প্রযুক্তি

এক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ছয় মাস পর এপিক গেমস ডেভেলপারদের বলল এআইয়ের জন্য নতুন করে তৈরি হতে

টিম সুইনি বলছেন, ডেভেলপারদের সরানো হচ্ছে ‘সর্বোচ্চ এআই ত্বরণের জন্য নতুন করে তৈরি হতে’। ব্লুমবার্গের খবর, পিছিয়ে যাওয়া ডিজনি প্রকল্পে কর্মীদের বলা হয়েছিল ‘আর হাতে কোড নয়’।

এক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ছয় মাস পর এপিক গেমস ডেভেলপারদের বলল এআইয়ের জন্য নতুন করে তৈরি হতে

ফোর্টনাইট আর আনরিয়াল ইঞ্জিনের নির্মাতা এপিক গেমস—যে ইঞ্জিনের ওপর গেম শিল্পের বড় একটি অংশ দাঁড়িয়ে—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে নিচ্ছে এমন এক মোড়, যাকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী বলছেন ‘বড় মোড়’। টিম সুইনি এক্সে এটি ঘোষণা করে বলেছেন, ডেভেলপারদের সরানো হচ্ছে ‘সর্বোচ্চ এআই ত্বরণের জন্য নতুন করে তৈরি হতে’।

আসলে যা বলা হয়েছে

সুইনির নিজের বয়ান সামর্থ্য নিয়ে, কর্মিসংখ্যা নিয়ে নয়। তিনি লিখেছেন, উদ্দেশ্য ‘কম মানুষ দিয়ে একই কাজ করা’ নয়, বরং ডেভেলপারদের এমন সরঞ্জাম দেওয়া, যাতে তাঁরা ‘আরও বেশি’ আর ‘আরও ভালো’ বানাতে পারেন—যাকে তিনি নির্মাতাদের জন্য ক্ষমতায়ন বলেছেন। পদক্ষেপটিকে তিনি বর্ণনা করেছেন এপিকের ‘এআই বিপ্লবে টিকে থাকার বিনীত লক্ষ্য’ হিসেবে।

প্রতিক্রিয়া উষ্ণ ছিল না। তাঁর থ্রেডে একটি উত্তর, যেটি ১৪ হাজার লাইক পেয়েছে, তাঁকে অভিযুক্ত করে বলেছে তিনি ঘরের মেজাজ পড়তে পারছেন না। সুইনি জবাব দিয়েছেন: ‘ঘরের অনেকেই চান এটি ২০১৬ হোক, কিন্তু তা নয়।’

যে অংশটি এপিক নিশ্চিত করেনি

ঘোষণাটি এসেছে ব্লুমবার্গের এমন এক খবরের পর, যাতে বলা হয়েছে স্টার ওয়ার্স ও মার্ভেলের চরিত্র নিয়ে ডিজনির সঙ্গে একটি যৌথ প্রকল্প এপিক পিছিয়ে দিয়েছে, আর সেটির ডেভেলপারদের গেমটি শেষ করতে এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিচালকেরা কর্মীদের বলেছিলেন ‘আর হাতে কোড নয়’, আর গেমটির সব আর্ট হবে ‘পূর্ণ এআই ওয়ার্কফ্লোয়ে তৈরি’। ডিজনি প্রকল্প নিয়ে সুইনি প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, আর বিবিসি প্রতিবেদন ও বিলম্ব—দুটি নিয়েই এপিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

খবরটি পড়ার সময় এই পার্থক্যটি জরুরি। মোড় নেওয়ার কথা প্রধান নির্বাহী নিজে নিশ্চিত করেছেন। হাতে কোড লেখা বন্ধ করার নির্দেশটি একটি প্রকল্প নিয়ে ব্লুমবার্গের সূত্রে আসা খবর, যা নিয়ে এপিক মন্তব্য করেনি।

সময়টিই অস্বস্তিকর অংশ

ছয় মাস আগে এপিক নিশ্চিত করেছিল, তারা এক হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই করছে। তখন সুইনি এর কারণ হিসেবে বলেছিলেন ফোর্টনাইটে ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততা কমে যাওয়া—স্পষ্টভাবেই এআই নয়।

