প্রযুক্তি

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই আইসিটি একাডেমি চালাবে হুয়াওয়ে, আর শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ হবে বিনা মূল্যে

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক ও হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মা বেনের সই করা সমঝোতা স্মারকে ক্যাম্পাসে বসছে হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমি, বিনা মূল্যে এআই প্রশিক্ষণসহ।

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই আইসিটি একাডেমি চালাবে হুয়াওয়ে, আর শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ হবে বিনা মূল্যে

বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সই হওয়া এক সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এআইনির্ভর কাজের জন্য প্রশিক্ষণ দেবে হুয়াওয়ে।

চুক্তিতে সই করেছেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক ও হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মা বেন। বিষয়টি জানিয়েছে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ।

চুক্তিতে যা আছে

এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বসবে হুয়াওয়ে আইসিটি একাডেমি, আর শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে এআইনির্ভর প্রশিক্ষণ পাবেন। প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে হুয়াওয়ের অনলাইন কর্মসূচির মাধ্যমে, যা শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে নিতে পারবেন, আর শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

মোসাদ্দিক বলেছেন, আইসিটি ও এআই ক্ষেত্রে হুয়াওয়ে বিশ্বমানের সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে, আর শিক্ষার্থীরা সেরাদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাবেন। মা বেন বলেছেন, বাংলাদেশের উদ্ভাবনী অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে এবং এর জন্য দক্ষ জনবল দরকার; প্রতিষ্ঠানটি শিল্প ও শিক্ষার মধ্যে সেতু গড়ে তরুণদের ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে চায়।

আসলে যা দেওয়া হচ্ছে, আর যা নয়

অংশগুলো আলাদা করা দরকার, কারণ করপোরেট একাডেমির ঘোষণাকে হয় দানশীলতা নয় বিপণন ধরে নেওয়া হয়—আর সাধারণত সেটি কোনোটিই নয়।

যা দেওয়া হচ্ছে তা সত্যিকারের: কাঠামোবদ্ধ পাঠ্যক্রম, অনলাইনে সরবরাহ যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কাউকে নিয়োগ দিতে হয় না, নিয়োগদাতার কাছে ওজন আছে এমন সনদ, আর শিক্ষকদের দেখার মতো একটি অগ্রগতির পর্দা। যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শূন্য থেকে এআই পাঠ্যক্রম গড়া কঠিন, তার জন্য এটি উল্লেখযোগ্য হস্তান্তর।

এটিও সত্যি যে ভেন্ডরের একাডেমি ভেন্ডরের প্রযুক্তিই শেখায়। এই পথে সনদ পাওয়া শিক্ষার্থী এআই শেখেন হুয়াওয়ের সরঞ্জাম যেভাবে তা বাস্তবায়ন করে সেভাবে—যা চাকরির দিক থেকে মূল্যবান, আর ভেন্ডর-নিরপেক্ষ শিক্ষার সমান নয়। এটি চুক্তির সমালোচনা নয়—সিসকো ও ওরাকলসহ গোটা শিল্পেই এটিই চেনা ব্যবস্থা—তবে নিজের শেখার কতটা একটি পথে রাখবেন তা ঠিক করার সময় শিক্ষার্থীর এটি জানা দরকার।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশের এআই শিক্ষায় দুষ্প্রাপ্য জিনিসটি পাঠ্যক্রম নয়। পাঠ্যক্রম অনলাইনে বিনা মূল্যে আর প্রচুর। দুষ্প্রাপ্য হলো তত্ত্বাবধান করতে পারেন এমন শিক্ষক, নিয়োগদাতা চেনেন এমন সনদ, আর তৃতীয় সপ্তাহে কোর্স ছেড়ে না দিয়ে শেষ করার মতো একটি কারণ।

এই চুক্তি তিনটিই জোগায়—এ কারণেই এটি শুনতে যতটা, তার চেয়ে বেশি কাজের। বিশেষ করে তত্ত্বাবধানের শর্তটিই বিনা মূল্যের অনলাইন উপকরণকে শেষ করা প্রশিক্ষণে বদলায়, আর এ ধরনের ঘোষণায় এই অংশটিই সবচেয়ে বেশি বাদ পড়ে।

খোলা প্রশ্নটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারে না: আসলে কতজন শিক্ষার্থী এটি শেষ করেন, আর তাঁরা কোথায় কাজ পান। হুয়াওয়ে এখানে আগেও সিডস ফর দ্য ফিউচার চালিয়েছে, আর এ ধরনের কর্মসূচির মাপ এক বছর পর চাকরির তালিকায় দেখা যায়, সই করার দিনে নয়।

শিক্ষার্থীর প্রথম যে প্রশ্নটি করা দরকার

বিনা মূল্যের প্রশিক্ষণ নেওয়ার মতোই। তবু একটি সেমিস্টার ব্যয় করার আগে সনদটি কিসের জন্য, তা জেনে নেওয়া দরকার।

ভেন্ডরের সনদ ডিগ্রির চেয়ে আলাদাভাবে কাজ করে। যে নিয়োগদাতারা আগে থেকেই ওই ভেন্ডরের যন্ত্রপাতি চালান, তাঁরা এটি সঙ্গে সঙ্গে চেনেন; বাকিরা প্রায় চেনেনই না। তাই বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক প্রশ্নটি সুনির্দিষ্ট: দেশের কোন প্রতিষ্ঠানগুলো হুয়াওয়ের অবকাঠামো চালায়, আর তারা কি নিয়োগ দিচ্ছে? টেলিকম অপারেটর ও বড় সিস্টেম ইন্টিগ্রেটরদের ক্ষেত্রে উত্তর হ্যাঁ, আর সেখানে সনদটি সত্যিকারের সুবিধা। ওয়েব পণ্য বানানো সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি প্রায় অপ্রাসঙ্গিক।

এটি একাডেমির বিপক্ষে যুক্তি নয়। যুক্তিটি হলো, শিক্ষার্থী যেন একে সাধারণভাবে এআই শিক্ষা না ভেবে বাজারের একটি অংশের দিকে তাক করা একটি যোগ্যতা হিসেবে নেন—আর সঙ্গে ভেন্ডর-নিরপেক্ষ কিছু রাখেন, যাতে মনোযোগ ছাড়া কিছুই খরচ হয় না।

সূত্র: হুয়াওয়ে বাংলাদেশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, প্রথম আলোর বরাতে।

সূত্র: প্রথম আলো

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।