেশি ক্লায়েন্টকে আইসিটি শিল্পের বারবার বলা যুক্তির একটি তথ্যবিন্দু: মেধা এখানে আছে। আর যে শিশুরা গেমটি খেলবে, তাদের জন্য একই আকাশের নিচে বড় হওয়া মানুষের কাছ থেকে আকাশের পাঠ।

পরের আসরে অংশ নিতে চাইলে: প্রতি বছরের সেপ্টেম্বরে বেসিসের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে নিবন্ধন খোলে; দল তিন থেকে ছয়জনের, আর নাসার চ্যালেঞ্জের তালিকা spaceappschallenge.org-এ আগেই প্রকাশিত হয়, তাই প্রস্তুতির সময় থাকে।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।