বিশ্ব

এলভিসের গানের স্বত্বাধিকারীরা অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে ৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের মামলা করেছে—আর অভিযোগপত্রের সবচেয়ে জোরালো লাইনটি ক্লদের নিজের বক্তব্য

অ্যানথ্রপিক বলছে, তারা পুরো মামলা লড়বে। দশ মাসে এটি সংগীতস্বত্ব নিয়ে তৃতীয় মামলা, আর তা এল প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির নথি জমার সপ্তাহেই।

এলভিসের গানের স্বত্বাধিকারীরা অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে ৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের মামলা করেছে—আর অভিযোগপত্রের সবচেয়ে জোরালো লাইনটি ক্লদের নিজের বক্তব্য

এলভিস প্রিসলির গানের স্বত্বের মালিক অথেনটিক ব্র্যান্ডস গ্রুপ শুক্রবার অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ, লাইসেন্সের জন্য কোনো অর্থ না দিয়েই এলভিসের ২৭৪টি গান দিয়ে নিজেদের ক্লদ মডেলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যানথ্রপিকের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমরা এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নই এবং পুরো মামলাটি লড়ার ইচ্ছা রাখি।’

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা গানগুলোর মধ্যে আছে অল শুক আপ, ক্যান্ট হেল্প ফলিং ইন লাভ, আ লিটল লেস কনভারসেশন, ডোন্ট বি ক্রুয়েল ও রিটার্ন টু সেন্ডার। অথেনটিক ব্র্যান্ডসের বক্তব্য, এগুলো ব্যবহার করে ‘লাইসেন্সবিহীন অনুসৃত কাজ’ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি লঙ্ঘিত গানের জন্য চাওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ১,৫০,০০০ ডলার—সব মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।

ভাষা এখানে কাজ করছে

নথিটি লেখা হয়েছে প্রভাব তৈরির জন্য। সেখানে বলা হয়েছে, এই গানের ভান্ডারে আছে ‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে যুগান্তকারী, বিপ্লবী, প্রভাবশালী ও টেকসই কিছু সংগীত রচনা’, আর বাদীরা ‘এই কালজয়ী গানগুলোর ব্যাপারে গভীরভাবে সংরক্ষণশীল’। অভিযোগ, অ্যানথ্রপিক ‘আগে কখনো দেখা যায়নি এমন মাত্রার কপিরাইট লঙ্ঘনের ওপর নিজের পুরো ব্যবসায়িক মডেল দাঁড় করিয়েছে’।

আদালত সাধারণত বিশেষণে বিচলিত হয় না। কিন্তু অভিযোগপত্রের একটি অংশ ধরনেই আলাদা, কারণ সেটি বাদীদের নিজের বর্ণনা নয়।

২৭৪টি গান, প্রতিটির ১,৫০,০০০ ডলার
অথেনটিক ব্র্যান্ডস গ্রুপের অভিযোগ, লাইসেন্স ছাড়াই এলভিস প্রিসলির ২৭৪টি গান দিয়ে ক্লদকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে অ্যানথ্রপিক। চাওয়া হয়েছে আইনের সর্বোচ্চ—সব মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। গ্রাফিক: টেক বিডি।

মডেলের নিজের উদ্ধৃতি

অথেনটিক ব্র্যান্ডসের যুক্তি, অ্যানথ্রপিকের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কাজ করেনি: ‘মামলার পর বিবাদী কথিত “রক্ষাকবচ” বসানোর পরেও, সর্বশেষ সংস্করণগুলোর একটিতে ক্লদ লঙ্ঘন চালিয়ে যাচ্ছে।’

এরপর উদ্ধৃত হয়েছে মডেলের বক্তব্য। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘আধুনিক শ্রোতার জন্য’ নির্দিষ্ট গান আবার বানিয়ে দিতে বলা হলে ক্লদ তা করে, তারপর নিজের তৈরি জিনিস সম্পর্কে বলে: ‘এই রেন্ডারগুলো বারবার মূলের খুব কাছাকাছি গিয়ে পড়ছে—একই গঠন, হালকা শব্দ বদলে একই হুক, আর পুরো অন্তরা-ধুয়া-ব্রিজের সেট।’ মডেলটি যোগ করে, এটি ‘“অনুপ্রাণিত” পেরিয়ে কপিরাইটযুক্ত গানের পুনরুৎপাদনের দিকে চলে যাচ্ছে, শব্দ পাল্টে দিলেও’।

