‘টেক ব্রো আর অলিগার্কদের’ হাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ছেড়ে দিতে পারে না ব্রিটেন—বিবিসির পলিটিক্যাল থিংকিং পডকাস্টে বলেছেন যুক্তরাজ্যের এআইবিষয়ক মন্ত্রী কনিষ্ক নারায়ণ। তাঁর যুক্তি, এ প্রযুক্তি সামলাতে কেবল নিয়ন্ত্রণ নয়, দরকার ‘রাষ্ট্রের ভেতরে সক্ষমতা ও ধারণক্ষমতা গড়া’।
এর কেন্দ্রে থাকা সংখ্যাটি
নারায়ণ জানিয়েছেন, সম্প্রতি সরকার হোয়াইটহলের ব্যবস্থায় সাইবার নিরাপত্তার ত্রুটি খুঁজতে ফ্রন্টিয়ার এআই মডেল ব্যবহার করেছে। তাঁর কথায়, ‘এতে আমাদের খরচ হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার পাউন্ড’—আর ওই কাজেই সরকারি ব্যবস্থায় ৫০০টি নতুন দুর্বলতা ধরা পড়েছে।
আশপাশের উক্তিগুলোর চেয়ে এ সংখ্যাটিই বেশি মনোযোগ দাবি করে। তেরো হাজার পাউন্ড মোটামুটি একটি ব্যবহৃত গাড়ির দাম। একটি জাতীয় সরকার যদি ওই টাকায় নিজের পুরো ব্যবস্থায় এআই-সহায়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা চালাতে পারে, তবে খরচ আর কারও জন্যই না করার কারণ থাকে না—প্রশ্নটি হয়ে দাঁড়ায়, এত দিন কেন করা হয়নি।

তিনি যে যুক্তি দিচ্ছেন
জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের প্রথম এআইবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নারায়ণ এ পরিবর্তনের পরিসরকে তুলনা করেছেন শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে, আর বলেছেন এটি ‘কোনো কোনো দিক থেকে তাকেও ছাড়িয়ে যায়’। তাঁর সতর্কবার্তা গন্তব্য নিয়ে নয়, রূপান্তর নিয়ে: শিল্পবিপ্লবে ‘সামগ্রিক ফল দেশের জন্য ভালো হয়েছিল, কিন্তু রূপান্তরটি বহু মানুষের জন্য ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক’।
তিনি বলেন, ‘মূল কথা হলো, ব্রিটিশ জনগণ ও গণতন্ত্রকেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে, টেক ব্রো আর অলিগার্কদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’ কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম তিনি বলেননি। ‘নিয়ন্ত্রণের লিভার টানার’ পাশাপাশি তাঁর যুক্তি, ব্রিটেনকে দেশেই এআই গড়তে হবে ‘যাতে কাজের শর্তগুলো আপনি ঠিক করতে পারেন’—আর তিনি যোগ করেন, ‘জরুরি কিছু প্রযুক্তির জন্য আমরা এখন পুরোপুরি অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল।’
তাঁর এ কথাগুলো ধারণ করা হয়েছিল বার্কলেজের এআই-নির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগে ৫ হাজার পদ কমানোর ঘোষণার আগের দিন, আর এআইয়ের সহায়তায় পাওয়া পিএইচপির ত্রুটি প্রকাশ্যে আসারও আগে।
যে বাক্যটি এ দেশে অনুবাদ ছাড়াই খাটে
‘জরুরি কিছু প্রযুক্তির জন্য আমরা এখন পুরোপুরি অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল।’ একজন ব্রিটিশ মন্ত্রী ব্রিটেনের কথা বলছেন। কথাটি এতটুকু না বদলেই বাংলাদেশের বর্ণনাও—যেখানে ক্লাউড বিদেশি, মডেল বিদেশি, চিপ বিদেশি, আর এখন দেশের অর্ধেক ওয়েবসাইট যে ভাষার ওপর দাঁড়িয়ে, সেটির জরুরি প্যাচও লেখা হয়েছে অন্য কোথাও।
হস্তান্তরযোগ্য অংশটি বক্তৃতা নয়। অংশটি ওই ১৩ হাজার পাউন্ড। বাংলাদেশের জাতীয় সার্ট আছে, জনমুখী ব্যবস্থাসহ ডজনখানেক মন্ত্রণালয় আছে, আর সেগুলোতে এআই-সহায়ক নিরীক্ষা চালাতে পারেন এমন মানুষেরও অভাব নেই। বাধাটিকে ধরে নেওয়া হয়েছে টাকার। এ সপ্তাহের সংখ্যাটি উল্টো কথা বলছে, আর সৎ বাধাটি হলো—কাউকে কাজটি করতে বলা হয়নি।
যা ওই ১৩ হাজার পাউন্ডে নেই
৫০০টি দুর্বলতা খুঁজে পাওয়া সস্তা অর্ধেকটা। সেগুলো বাছাই করা, কোনটি সত্যিকারের তা ঠিক করা, দায়িত্ব বণ্টন করা, নিজের নিজের ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা বিভাগগুলোর মধ্যে সমাধানের সময়সূচি সাজানো আর কাজ শেষে তা যাচাই করা—এটিই ব্যয়বহুল, ধীর ও চমকহীন অংশ, আর কোনো মডেল তা আপনার হয়ে করে দেয় না।
কথাটি বলা দরকার, কারণ শিরোনামটি ভুল সিদ্ধান্তে টানে। যে নিরীক্ষা এমন একটি তালিকা তৈরি করে যা নিয়ে কেউ কিছু করে না, সেটি নিরাপত্তা নয়, একটি নথি। হোয়াইটহলের এ কাজের আসল মাপকাঠি হবে না ১৩ হাজার পাউন্ডে এআই কতগুলো সমস্যা পেল। মাপকাঠি হবে কতগুলো বন্ধ করা গেল, আর প্রতিটিতে কত সময় লাগল।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ পার্থক্যটি আরও বড়। এখানে নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরি হয় নিয়মিতই; আটকে থাকে পরের ধাপে—কে সারাবে, কোন বাজেটে, আর না সারালে কী হবে, এ প্রশ্নগুলোর উত্তর না থাকায়।
আরেকটি কথা নিয়োগ নিয়ে। এআই দিয়ে নিরীক্ষা সস্তা হলেও সেটির ফল পড়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যে দক্ষ মানুষ লাগে, তাঁদের বেতন সস্তা নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের মানুষ ধরে রাখাই সবচেয়ে কঠিন কাজ, কারণ একই দক্ষতার বাজারদর বেসরকারি খাতে অনেক বেশি। সক্ষমতা গড়ার আলোচনায় এ অংশটিই সাধারণত বাদ পড়ে যায়।
সম্পর্কিত: একই মন্ত্রী, কেন সাইবার হামলা অনিবার্য।




