রবিন বেনেট টেলফোর্ডে একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান চালান। শ্রপশায়ারজুড়ে গাড়ি চালানোও তাঁর অভ্যাস, আর রাস্তার পাশে ফেলে রাখা ময়লার পরিমাণ তাঁর কাছে মনে হয়েছিল ‘সত্যিই বিষণ্ন করে দেওয়ার মতো’।
তাই তিনি বানিয়ে ফেললেন ময়লার ড্যাশক্যাম।
এটি কীভাবে কাজ করে
রোডসাইড লিটার অ্যাপটি চলে ড্যাশবোর্ডে বসানো একটি ফোনে। বেনেট বিবিসিকে বলেন, ‘ড্যাশবোর্ডে একটি ফোন হোল্ডার লাগানো আছে, ফোনটা শক্ত করে বসিয়ে দিয়েছি।’ ‘চালু করে দিই, ব্যস—পর্দা ছুঁতে হয় না, আর এক মিনিটের মধ্যেই পর্দা কালো হয়ে যায়, ফলে কোনোভাবেই মনোযোগ নষ্ট করে না।’
এরপর সবই স্বয়ংক্রিয়। ‘প্রতি ১০ সেকেন্ডে এটি একটি ছবি তোলে, রাস্তার পাশে যে ময়লা দেখতে পায় তা দেখে, আর একটি জাতীয় মানদণ্ড অনুযায়ী তাকে নম্বর দেয়।’
এখানে তিনটি নকশাগত সিদ্ধান্ত কাজ করছে, আর সেগুলো আলাদা করে দেখা দরকার।
প্রথমটি হলো, যাত্রা শুরুর পর চালকের কাছে এটি আর কিছুই চায় না—কোনো ট্যাপ নয়, কোনো বিচার নয়, কোনো রিপোর্টের ফরম নয়। দ্বিতীয়টি হলো পর্দা অন্ধকার হয়ে যাওয়া, যা একে মনোযোগ নষ্ট করা থেকে বাঁচায় এবং প্রসঙ্গত ব্যবহারকে আইনসম্মত রাখে। আর তৃতীয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: এটি নিজের মাপকাঠি না বানিয়ে নম্বর দেয় প্রচলিত একটি জাতীয় মানদণ্ডে।

যে সংখ্যাগুলো এটি তৈরি করেছে
অ্যাপটি জমা করেছে শ্রপশায়ারে ৩ হাজারেরও বেশি এবং যুক্তরাজ্যজুড়ে ২৮ হাজারেরও বেশি ময়লার রিপোর্ট।
বেনেট এটি শুরু করেছিলেন এমন একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে, যা অন্যভাবে মেটানো যাচ্ছিল না: সমস্যাটি কি কেবল তাঁর কাউন্টির, নাকি জাতীয় কিছুর অংশ। অভিযোগের সৎ রূপটি এ-ই—‘এটা ভয়াবহ’ নয়, বরং ‘অন্য জায়গার তুলনায় এটি কতটা খারাপ তা আমি জানি না, আর জানতে চাই’।
তথ্য ইতিমধ্যেই একটি ফল দিয়েছে। ময়লা বিশেষভাবে বেশি ছিল মুদিদোকান, ফাস্ট ফুডের দোকান ও মহাসড়কের সার্ভিস স্টেশনের কাছে। বেনেট বলেন, ‘মানুষ এক ব্যাগ ফাস্ট ফুড নেয়, আর ব্যাগটা জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়।’
সিদ্ধান্তটি চমকপ্রদ নয়। তবে এটি জায়গা-নির্দিষ্ট—এটি কোন ধরনের মানুষ তা না বলে কোন ধরনের জায়গা তা বলে, আর এটিই অভিযোগ আর পৌরসভার কাজ করার মতো কিছুর মধ্যে পার্থক্য।
এরপর এর কী হয়
