ক্লাউডে নয়, যন্ত্রে বসেই এআই মডেল চালানোর উপযোগী তিনটি কম্পিউটার বাংলাদেশের বাজারে এনেছে গিগাবাইট। পরিবেশক স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড।
বাজারে যা এসেছে
এআই টপ ১০০ ডব্লিউ৮৮০ মডেলে আছে ইন্টেল কোর আলট্রা ৯ প্রসেসর ও এনভিডিয়া আরটিএক্স ৫০৯০ গ্রাফিকস কার্ড। দাম ১৪,০০,০০০ টাকা।
এআই টপ অ্যাটম মডেলে আছে এনভিডিয়ার গ্রেস ব্ল্যাকওয়েল সুপারচিপ, ১২৮ গিগাবাইট মেমোরি ও ৪ টেরাবাইট ধারণক্ষমতা। দাম ১০,০০,০০০ টাকা।
সঙ্গে এসেছে ঈগল সিরিজের নতুন ল্যাপটপ: এএমডি রাইজেন ৫, এনভিডিয়া আরটিএক্স ৩০৫০, ১৬ ইঞ্চি পর্দা। দাম ১,৪৭,০০০ টাকা।
গিগাবাইটের তথ্যমতে, ডেস্কটপগুলোয় সরাসরি যন্ত্রে এআই মডেল চালানোর সুবিধা আছে, আর গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ ও গেমিংয়ের চাহিদা মাথায় রেখেই এগুলো আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ম্যানেজার খাজা মো. আনাস খান প্রথম আলোকে বলেছেন, যন্ত্রেই সরাসরি এআইয়ের কাজ হওয়ায় ক্লাউডের ওপর নির্ভরতা কমবে, ব্যক্তিগত কম্পিউটারে এআইভিত্তিক কাজ, গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ সহজ হবে।

দাবিটি সত্য, তবে অসম্পূর্ণ
ক্লাউড-নির্ভরতা কমা বাস্তব সুবিধা, আর কিছু ক্রেতার জন্য এটিই একমাত্র বিবেচনা। রোগীর নথি, আর্থিক তথ্য, আইনি দস্তাবেজ—এমন কিছু নিয়ে কাজ করলে, যা দেশের বা ভবনের বাইরে যেতে পারে না, তখন স্থানীয় যন্ত্র খরচের হিসাব নয়। তখন এটিই একমাত্র বৈধ পথ। ইন্টারনেট সংযোগ এতটাই অনিশ্চিত হলে যে আপলোড টাইম-আউট হয়ে একটি বিকেল নষ্ট হয়, তখনো একই কথা।
কিন্তু ‘ক্লাউড-নির্ভরতা কমায়’ আর ‘খরচ কম পড়ে’—এই দুটি এক কথা নয়। শোরুমে দাঁড়িয়ে দুটি প্রায়ই মিলিয়ে ফেলা হয়।
যে হিসাবটি কেউ দামের ট্যাগে লেখে না
১৪ লাখ টাকা মানে বর্তমান হারে মোটামুটি ১১,৫০০ ডলার। ক্লাউড থেকে তুলনীয় উঁচু মানের একটি জিপিইউ ঘণ্টার হিসাবে ভাড়া নিতে খুব মোটা দাগে ঘণ্টায় কয়েক ডলার লাগে—অর্থাৎ শুধু কম্পিউটিংয়ের হিসাবে কেনার খরচ উঠতে কয়েক হাজার ঘণ্টার ভাড়ার সমান সময় লাগবে।
দিনে আট ঘণ্টা, সপ্তাহে ছয় দিন চলা একটি যন্ত্র বছরে কাজে থাকে প্রায় ২,০০০ ঘণ্টা। এই ব্যবহারে দুই বছরের মধ্যে ওয়ার্কস্টেশন কেনার পক্ষে যুক্তি দাঁড়ায়। সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা চলা যন্ত্রে দাঁড়ায় না: সেটি ১৪ লাখ টাকার একটি সম্পদ, যা বসে বসে অবচয়িত হচ্ছে—আর যে ক্লাউড বিল সে প্রতিস্থাপন করল, তা এর চেয়ে কম হতো।
এরপর যোগ করুন দামের ট্যাগে যা নেই। টানা লোডে বিদ্যুৎ বিল। ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা, যা ঢাকায় উপেক্ষণীয় খরচ নয়। বিকল্প বিদ্যুৎ, কারণ প্রশিক্ষণের মাঝপথে ৫৭৫ ওয়াট শ্রেণির একটি কার্ড লোডশেডিং সহ্য করে না। আর ওয়ারেন্টি ও যন্ত্রাংশের সরবরাহ—পরিবেশকের কাছে এটি সরাসরি জেনে নেওয়া দরকার, কারণ দেশে একটি আরটিএক্স ৫০৯০ নষ্ট হলে পরদিনই বদলে পাওয়া যায় না।
কোন যন্ত্র কোন কাজের
দুটি ডেস্কটপ সত্যিই আলাদা ধরনের যন্ত্র, আর দাম এখানে প্রত্যাশা উল্টে দেয়। ১০ লাখ টাকার অ্যাটম হলো গ্রেস ব্ল্যাকওয়েল যন্ত্র, যার ১২৮ গিগাবাইট একীভূত মেমোরি—অর্থাৎ বড় মডেল আদৌ মেমোরিতে ধরে রাখতে পারে এটিই। ১৪ লাখ টাকার ডব্লিউ৮৮০ হলো গেমিং বংশের দ্রুততর কার্ড। স্থানীয়ভাবে বড় মডেল চালাতে বা ফাইন-টিউন করতে সাধারণত বাধাটা আসে মেমোরির পরিমাণ থেকে, কেবল গতি থেকে নয়।
১,৪৭,০০০ টাকার ঈগল ল্যাপটপ সম্পূর্ণ আলাদা শ্রেণির। রাইজেন ৫-এর সঙ্গে আরটিএক্স ৩০৫০ একটি সক্ষম ল্যাপটপ, ছোট মডেল আর বড় মডেলের কোয়ান্টাইজড সংস্করণ চালাবে। এটি প্রশিক্ষণের যন্ত্র নয়; গুরুতর স্থানীয় এআই কাজের আশায় এটি কেনা ভুল হবে।
কেনার আগে একটি বিষয় দেখে নিন
দেশে যন্ত্রাংশের দাম অস্থির ছিল। মেমোরি–সংকটে সেপ্টেম্বরজুড়ে ঢাকায় র্যামের দাম আবার বেড়েছে, সঙ্গে নড়েছে গ্রাফিকস কার্ডের দামও। মেয়াদের তারিখসহ লিখিতভাবে দাম নিন, আর নিশ্চিত হয়ে নিন অঙ্কটিতে ভ্যাট ধরা আছে কি না—১৪ লাখ টাকার দর চালানে ১৬ লাখ হয়ে গেলে খরচ ওঠার হিসাব অনেকটাই পাল্টে যায়।
আর কাজ যদি বাংলায় হয়, প্রতিশ্রুতির আগে পরীক্ষা করে নিন। বাংলায় মডেলের কাজ এখনো প্রশিক্ষণের তথ্য কত কম, তাতেই সীমাবদ্ধ—যত বড় স্থানীয় জিপিইউ-ই হোক, তা এটি সারায় না।




