ঢাকার ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় এবার মামলা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আসামি ১৫০ থেকে ২০০ জন।
মামলা করেছে কে, কোথায়
বাদী নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড—যে আবাসন প্রকল্পের জমিতে স্টুডিওটি ছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী কমিশনার নাজমুল আহসানের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলাটি করা হয়।
তিনজন হেফাজতে আছেন। দুজনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়; তৃতীয়জনকে ধরা হয় রোববার, ভাষানটেক এলাকা থেকে। পুলিশ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে, আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী উদ্ধার হয়েছে গুলির খোসাও। ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশের বর্ণনায় যা ঘটেছে
বিরোধ আবাসন প্রকল্পের ভেতরে ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে। পুলিশ বলছে, বিরোধে জড়িতরা নিজেদের জমিতে ঢুকতে পারছিলেন না; পরে বাইরের লোকজন নিয়ে এসে গেট দিয়ে ঢুকে দখল নিতে যান।
ওই বিরোধপূর্ণ জমির মাঝখানেই ছিল ব্রাউনফিশ। পুলিশের বর্ণনায়, ভাঙচুর হয়েছে অনিচ্ছাকৃতভাবেই। ডিএমপির ওই কর্মকর্তার ভাষায়, "তারা জানতই না যে এটি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও।" তিনি বলেন, "তারা লোকজন নিয়ে এসে সেটিতেও ভাঙচুর করেছে।"
ঘটনার রাতে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হলে সহকারী কমিশনারের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট: "এটি জমি নিয়ে বিরোধ, এখানে চাঁদাবাজির কোনো বিষয় নেই।"
মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে মালিকানার বিরোধটিকে বর্ণনা করা হয় একটি বিল্ডার্স গোষ্ঠী ও একজন অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যকার বিরোধ হিসেবে, ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকার জমি নিয়ে। সেখানে এ-ও বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধান ছিল সংক্ষিপ্ত এবং আরও বিস্তারিত তদন্ত দরকার।
কী নিষ্পত্তি হলো, কী হলো না
তিনটি বিষয় এখন নথিভুক্ত এবং এ নিয়ে বিতর্ক নেই: মামলা হয়েছে, তিনজন আটক আছেন, আর ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। বাকি সবকিছু—দলটি কে জড়ো করল, স্টুডিও ধ্বংস হওয়া আনুষঙ্গিক ছিল কি না, আর জমির বিরোধটি আসলে কিসের ওপর দাঁড়িয়ে—তা বের করার জন্যই তদন্ত।
ধাপগুলো আলাদা রাখা দরকার। আটক মানে অভিযোগ গঠন নয়, এজাহারে নাম থাকা মানে প্রমাণ নয়, আর ১৫০ থেকে ২০০ অজ্ঞাতনামা আসামি বলতে চিহ্নিত কিছু মানুষ নয়, একটি জটলাকেই বোঝায়। এই পার্থক্য এবং থানা থেকে আদালত পর্যন্ত মামলা কীভাবে যায়, তা আছে আমাদের ব্যাখ্যায়।
ওই রাতের ঘটনা আর শাটার ভাঙার সময় ভেতরে থাকা দুই কর্মীর বর্ণনা আছে আগের প্রতিবেদনে।




