এআই এখন কোড, টেস্ট ও ডকুমেন্টেশন লিখছে দলগুলোর যাচাই করার সামর্থ্যের চেয়ে দ্রুত। প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক মতামতে বলা হয়েছে, এতে সফটওয়্যার সরবরাহের আসল বাধা সরে গেছে উৎপাদন থেকে যাচাইয়ের দিকে—আর বাংলাদেশের রপ্তানি-লক্ষ্য ঝুলে আছে সেখানেই।
স্বার্থের কথাটি আগে। লেখক ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, বাংলাদেশ সফটওয়্যার টেস্টিং বোর্ডের (বিএসটিবি) সভাপতি ও ড্যাফোডিল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী। তিনি যুক্তি দিচ্ছেন, দেশের এমন সনদপ্রাপ্ত যাচাই-সক্ষমতা আরও দরকার, যে সনদ দেয় তাঁরই প্রতিষ্ঠান। এতে যুক্তিটি ভুল হয়ে যায় না, তবে স্বার্থের দিকটি মাথায় রেখে পড়া ভালো।
যে সংখ্যাগুলো থেকে তাঁর যুক্তি
২০২৪-২৫ অর্থবছরে আইসিটি সেবা রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের আয় প্রায় ৭২ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, যার প্রায় ৮৭ শতাংশ এসেছে কম্পিউটার সেবা থেকে—সফটওয়্যার উন্নয়ন, আউটসোর্সিং ও আইটিনির্ভর সেবা। বহুদিন ধরে বলা ৫০০ কোটি ডলারের লক্ষ্য এখনো অনেক দূরে।
এই দুটি সংখ্যা পাশাপাশি রাখলেই আসল যুক্তিটি দাঁড়ায়। ব্যবধানটি এমন নয় যে একই কাজ আরও খেটে করলেই মিটে যাবে।

যে দাবিটি গুরুত্ব দিয়ে নেওয়ার মতো
প্রচারণার অংশটুকু সরিয়ে দিলে একটি ভাবনা নিজের পায়ে দাঁড়ায়: ক্রেতারা কোডের লাইন কেনেন না। তাঁরা কেনেন এই প্রত্যাশা যে সফটওয়্যারটি কাজ করবে, বড় পরিসরে চলবে, নিরাপদ থাকবে, আর হালনাগাদে আগের সুবিধাগুলো ভেঙে দেবে না।
যত দিন কোড লেখাই ছিল ব্যয়বহুল অংশ, তত দিন কম খরচে কোড লিখতে পারাই ছিল প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা—বাংলাদেশের খাতটি দাঁড়িয়েছে তার ওপরেই। এআই যদি সব জায়গাতেই কোড লেখা সস্তা করে দেয়, সেই সুবিধা পাতলা হয়ে আসে; দুর্লভ থাকে কেবল এই সামর্থ্য—যা বানানো হলো, তা যে ভরসাযোগ্য, সেটি দেখিয়ে দেওয়া।
লেখকের আরও ধারালো বক্তব্য, এআই যাচাইকে বদলে দিচ্ছে একসঙ্গে দুই দিকে: এআই দিয়ে যাচাই—টেস্ট তৈরি, অটোমেশন, ত্রুটির পূর্বানুমান; আর এআইয়ের যাচাই, অর্থাৎ এআই ব্যবস্থার নির্ভুলতা, নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা ও পক্ষপাত পরীক্ষা করা। দ্বিতীয়টি এমন সক্ষমতা, যা বড় পরিসরে প্রায় কারও নেই।
কোথায় সতর্ক থাকতে হবে
তিনি বলছেন, উচ্চঝুঁকির খাতে—ব্যাংকিং, ফিনটেক, স্বাস্থ্যসেবা, টেলিকম, সরকারি ডিজিটাল সেবা ও এআই ব্যবস্থায়—ডেভেলপার ও টেস্টারের অনুপাত ১:১-এর দিকে যেতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেই লিখেছেন, এটি প্রতিষ্ঠিত কোনো শিল্পমান নয়; এই সততাটুকু উল্লেখ করা দরকার, কারণ নইলে সংখ্যাটি মান হিসেবেই ছড়িয়ে পড়ত।
সনদ প্রসঙ্গে: আইএসটিকিউবি বলছে, ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ পরীক্ষা হয়েছে, সনদ দেওয়া হয়েছে ১১ লাখের বেশি, আর কার্যক্রম চলছে ১৩০-এর বেশি দেশে। ২০০৬ সাল থেকে বিএসটিবি তাদের বাংলাদেশ সদস্য বোর্ড, আর লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার সনদপ্রাপ্ত টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার।
সনদ প্রশিক্ষণের পরিমাপ, সরবরাহিত সক্ষমতার নয়। লেখকের নিজের নবম সুপারিশেও একই কথা—সাফল্য মাপতে হবে কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক প্রকল্প ও অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রায়, প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যায় নয়। লেখাটির সবচেয়ে কাজের লাইন এটিই।
যে অংশটি যাচাই করা যাবে
জাতীয় কৌশল নিয়ে যুক্তি দেওয়া সহজ, পরীক্ষা করা কঠিন। এটির সঙ্গে অবশ্য একটি তারিখ আছে—৫ ডিসেম্বর ঢাকার শেরাটনে চতুর্থ এসকিউএটি বাংলাদেশ সিম্পোজিয়াম, বিষয় ‘কোয়ালিটি ইন দ্য এজ অব এআই’; আসার কথা আইএসটিকিউবির বৈশ্বিক সভাপতি ক্লডিয়া দুসা-জিগার ও সাবেক সভাপতি অলিভিয়ে দেনোর।
সেই ঘরে লেখকের চাওয়া অনুযায়ী ব্যাংক ও টেলিকমের প্রযুক্তি-নেতারা থাকবেন, নাকি কেবল টেস্টাররা নিজেদের মধ্যে কথা বলবেন—সম্ভাবনার কথা কোনো নীতিপত্রের চেয়ে সেটিই বেশি বলে দেবে।




