উদীয়মান জৈব হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে জাতীয় এআই বায়োসিকিউরিটি ল্যাব গড়ছে যুক্তরাজ্য। বুধবারের বাজেটে প্রতিষ্ঠানটির জন্য বরাদ্দ ১০ কোটি পাউন্ড, আর সরকার একে বলছে ‘বিশ্বে প্রথম’।
ঘোষণায় যা আছে
ল্যাবটির পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের জন্য আরও ১২ কোটি পাউন্ড বরাদ্দের অঙ্গীকার করেছেন; ২০২৩ সালে গড়া এ প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে উন্নত মডেলগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন করে। সাইবার, জৈব ও এআই-সংশ্লিষ্ট হুমকি মোকাবিলার নানা উদ্যোগে আরও কয়েক কোটি পাউন্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
জন হিলি বলেছেন, ‘এআই দৈনন্দিন জীবন বদলে দেবে: প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, জনগোষ্ঠী, হাসপাতাল, বিদ্যালয়—অর্থনীতির প্রতিটি দিকই এতে উপকৃত হতে পারে। শ্রমজীবী মানুষের উদ্বেগ আমি বুঝি এবং ভাগ করে নিই, তাই এআই নিয়ে আমি স্বতন্ত্রভাবে ব্রিটিশ একটি পথ নিচ্ছি—যা কর্মীদের পিছিয়ে ফেলে না, আর জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে।’

এআইবিষয়ক মন্ত্রী কনিষ্ক নারায়ণ ল্যাবটিকে বলেছেন ‘বড় একটি নতুন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান’, যেখানে একত্র হবে ‘বিশ্বসেরা বৈজ্ঞানিক দক্ষতা’—লক্ষ্য ‘সাইবার হামলা থেকে জৈব ঝুঁকি পর্যন্ত উদীয়মান হুমকির চেয়ে এগিয়ে থাকা, আর আমাদের নিরাপত্তা যেসব জরুরি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে সেগুলোর বেশি অংশ নিজেরা গড়া’।
পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিধি এখনো প্রকাশ্য নয়।
তহবিলের যে দিকটিতে থামা দরকার
ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক ল্যাবটিকে সহায়তা দেবে ২০ কোটি পাউন্ড মূল্যের এআই মডেল ক্রেডিট দিয়ে—অর্থাৎ এমন হিসাবশক্তি, যা কেবল তাদেরই মডেলে খরচ করা যায়।
কথাটি দুবার পড়া দরকার। জৈব ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য গড়া একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—যে ঝুঁকির বড় অংশ আসে এআই ব্যবস্থা থেকেই—আংশিক সম্পদ পাচ্ছে সেই ব্যবস্থা যারা বানাচ্ছে তাদের দুজনের কাছ থেকে, আর তা-ও এমন মুদ্রায় যা কেবল তাদের কাছেই ভাঙানো যায়। এটি কেলেঙ্কারি নয়, আর ল্যাবটিকে দ্রুত কাজে নামানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়ও হতে পারে। কিন্তু এটি একটি নির্ভরতা, আর নির্ভরতা ঠিক করে দেয় কী পরীক্ষা করা হবে। যে প্রতিষ্ঠানের হিসাবশক্তির বাজেট দুই সরবরাহকারীর অনুদান, তার কাঠামোগত কারণ থাকে ওই দুজনের মডেলকে প্রথম পরীক্ষার বিষয় না বানানোর।
ছোট দেশের মন দিয়ে পড়া দরকার কেন
কারণ একই প্রস্তাব সব দেশেই আসে, ছোট অঙ্কে। মডেল ক্রেডিট, সরকারের জন্য বিনা মূল্যের স্তর, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচির জন্য দান করা অবকাঠামো—এগুলোই সেই চেনা উপায়, যা দিয়ে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো দেশের বাজারে ঢোকে, আর এগুলো সত্যিই কাজে লাগে। বাংলাদেশ ২০২৬–২০৩০ সালের জন্য নিজের জাতীয় এআই নীতিমালার খসড়া করছে, আর সেই নথিকে একসময় বলতেই হবে—যাদের নিয়ন্ত্রণ করার কথা, তাদের কাছ থেকে সম্পদ নেওয়ার প্রশ্নে অবস্থান কী।
কাজের প্রশ্নটি নেব কি নেব না, তা নয়। প্রশ্নটি হলো স্বাধীনতার দাম কত আর তা দিচ্ছে কে: ক্রেডিট ফুরিয়ে গেলে সক্ষমতাও কি থেমে যায়? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রক নয়, গ্রাহক—প্রতিষ্ঠার ঘোষণাপত্রে যা-ই লেখা থাকুক।
জৈব নিরাপত্তা কেন, আর এখনই কেন
নির্দিষ্ট আশঙ্কাটি এই নয় যে কোনো এআই মডেল নিজেই জীবাণু বানিয়ে ফেলবে। আশঙ্কা হলো, সক্ষম একটি সাধারণ মডেল সেই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞতার মাত্রা নামিয়ে আনে, যা আগে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ ছাড়া সম্ভব ছিল না—অর্থাৎ জ্ঞানের সমস্যাটিকে বদলে দেয় নাগালের সমস্যায়। এ কারণেই এ ক্ষেত্রের মূল্যায়নে জোর দেওয়া হয় মডেলটি একজন জেদি অ-বিশেষজ্ঞকে কী ব্যাখ্যা করে দেবে তার ওপর, মডেলটি নিজে কী করতে পারে তার ওপর নয়।
এ কারণেই সময়টি যতটা বৈজ্ঞানিক, ততটাই রাজনৈতিক। বাজেটে জৈব নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা—সঙ্গে এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের জন্য ১২ কোটি পাউন্ড—সরকারকে বলতে দেয় যে তারা এআই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, অথচ কোনো পণ্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে না। সক্ষমতা গড়া সত্যিই কাজের, আর সংযমের চেয়ে তা আইনে পরিণত করা অনেক সহজ।
বাংলাদেশের খসড়া নীতিমালাতেও একই প্রলোভন আছে: প্রশিক্ষণ ও কেন্দ্র গড়ার প্রতিশ্রুতি লেখা সহজ, আর কোন কাজে এআই ব্যবহার করা যাবে না তা লেখা কঠিন। প্রথমটির জন্য বাজেট লাগে; দ্বিতীয়টির জন্য রাজনৈতিক সাহস।
সম্পর্কিত: এআই মডেলকে বুঝিয়ে জৈব অস্ত্রের ব্যাখ্যা বের করা।




