বন্যা আসার আগেই যদি জানা যায় কোন এলাকায় ঝুঁকি বেশি, কোথায় আগে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার আর সীমিত অর্থে কোন কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, তাহলে দুর্যোগ প্রস্তুতি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কাজ হয়ে ওঠে। এই ভাবনা থেকেই দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর তৈরি ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন কোপাইলট’ পৌঁছেছে এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬–এর চূড়ান্ত পর্বে।
ফারিয়া ইসলাম পড়ছেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে, আর মো. হাবিবুর রহমান ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে। পুরস্কারটি যৌথভাবে দেবে ইউএনএফসিসিসির টেকনোলজি এক্সিকিউটিভ কমিটি ও ক্লাইমেট টেকনোলজি সেন্টার অ্যান্ড নেটওয়ার্ক, আর এর লক্ষ্য স্বল্পোন্নত দেশ ও ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জন্য এআইভিত্তিক সমাধানকে স্বীকৃতি দেওয়া।
শীর্ষ পাঁচ প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে ১৩ ও ১৪ অক্টোবর কম্বোডিয়ায় এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামে, সেখানেই ঘোষণা হবে বিজয়ীর নাম। দলনেতা হিসেবে ১১ অক্টোবর কম্বোডিয়া গেছেন ফারিয়া ইসলাম। বিজয়ী প্রকল্পটি যাবে নভেম্বরে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় কপ৩১–এ।
প্রকল্পটি যে প্রশ্নটি করছে, সেটিই ঠিক প্রশ্ন
বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে বানানো বেশির ভাগ জলবায়ু প্রযুক্তিই পূর্বাভাস উন্নত করার চেষ্টা করে: ভালো মডেল, আগাম সতর্কতা, সূক্ষ্মতর রেজল্যুশন। কাজটি গুরুত্বপূর্ণ, আর আসল বাধাটি সেখানে নয়।
বাংলাদেশ এমনিতেই বন্যার সতর্কবার্তা পায়। যা নেই তা হলো একসঙ্গে সব সতর্কবার্তায় সাড়া দেওয়ার মতো টাকা। সতর্কবার্তা যখন কয়েকটি জেলা ঘিরে আর বাজেট যখন একটির, তখন কেউ একজন ঠিক করেন কোন বাঁধ মজবুত হবে, কোন আশ্রয়কেন্দ্রে রসদ যাবে আর কোন জনপদে আগে যাওয়া হবে। সিদ্ধান্তটি সাধারণত নেওয়া হয় দ্রুত, অসম্পূর্ণ তথ্যে, এমন মানুষদের দিয়ে যাঁরা যেদিকেই যান দোষ পাবেন।
কাজেই বাজেটের সীমার মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ লক্ষ্য করা সরঞ্জাম আসল বাধাটিকেই লক্ষ্য করছে। পূর্বাভাসের চেয়ে কম চমকপ্রদ লক্ষ্য, আর বেশি কাজের।
কী একে চালু রাখবে, আর সাধারণত কী এ ধরনের প্রকল্প মেরে ফেলে
পুরস্কারের পরও এমন সরঞ্জাম টিকবে কি না, তা ঠিক করে দুটি জিনিস—আর কোনোটিই মডেল নয়।
প্রথমটি হলো এটি কার টেবিলে বসে। অগ্রাধিকার নির্ধারণের সরঞ্জাম তখনই ব্যবহৃত হয়, যখন বাজেট বরাদ্দ করা মানুষটি—ইউনিয়ন পরিষদে, উপজেলা কার্যালয়ে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে—সিদ্ধান্তের সময় সেটি খোলেন। যে সফটওয়্যার সরকারি প্রক্রিয়ার চেয়ে ভালো উত্তর দেয় অথচ সেই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকে, তাকে ভদ্রভাবে উপেক্ষা করা হয়।
দ্বিতীয়টি হলো ক্রমতালিকার জবাবদিহি। কোন এলাকায় আগে টাকা দিতে হবে তা বলা মানে কোনটিতে পরে দিতে হবে তা-ও বলা, আর দ্বিতীয় এলাকাটিও ডোবে। জনপ্রশাসনে ব্যবহৃত সরঞ্জামকে দেখাতে পারতে হয় কেন সে এভাবে সাজাল—এমন ভাষায়, যা একজন মানুষ সভায় দাঁড়িয়ে রক্ষা করতে পারেন। যে ক্রমতালিকার ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারে না, তা মানা হবে না—আর মানাও উচিত নয়।
সমস্যাগুলো সমাধানযোগ্য, আর নির্ভুলতার বদলে এগুলো নিয়েই প্রশ্ন করা দরকার।
এটি কোথা থেকে এল, তা নিয়ে একটি কথা
দুজনের একজন মাইক্রোবায়োলজির শিক্ষার্থী। এটি নিছক পার্শ্বতথ্য নয়।
জলবায়ু অগ্রাধিকার নির্ধারণের সরঞ্জামের কাজের অংশটি হলো জানা—কোন জনপদকে অন্যটির চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে কী: পানি, পয়োনিষ্কাশন, জমে থাকা পানির পর রোগ, মানুষ কত দ্রুত সরতে পারে। এটি বিষয়গত জ্ঞান, আর কম্পিউটারবিজ্ঞানের ডিগ্রি এটি জোগায় না। এ ধরনের জুটি থেকেই কাজ করা সরঞ্জাম তৈরি হয়, কেবল নম্বর পাওয়া ডেমো নয়।
জিতলে কী হবে, আর কী হবে না
পুরস্কারটির সঙ্গে আছে কপ৩১–এ যাওয়ার পথ, আর সেটি সত্যিকারের: সেখানে উপস্থাপিত প্রকল্প দেখেন সেই মানুষেরা, যাঁরা অভিযোজনে অর্থায়ন করেন—শিক্ষার্থীদের কাজ যে দরজার কাছেও সাধারণত পৌঁছায় না।
তবে এতেই সরঞ্জামটি উপজেলা কার্যালয়ে পৌঁছে যায় না। পুরস্কার বাছাই করে উপস্থাপনের পরিস্থিতিতে একটি ভাবনার মান; মোতায়েন বাছাই করে কোনো প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি বদলাতে রাজি কি না। দুটি আলাদা পরীক্ষা, আর দ্বিতীয়টিতে উতরায় অনেক কম প্রকল্প।
কাজেই কম্বোডিয়ার পর দেখার বিষয় ফলাফল নয়। দেখার বিষয় হলো, দুর্যোগ বাজেট আছে এমন কোনো বাংলাদেশি সংস্থা সত্যিকারের একটি বরাদ্দে সরঞ্জামটি পরীক্ষা করতে রাজি হয় কি না, আর পরে বলে তাতে কী বদলাল।
এমন প্রকল্পের পেছনের দক্ষতা গড়ার জাতীয় চেষ্টা নিয়ে দেখুন ১ হাজার ৬০০ আসনের জন্য এক লাখ পরীক্ষার্থীর খবরটি আর বিদ্যালয় প্রস্তুত কি না সেই প্রতিবেদনটি।




