এক দশক ধরে ঢাকার করপোরেট অফিসের ফোন মানেই ছিল ব্ল্যাকবেরি: আসল কি-বোর্ড, লাল বাতি আর বিবিএম মেসেঞ্জার। ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি সেই যুগ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। ব্ল্যাকবেরি লিমিটেড জানিয়েছে, ওই দিন থেকে তাদের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমে চলা ফোনগুলো "আর নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করবে না"।
কোন ফোনগুলো অচল হবে
বন্ধ হচ্ছে ব্ল্যাকবেরি ওএস ৭.১ ও তার আগের সংস্করণ, ব্ল্যাকবেরি ১০ এবং প্লেবুক ওএস ২.১ ও আগের সংস্করণের সেবা। অর্থাৎ বোল্ড, কার্ভ, টর্চ, কিউ১০, জেড১০, পাসপোর্ট, ক্লাসিক—সবই। এসব ফোন যে সার্ভারের ওপর নির্ভর করে, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে ৪ জানুয়ারির পর ফোন করা, এসএমএস পাঠানো, মোবাইল ডেটা বা ওয়াই-ফাই ব্যবহার, এমনকি জরুরি নম্বরে কল করাও না-ও হতে পারে।
তবে ব্ল্যাকবেরি নামের যে ফোনগুলো অ্যান্ড্রয়েডে চলে, যেমন টিসিএলের তৈরি কি-ওয়ান ও কি-টু, সেগুলোতে কোনো সমস্যা হবে না। ওগুলো অন্য যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতোই চলবে।
যেভাবে এই পরিণতি
কানাডার ওয়াটারলুর প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালে আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েডের সঙ্গে পাল্লা দিতে ব্ল্যাকবেরি ১০ আনে। গ্রাহক ফেরেনি। ২০১৫ সালে তারা নিজেদের ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার শুরু করে, ২০১৬ সালে হার্ডওয়্যার তৈরির দায়িত্ব দেয় টিসিএল ও ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানকে। ২০১৮ সালের অক্টোবরের পর নতুন কোনো ব্ল্যাকবেরি ফোন আর বাজারে আসেনি। টেক্সাসের অনওয়ার্ড মোবিলিটি ২০২১ সালে ফাইভ-জি ব্ল্যাকবেরি আনার কথা বলেছিল, সেটি আলোর মুখ দেখেনি।
প্রতিষ্ঠানটি কিন্তু বিলুপ্ত হচ্ছে না। ব্ল্যাকবেরি এখন সরকার ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরাপত্তা সফটওয়্যার বানায়; লাখ লাখ গাড়ির ভেতরের কিউএনএক্স সিস্টেমও তাদের।
ড্রয়ারে একটি পড়ে থাকলে
- এখনই কন্টাক্ট ও ছবি সরিয়ে নিন। সেবা বন্ধ হলে ব্ল্যাকবেরি লিংক বা ক্লাউড সিংকও বন্ধ হতে পারে। ইউএসবি দিয়ে কম্পিউটারে কপি করুন, বা কন্টাক্ট তালিকা ভি-কার্ড ফাইল হিসেবে নিজেকে ই-মেইল করুন।
- সিম খুলে যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনে লাগান। নম্বর, বিকাশ, ব্যাংকের ওটিপি—সব আগের মতোই চলবে; শুধু হ্যান্ডসেটটি অবসরে যাচ্ছে।
- সচল ফোন বলে বিক্রি করবেন না। ঢাকার সেকেন্ড-হ্যান্ড বাজারে এখনো ব্ল্যাকবেরি ১০ ফোনের বিজ্ঞাপন আছে; ৪ জানুয়ারির পর সেগুলো স্মারক, ফোন নয়।
- ফেলে না দিয়ে রিসাইকেল করুন। ঢাকা ও চট্টগ্রামে কয়েকটি ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টার পুরোনো হ্যান্ডসেট ই-বর্জ্য হিসেবে নেয়।
একসময় যার গ্রাহক ছিল সাড়ে আট কোটি, নিজস্ব মেসেঞ্জার ছিল—সেই ব্ল্যাকবেরি প্ল্যাটফর্মের গল্প এখানেই শেষ।