দুটিই সত্য হতে পারে—বাণিজ্যিক কারণে কর্মী কমানো আর আলাদাভাবে বাকিদের কাজের ধরন বদলানোর সিদ্ধান্ত। কিন্তু শিল্পের মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন ক্রমটি নিয়ে, আর ‘কম মানুষ দিয়ে একই কাজ নয়’ যতবারই বলা হোক, দুটি ঘোষণা কোন ক্রমে এসেছে তা বদলায় না।

এপিক আগেও এ জায়গায় এসেছে। ২০২৫ সালে অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন স্যাগ-আফট্রা ফোর্টনাইটে ডার্থ ভেডারের কণ্ঠ এআই দিয়ে তৈরি করা নিয়ে অভিযোগ করেছিল।

বাংলাদেশে এর মানে কী

আনরিয়াল ইঞ্জিন এখানে দূরের কোনো মার্কিন পণ্য নয়। বাংলাদেশের গেম স্টুডিও, থ্রিডি শিল্পী আর স্থাপত্য-ভিজ্যুয়ালাইজেশনের ফ্রিল্যান্সারদের বড় অংশ এর ওপরই দক্ষতা গড়েছেন—ঠিক এ কারণেই যে এটি শিখতে বিনা মূল্যে পাওয়া যায় আর আগে টাকা না নিয়ে রয়্যালটিতে চলে।

এ থেকে দুটি বিষয় আসে। এপিকের সরঞ্জাম যদি এআই-সহায়ক অ্যাসেট তৈরির দিকে সরে, তবে ওই দক্ষতা অর্জন সস্তা হয়ে যায়—যা মন্ট্রিয়লের প্রতিষ্ঠিত স্টুডিওর চেয়ে ঢাকা বা সিলেটে সবে শুরু করা কারও অনেক বেশি কাজে লাগে। দেখতে ভালো একটি থ্রিডি দৃশ্য বানানোর বাধা নেমে যায়।

কিন্তু আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশি স্টুডিওরা মূলত যে কাজ পেয়েছেন, তা পাইপলাইনের শ্রমঘন মধ্যভাগ: মডেলিং, টেক্সচারিং, রিগিং, লেভেল সাজানো। ‘পূর্ণ এআই ওয়ার্কফ্লো’ ঠিক ওই কাজটিকেই লক্ষ্য করে। যে বদল ঢোকার বাধা কমায়, সেই একই বদল ভেতরে ঢুকে যা বিক্রি হতো তার বড় অংশ সরিয়ে দেয়।

একই প্রশ্নের অন্য প্রান্তটি আছে গেমের কাজ আসলে কত আয় দেয় সেই লেখায়।

যে দক্ষতাটি এখনো বিক্রি হবে

আতঙ্কিত হওয়ার আগে একটি পার্থক্য দেখা দরকার: এআই যা ভালো পারে তা হলো অ্যাসেট বানানো, আর যা পারে না তা হলো কোন অ্যাসেটটি দরকার তা ঠিক করা।

একটি গেমের স্তরে আলো কোথায় পড়বে, খেলোয়াড়ের চোখ কোথায় যাবে, কোন দরজাটি খোলা মনে হবে—এগুলো নকশার সিদ্ধান্ত, আর এগুলো প্রম্পট লিখে পাওয়া যায় না। যে শিল্পী কেবল মডেল বানাতে জানেন, তাঁর কাজ সস্তা হয়ে যাবে। যিনি জানেন কেন একটি দৃশ্য কাজ করে, তাঁর কাজ বরং দামি হবে—কারণ তিনি এখন দশ গুণ বেশি অ্যাসেট সামলাতে পারবেন।

বাংলাদেশি স্টুডিওর জন্য ব্যবহারিক পরামর্শটি তাই অপ্রত্যাশিত: এআই এড়িয়ে চলা নয়, বরং পাইপলাইনের যে অংশে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেদিকে সরে আসা। আউটসোর্সের কাজে সেটি শুরু হয় একটি প্রশ্ন দিয়ে—আমরা কি কেবল যা বলা হয়েছে তা বানাচ্ছি, নাকি কী বানানো উচিত সে বিষয়ে পরামর্শও দিচ্ছি।

সূত্র: বিবিসি নিউজবিট, ডিজনি প্রকল্পের বিবরণ ব্লুমবার্গের বরাতে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।