প্রথম আলোয় লিখেছেন টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রেমিজিউস রেমী। শুরুটা একটি দৃশ্য দিয়ে: রোববার সকাল ৮টা, চায়ের কাপ হাতে ৪৫ বছর বয়সী সালমা (ছদ্মনাম) বলছেন, ‘এআই আমার জন্য নয়, ওসব কম বয়েসীদের কাজ।’
তাঁর জবাব, এআই শেখা সাইকেল চালানো শেখার মতো। একবার শুরু করলেই হয়, কোনো বয়স লাগে না। এরপর আসে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা, দিনে দশ মিনিট।
পরিকল্পনাটি
রোববার। একটা সহজ প্রশ্ন করুন, যেমন ‘আজ রান্নায় কী করব?’
সোমবার। একটা ই-মেইল বা আবেদনের খসড়া লিখিয়ে নিন।
মঙ্গলবার। কঠিন কোনো বিষয় ‘দশ বছরের শিশুর মতো করে’ বোঝাতে বলুন।
বুধবার। এআইয়ের দেওয়া একটা তথ্য অন্য উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
বৃহস্পতিবার। আগের প্রশ্ন আরও পরিষ্কার করে আবার লিখুন।
শুক্রবার। অ্যাপের গোপনীয়তা সেটিংস দেখে নিন।
শনিবার। কী শিখলেন, নিজের ভাষায় লিখে রাখুন।
প্রতিদিন দশ মিনিট, বাড়তি কোনো খরচ বা বিশেষ জ্ঞান ছাড়াই—একটা স্মার্টফোন আর কৌতূহল হলেই চলবে।
তাঁর সতর্কবার্তাটি স্পষ্ট এবং ঠিক: পুরো সপ্তাহে কোথাও ব্যক্তিগত পরিচয়, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংক ও কার্ডের তথ্য কখনো লিখবেন না। ভুল করাটা শেখারই অংশ; কেউ আপনাকে নম্বর দিচ্ছে না।

যা বাদ পড়েছে: কোন অ্যাপ
কী খুলতে হবে, লেখাটি তা বলেনি—আর প্রথমবারের ব্যবহারকারীর জন্য ঠিক এই ধাপেই সপ্তাহটা আটকে যায়। বড় বিনা মূল্যের চ্যাটবটগুলোর যেকোনোটিই চলবে—চ্যাটজিপিটি, ক্লদ, জেমিনি বা কোপাইলটের ফ্রি সংস্করণ। অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকে ইনস্টল করুন, কোনো বার্তায় আসা লিংক থেকে নয়; আর প্রথম সপ্তাহে কোনো কিছুর জন্য টাকা দেবেন না।
কাজ যদি বাংলায় হয়, ইংরেজির তুলনায় ফল লক্ষণীয়ভাবে দুর্বল হবে—এটুকু আশা করেই রাখুন। এটি আপনার প্রশ্ন খারাপ হওয়ার কারণে নয়। প্রশিক্ষণের তথ্য কত কম, সে কারণেই বাংলাকে এখনো স্বল্প-সম্পদের ভাষা গণ্য করা হয়, আর এই সব যন্ত্রই সেই সীমা বহন করে।
‘গোপনীয়তা সেটিংস দেখে নিন’ মানে আসলে কী
শুক্রবারের পরামর্শটি ভালো, কিন্তু কাজে লাগানোর মতো স্পষ্ট নয়। খুঁজে বের করার মতো তিনটি সুইচ আছে, আর প্রায় সব অ্যাপেই সেগুলো একই জায়গায়:
প্রশিক্ষণ। আপনার কথোপকথন মডেল উন্নত করতে ব্যবহার হয় কি না। অপশনটি থাকলে বন্ধ করে দিন।
ইতিহাস। আলাপ জমা থাকে কি না, আর মুছবেন কীভাবে। সপ্তাহের যা কিছু অন্য কেউ পড়ুক চান না, মুছে ফেলুন।
মেমোরি। অ্যাপটি এক আলাপ থেকে আরেক আলাপে আপনার সম্পর্কে কিছু মনে রাখে কি না। এটি চালু আছে কি না, আপনার নিজের তথ্য আপনাকেই ফিরিয়ে বলার আগে জেনে রাখা ভালো।
বুধবারই পুরো সপ্তাহ
পরিকল্পনায় মিলিয়ে দেখাকে সাত দিনের একটি দিন হিসেবে রাখা হয়েছে। অথচ বাকি ছয় দিন কাজে লাগল কি না, তা ঠিক করে এই দিনটিই।
উত্তর জানা থাকুক বা না থাকুক, চ্যাটবট সাবলীল ও আত্মবিশ্বাসী লেখা তৈরি করে—আর সেই আত্মবিশ্বাস নির্ভুলতার সঙ্গে ওঠানামা করে না। যিনি কখনো মিলিয়ে দেখেন না, তিনি যন্ত্রটি কোথায় ব্যর্থ হয় তা শেখেন না; তিনি শেখেন সমানভাবে বিশ্বাস করতে—যা ব্যবহার না করার চেয়েও খারাপ। স্কটল্যান্ডের একটি স্কুল এমন একজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে, যাঁর পুরো কাজই শিক্ষার্থীদের এটি বিশ্বাস না করতে শেখানো—প্রাতিষ্ঠানিক মাপে একই শিক্ষা।
তাই বুধবারে একটি সংশোধন: যে তথ্য যাচাই করতে পারবেন না, সেটি বাছবেন না। উত্তর আপনার আগেই জানা—এমন কিছু জিজ্ঞাসা করুন: নিজের পরিবারের একটি তারিখ, স্থানীয় বাসভাড়া, আপনি খেলেন এমন কোনো খেলার নিয়ম। যাচাই করা যায় এমন কিছুতে যন্ত্রটিকে ভুল করতে দেখা—সপ্তাহের সবচেয়ে মূল্যবান দশ মিনিট সেটিই।
আর শনিবারে একটি সংযোজন
রেমীর শেষ দিনে বলা হয়েছে, কী শিখলেন লিখে রাখুন। দ্বিতীয় একটি লাইন যোগ করুন: কোন কাজে এটি ব্যবহার করবেন না। ভ্রমণের বুকিং আর লেনদেনেই স্ক্যামের ঝুঁকি থাকে—৮০ শতাংশের বেশি মানুষ এখন সপ্তাহে একটি ভুয়া বার্তা পান—আর যে চ্যাটবট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আপনাকে একটি ফোন নম্বর বা পেমেন্ট লিংক ধরিয়ে দেয়, সে এমন কিছু দিয়েছে যার দায় সে নিতে পারে না।
এতে দক্ষ হয়ে ওঠারও একটি মূল্য আছে, যা পরে আবিষ্কার করার চেয়ে শুরুতেই বলে নেওয়া ভালো: ভাবনার কাজ অন্যকে দিয়ে দিলে আপনি কী মনে রাখছেন, তাতে মাপা যায় এমন প্রভাব পড়ে। যন্ত্রটি শিখতে দিনে দশ মিনিট যুক্তিসংগত। ভাবনা এড়াতে সারা জীবন দিনে দশ মিনিট—সেটি আলাদা অভ্যাস।