বেনেট প্রচারণা সংগঠন ক্লিন আপ ব্রিটেন-এর কাছে গিয়ে জানতে চেয়েছিলেন তিনি কীভাবে সাহায্য করতে পারেন, আর এখন তথ্যগুলো তাদের সঙ্গে ভাগ করছেন—আশা করছেন এতে কাজ এগোবে।
শ্রপশায়ার কাউন্সিল জানিয়েছে, পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় মহাসড়ক ব্যবস্থার গুরুত্ব তারা বোঝে, আর এ-৫ ও এ-৪৯ সড়কে ময়লা ব্যবস্থাপনা উন্নত করার সুযোগ খুঁজতে তারা ন্যাশনাল হাইওয়েজের সঙ্গে কথা বলছে।
মন দিয়ে পড়ুন: একটি কাউন্সিল দুটি নির্দিষ্ট সড়ক নিয়ে আলোচনা করছে। অ্যাপটিই এর কারণ কি না তা প্রতিষ্ঠিত নয়, আর বিবিসিও সে দাবি করেনি। তবে যে পদ্ধতিটি সামনে আসছে তা যথেষ্ট পরিষ্কার—অ্যাপের আগে রাস্তার পাশের ময়লা নিয়ে অভিযোগ ছিল একটি অনুভূতি নিয়ে মতামত। এরপর তা একটি নির্দিষ্ট সড়কাংশের সঙ্গে জুড়ে থাকা একটি গণনা।
এটি বেশির ভাগ এআই-কাহিনির চেয়ে ভালো কেন
এখানে এমন কোনো মডেল নেই, যা গুরুতর কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এটি প্রকাশিত একটি মাপকাঠিতে রাস্তার পাশের ময়লাকে শ্রেণিবদ্ধ করে, আর মাঝেমধ্যে কোনো সড়কপাশকে ভুল নম্বর দিলেও কারও ক্ষতি হয় না।
ঠিক এ কারণেই এটি ভালো ব্যবহার। স্বয়ংক্রিয়তা যেটিতে নিঃসংশয়ে ভালো, এআই এখানে সেটিই করছে: একঘেয়ে, পুনরাবৃত্ত একটি বিচার এমন পরিমাণে করা, যা কোনো মানুষ টেনে নিতে পারবেন না। ২৮ হাজার পর্যবেক্ষণের জন্য কেউ প্রতি দশ সেকেন্ডে সড়কপাশের ছবি তুলবেন না। যন্ত্র তুলবে, আর তার ফল একটি তথ্যভান্ডার—কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
এখানে এর যে রূপটি কাজ করত
বাংলাদেশের বহু সমস্যা এখন মাপা হয় না, নিয়ে তর্ক হয়—অবৈধ ময়লা ফেলা, বৃষ্টির পর নির্দিষ্ট কিছু সড়কাংশে জলাবদ্ধতা, ভাঙা ফুটপাত, বাতিহীন রাস্তা, কোনো একটি রুটের খানাখন্দ। এই ধাঁচটি সেখানে বসে যায়।
বেনেটের সংস্করণটিকে যা কার্যকর করেছে, তা মডেল নয়। তা হলো—মাপার জন্য তিনি একটি জাতীয় মানদণ্ড খুঁজে নিয়েছেন, ফলে তাঁর সংখ্যাগুলোর অর্থ আর সবার সংখ্যার অর্থের সঙ্গে মেলে; আর তিনি তথ্যগুলো এমন একটি সংগঠনকে দিয়েছেন, যাদের কাজই এ নিয়ে চাপ দেওয়া। কীভাবে পড়তে হবে তা নিয়ে কারও সম্মতি নেই এমন একটি তথ্যভান্ডার, যা বিশেষ কাউকে দেওয়া হয়নি, কিছুই বদলায় না।
এই প্রকল্পের কারিগরি অংশটিই সহজ অংশ, আর সেটি বানিয়েছেন বিরক্ত এক মানুষ নিজের অবসরে। কঠিন অংশগুলো ছিল একটি মানদণ্ড বেছে নেওয়া আর ফলাফল হাতে তুলে দেওয়ার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া।




