ব্রাউনফিশে যা যা ধ্বংস হয়েছে, তার মধ্যে দুটি জিনিসের পুনর্বিক্রয়মূল্য বলে কিছু নেই: সালমান মুক্তাদিরের ইউটিউব সিলভার ও গোল্ড প্লে বাটন—এক লাখ ও দশ লাখ সাবস্ক্রাইবারে ইউটিউব যে ফলক পাঠায়। বাকি সবকিছুর সঙ্গে সেগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই খুঁটিনাটিটুকুতে একটু থামা দরকার, কারণ এ ধরনের ক্ষতি আসলে কী—তার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ এটাই। ক্যামেরা টাকা দিয়ে আবার কেনা যায়। প্লে বাটন ঘটে যাওয়া একটি মুহূর্তের চিহ্ন।
ঘটনাস্থলে তিনি যা বলেছেন
স্টুডিওতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সালমান বলেন, হামলার মূল লক্ষ্য তিনি ছিলেন না; তাঁর ধারণা, হামলাকারী ও জমির মালিকপক্ষের বিরোধের সঙ্গেই এর সম্পর্ক—যা পুলিশের পরবর্তী বক্তব্যের সঙ্গেও মিলে যায়।
ক্ষতি নিয়ে তিনি জানান, ব্রাউনফিশে অনেক ক্লায়েন্টের শুট হয়েছে এবং যন্ত্রপাতি ও প্রোডাকশনে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ছিল। আর্থিক ক্ষতির হিসাব তখনো করা হয়নি বলে জানান তিনি।
তবে তিনি বারবার ফিরে যাচ্ছিলেন টাকার হিসাবে নয়। সৃষ্টিশীল কাজের ক্ষতিকেই তিনি বলেছেন বেশি উদ্বেগের জায়গা—তাঁর ভাষায়, এটি তাঁর স্বপ্ন ও ভালোবাসার ওপর হামলা। ঘটনার রাতে দেওয়া ভিডিওতে, পেছনে কাঁদতে থাকা কর্মীদের রেখে তিনি বলেছিলেন, পুরো স্টুডিও ধ্বংস হয়ে গেছে। কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন তিনি: "আমি এর চেয়েও বড় কিছু করব।"
রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে স্বীকার করা হয়, এ ঘটনায় এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আর আরও বিস্তারিত তদন্ত দরকার।
ক্লায়েন্ট নিয়ে বাক্যটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
‘অনেক ক্লায়েন্টের শুট’—এই কথাটিই ঘটনাটিকে একজন মানুষের খারাপ একটি রাতের গল্প থেকে ব্যবসার গল্পে বদলে দেয়। ক্লায়েন্টের কাজ নেওয়া স্টুডিও অন্যদের প্রকল্পও ধরে রাখে: শুট হয়ে যাওয়া কিন্তু জমা না দেওয়া ফুটেজ, প্রচারের তারিখ বাঁধা ক্যাম্পেইন, আগেই নেওয়া অগ্রিম—যার কাজ এখন সময়মতো শেষ করা অসম্ভব।
এর মানে ক্ষতিগ্রস্ত কেবল মালিক নন। সম্পাদক, ক্যামেরাম্যান, প্রোডাকশন সহকারী ও ব্যবস্থাপকদের বেতন আসে এমন একটি সূচি থেকে, যা এইমাত্র থেমে গেছে। বাংলাদেশের ক্রিয়েটর অর্থনীতিতে এগুলো সাধারণ মানুষের সাধারণ চাকরি, আর কারখানা বা অফিসের সমমানের চাকরিতে যে সুরক্ষা থাকে, এর প্রায় কোনোটিই এখানে নেই।
যে ক্ষতি আর কিনে ফেরানো যায় না
যন্ত্রপাতি দৃশ্যমান ক্ষতি, আর ফিরিয়ে আনার মতো ক্ষতিও। ফুটেজ কোনোটিই নয়। র শট, অসমাপ্ত এডিট, প্রজেক্ট ফাইল আর আবার আয়োজন করা যায় না এমন শুটের আর্কাইভ কোনো বিমার তালিকায় ওঠে না, আর যেকোনো দামেই তা আর পাওয়া যায় না—ঘরের ভেতরের মেশিন আর ড্রাইভে থাকলে সেগুলো ঘরের সঙ্গেই গেছে।
এ কারণেই ঢাকার যেকোনো স্টুডিওর জন্য এ সপ্তাহে সবচেয়ে কাজের কাজটির খরচ প্রায় নেই: কাজের একটি কপি ভবনের বাইরে রাখা। এই যুক্তি, আর এ দেশে ক্রিয়েটরের যন্ত্রপাতির বিমা কার্যত কেন হয় না এবং ভাড়া ও কাগজপত্র নিয়ে কী করা যায়—সব আছে ভাঙা স্টুডিওর আসল ক্ষতি কত লেখায়। আর ১৩ জনের নামসহ দুই শ পর্যন্ত অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে করা মামলার খবর আছে মামলার প্রতিবেদনে।




