বাংলাদেশ জনপ্রিয়

রাতে ভাঙচুর ও লুটপাট সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে, পুলিশ বলছে স্টুডিও লক্ষ্যবস্তু ছিল না

ভেতরে থাকা এক কর্মীর বর্ণনা—১০০ থেকে ১৫০ জন শাটার কুপিয়ে ঢোকে, হাতে বড় চাপাতি ও অস্ত্র, নিয়ে যায় ফোন ও মানিব্যাগ। আটক তিনজন। সালমান বলছেন চাঁদাবাজি, পুলিশ বলছে জমি নিয়ে বিরোধ।

রাতে ভাঙচুর ও লুটপাট সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে, পুলিশ বলছে স্টুডিও লক্ষ্যবস্তু ছিল না

দেশের সবচেয়ে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের একজন সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের স্টুডিওতে শনিবার রাতে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায়। তাঁর স্টুডিও ব্রাউনফিশ চলত নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে ভাড়া নেওয়া একটি টিনশেড কাঠামোয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, হামলা শুরু হয় রাত সাড়ে ১০টার দিকে। ওই রাতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর ভিডিও দেন সালমান।

ভেতরে থাকা মানুষেরা যা বলেছেন

ঘটনার সময় ব্রাউনফিশে ছিলেন দুজন কর্মী। তাঁদের একজন বিডিনিউজকে বলেন, ১০০ থেকে ১৫০ জন এসে স্টুডিওর শাটার কোপাতে শুরু করে, তারপর জোর করে ভেতরে ঢোকে।

তাঁর ভাষায়, "ওরা খুব দ্রুত ভেতরে ঢুকে সবকিছু ভাঙতে শুরু করে।" তিনি আরও বলেন, "যা নিতে পেরেছে নিয়ে গেছে, যা নিতে পারেনি ভেঙে ফেলেছে।"

দুজন ওয়াশরুমে লুকিয়েছিলেন। তাঁদের খুঁজে বের করা হয়। ওই কর্মীর ভাষ্য, "তাদের হাতে বড় চাপাতি আর অস্ত্র ছিল। আমাদের যা আছে সব দিয়ে দিতে বলে।" তিনি বলেন, "আমাদের ফোন, মানিব্যাগ—যা ছিল সব নিয়ে গেছে।"

সালমানের দেওয়া ভিডিওতে ক্ষতির মাত্রা দেখা যায়: মেঝেজুড়ে ভাঙা চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশন, আসবাব ও যন্ত্রপাতি। স্টুডিওর কয়েকজন কর্মীকে কাঁদতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি বলেন, "একটু আগে এখানে হামলা হয়েছে, এই হামলায় আমাদের পুরো স্টুডিও ধ্বংস হয়ে গেছে।"

কারণ নিয়ে দুই বর্ণনা

সালমানের নিজের ব্যাখ্যা, হামলাকারীদের লক্ষ্য তিনি ছিলেন না। তিনি বলেছেন, জমির মালিক চাঁদার দাবির মুখে পড়ে থাকতে পারেন, আর তাঁর স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাঝখানে পড়ে। তাঁর কথায়, "তার সম্পত্তির ক্ষতি করতে গিয়ে আমার সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে।"

পুলিশ ভিন্ন কারণ বলছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেছেন, স্টুডিও লক্ষ্যবস্তু ছিল না; ঘটনার সূত্রপাত সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থেকে—এক পক্ষ গভীর রাতে দখল নিতে সেখানে যায়, আর তখনই স্টুডিওতে ভাঙচুর হয়।

প্রথম আলোকে ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী কমিশনার বলেন, বিরোধটি নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড ও পাশের প্লটের মালিকের মধ্যে জমি নিয়ে; স্পষ্ট করেই তিনি বলেন, "এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি।"

শনিবার রাত ও রোববার সকালে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ওই পর্যন্ত ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। মনে রাখা দরকার, আটক মানে অভিযোগ গঠন নয় এবং এতে কী ঘটেছে তার মীমাংসাও হয় না—এই পার্থক্যটি আমরা ব্যাখ্যা করেছি নালিশি মামলা আদালতে কীভাবে এগোয় লেখায়।

স্টুডিওর কী হবে

সালমান জানিয়েছেন, তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন। তাঁর ভাষায়, "আমি এর চেয়েও বড় কিছু করব।"

ঘটনাটি এত বড় হয়ে ওঠার কারণ তাঁর নাগালের পরিসর। দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন দর্শকগোষ্ঠীগুলোর একটি গড়েছেন সালমান, আর ব্রাউনফিশ কোনো শখের ঘর নয়—কর্মী, ক্যামেরা, লাইট, এডিট মেশিন ও সূচি নিয়ে চলা একটি কর্মক্ষম প্রোডাকশন স্টুডিও। এমন একটি রাত কোনো চ্যানেলের সম্প্রচারে ছেদ ফেলে না; একটি ব্যবসা থামিয়ে দেয়, আর থামিয়ে দেয় সেখানে কাজ করা সবার আয়।

সূত্র: bdnews24.com

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।