চ্যাটবটের নিজের মূল্যায়ন কোনো কিছুর প্রমাণ কি না, সে প্রশ্নের জবাব দেবেন বিচারক। মডেলের নিজের প্রশিক্ষণ তথ্য সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই, আইনি প্রশ্নে স্বীকারোক্তি দেওয়ার অধিকারও নেই; সে এমন লেখা তৈরি করছে যা স্বীকারোক্তির মতো শোনায়। তবে উৎপাদিত ফল মূল উপাদানের এতটাই কাছাকাছি যে ব্যবস্থাটি নিজেই সেই সাদৃশ্য বর্ণনা করতে পারছে—এটি দেখানোর কৌশল হিসেবে কাজটি পরিপাটি। আর এতে ‘মডেল কাজ নকল করে না, ধরন শেখে’—এই চেনা প্রতিরক্ষাটিকে পাশ কাটানো যায়।

দশ মাসে তৃতীয় মামলা

এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত সপ্তাহেই সংগীত প্রতিষ্ঠান রিজার্ভয়ারের মালিকানাধীন গানের কথা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল অ্যানথ্রপিকের বিরুদ্ধে। জানুয়ারিতে মামলা করেছিল ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপ। দুটি মামলাই চলছে।

আর প্রতিষ্ঠানটি বড় অঙ্কে একবার অর্থ দিয়েছেও। গত বছর লেখকদের করা একটি শ্রেণিভিত্তিক মামলা নিষ্পত্তিতে তারা ১৫০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছিল; লেখকদের অভিযোগ ছিল, তাঁদের কাজ নিয়ে মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। লেখকদের আইনজীবীদের ভাষায়, এটি ছিল ইতিহাসে প্রকাশ্যে জানা সবচেয়ে বড় কপিরাইট আদায়।

সেই নিষ্পত্তির কারণেই এলভিসের অঙ্কটি ছোট দেখায়। ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার মানে, প্রশিক্ষণ-তথ্যের একটি মামলা সরাতে অ্যানথ্রপিক ইতিমধ্যে যত দিতে রাজি হয়েছে, এই দাবি তার ৩ শতাংশেরও কম।

সময়টা কেন গুরুত্বপূর্ণ

মামলাটি এল সেই সপ্তাহেই, যখন অ্যানথ্রপিক প্রকাশ করেছে শেয়ারবাজারে যাত্রার আগের ৩৩৫ পৃষ্ঠার নথি। চলমান মামলার কথা বিনিয়োগকারীদের জানাতে হয়, আর যে তালিকাভুক্তিতে প্রতিষ্ঠানের মূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে, তা গানের ভান্ডারের মালিক প্রত্যেককেই এখনই মামলা করার কারণ দেয়: বিবাদী এখন একই সঙ্গে খুব দৃশ্যমান এবং কাগজে-কলমে খুব ধনী হতে চলেছে।

এখানকার পাঠকের জন্য কাজের কথাটি অঙ্ক নয়। কথাটি হলো, ‘আমরা প্রকাশ্যে পাওয়া উপাদান দিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি’—এই যুক্তি আদালতে বারবার পরীক্ষিত হচ্ছে, আর পরীক্ষা করছেন এমন বাদীরা যাঁদের শেষ পর্যন্ত লড়ার সামর্থ্য আছে। অথচ প্রশ্নবিদ্ধ মডেলগুলো ইতিমধ্যেই বসে গেছে এমন পণ্যে, যার জন্য মানুষ অর্থ দেয়। বাণিজ্যিক মডেলের ওপর যিনি কিছু বানাচ্ছেন, তিনি এমন একটি উপাদানের ওপর বানাচ্ছেন যার লাইসেন্সের বৈধতা নিয়ে মামলা এখনো চলছে।

সম্পর্কিত: ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে কানাডার একটি প্রদেশের মামলা, যেখানে আইনি প্রশ্নটি কপিরাইট নয়—ক্ষতি।

সূত্র: বিবিসি

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।