শনিবার বাংলাদেশের ৬৪ জেলার প্রতিটিতে একযোগে একটি লিখিত পরীক্ষা হয়েছে। এটি ছিল সরকারের এআই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বাছাই পরীক্ষা, আর এতে আবেদন করেছিলেন এক লাখের বেশি মানুষ।
সংখ্যাগুলো
‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে। মোট আবেদন জমা পড়ে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬টি। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে গৃহীত হয় ১ লাখ ২ হাজার ৯২৮টি।
কর্মসূচিতে নেওয়া হবে প্রতি জেলায় ২৫ জন, অর্থাৎ মোট ১ হাজার ৬০০ জন। সারা দেশে হিসাব করলে আসনপ্রতি প্রার্থী দাঁড়ায় ৬৪ জনেরও বেশি। ঢাকায় প্রতিযোগিতা আরও কঠিন: ২৫ আসনের বিপরীতে আবেদন ১৭ হাজার ৫৫২টি, অর্থাৎ প্রায় ৭০০ জনে একজন।
পরীক্ষা চলাকালে কল্যাণপুরের একটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা হবে ২৭ সেপ্টেম্বর, চূড়ান্ত ফল ৩০ সেপ্টেম্বর। নির্বাচিত ১ হাজার ৬০০ জনকে নিয়ে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু ১ অক্টোবর। উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান ও ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার।
অনুপাতটি আসলে কী বলছে
৬৪-এ-১ অনুপাতকে সফল কর্মসূচির লক্ষণ হিসেবে দেখানো সহজ। উল্টো দিক থেকে পড়ুন: এআই প্রশিক্ষণ চান এমন ১ লাখ ১ হাজার ৩২৮ জন এখান থেকে তা পাবেন না। চাহিদাটি বাস্তব, সারা দেশেই আছে, আর জোগান মেটাচ্ছে তার প্রায় দেড় শতাংশ।
এই ব্যবধানটিই আসল পর্যবেক্ষণ। যে দেশে এক লাখ তরুণ একটি প্রশিক্ষণের লিখিত পরীক্ষা দিতে শনিবারটা ছেড়ে দেন, সেখানে আগ্রহের সংকট নেই। সংকট সক্ষমতার।
এরপর যা হওয়া উচিত
তিনটি কাজ একে কর্মসূচি থেকে নীতিতে বদলে দিতে পারে, আর এর একটিও প্রথমটির সমান বাজেট চায় না।
পাঠ্যসূচি ও উপকরণ প্রকাশ করুন। ১ অক্টোবর থেকে ১ হাজার ৬০০ জনকে যা শেখানো হবে, সেই একই পাঠ্যক্রম বাকি এক লাখ মানুষের জন্য অনলাইনে তুলে দেওয়া যায় প্রায় বাড়তি খরচ ছাড়াই। কে শিখতে চান, পরীক্ষাই তা চিহ্নিত করে দিয়েছে; পুরো আয়োজনের সবচেয়ে মূল্যবান ফল ওই তালিকাটিই।
প্রশিক্ষণটি আসলে কী, তা স্পষ্ট বলুন। ‘এআই দক্ষতা’ কথাটির ভেতরে প্রম্পট লেখা থেকে ফাইন-টিউনিং পর্যন্ত সব ঢুকে যায়, আর একটি বাক্যাংশ দেখে নিয়োগদাতা কাউকে নেন না। ঘণ্টা, সরঞ্জাম ও মূল্যায়নের মান লেখা প্রকাশিত পাঠ্যসূচিই সনদকে চাকরিতে বদলায়।
ভাষার প্রশ্নটি আগেই মীমাংসা করুন। কেবল ইংরেজিতে দেওয়া প্রশিক্ষণ সুযোগটিকে গুটিয়ে আনে তাঁদের মধ্যে, যাঁরা এমনিতেই এগিয়ে—জেলা পর্যায়ের কর্মসূচির উদ্দেশ্যের ঠিক উল্টো। বেঞ্চমার্কের তালিকা যতটা বোঝায়, এ দেশে বিষয়টি তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—যুক্তিটি আমরা তুলেছিলাম এআই নিয়ে পক্ষ বেছে নেওয়ার লেখায়। আর প্রস্তুতি আদৌ শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত পৌঁছায় কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছিল স্কুল ও এআই নিয়ে প্রতিবেদনটি।




