প্রযুক্তি

১৩ বছরের কমবয়সীদের জন্য অ্যাকাউন্ট বানাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। লক্ষণীয় হলো, তারা স্বীকার করে নিচ্ছে ওরা আগে থেকেই ছিল

অভিভাবক-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকে অভিভাবকের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে, থাকে ছয় অঙ্কের পিন; বাদ পড়ে স্ট্যাটাস, চ্যানেল, মেটা এআই ও অদৃশ্য বার্তা। এনক্রিপশনে হাত পড়েনি।

১৩ বছরের কমবয়সীদের জন্য অ্যাকাউন্ট বানাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। লক্ষণীয় হলো, তারা স্বীকার করে নিচ্ছে ওরা আগে থেকেই ছিল

১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য অভিভাবক-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্ট এনেছে হোয়াটসঅ্যাপ—এমন একটি অ্যাকাউন্ট, যা তৈরি ও তদারক করতে হয় বাবা-মা বা অভিভাবককেই, আর যা যুক্ত থাকে অভিভাবকের নিজের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে।

সুবিধার তালিকাটি দেখা দরকার, তবে তার নিচের সিদ্ধান্তটিই বেশি আকর্ষণীয়: যে প্ল্যাটফর্মের শর্তে বহুদিন ধরে একটি সর্বনিম্ন বয়স বাঁধা, তারাই এখন তার নিচের ব্যবহারকারীদের জন্য বানাচ্ছে।

অভিভাবক যা নিয়ন্ত্রণ করেন

  1. শিশুর কন্ট্যাক্ট তালিকা, আর অপরিচিতদের কাছ থেকে আসা বার্তার অনুরোধ।
  2. কারা শিশুটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে, আর সে কোন গ্রুপে যোগ দিতে পারবে—নতুন গ্রুপ আমন্ত্রণে অভিভাবকের অনুমোদন লাগে।
  3. অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা-সেটিং, যা কেবল অভিভাবকই বদলাতে পারেন।

এর সবই থাকে নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রে বসানো ছয় অঙ্কের অভিভাবক পিনের পেছনে। চালু করতে দুটি ফোন সামনাসামনি লাগে: কিউআর কোড স্ক্যান করে যন্ত্র দুটি যুক্ত করা হয়—অর্থাৎ অভিভাবকের সম্মতির দাবি করে কোনো শিশু দূর থেকে অ্যাকাউন্ট বানাতে পারবে না।

যা বাদ পড়ে

কিশোর অ্যাকাউন্ট থেকে বাদ যায় স্ট্যাটাস, চ্যানেল, মেটা এআই সুবিধা আর ব্যক্তিগত চ্যাটে অদৃশ্য বার্তা। থাকে বার্তা আর কল। এসব অ্যাকাউন্টে বিজ্ঞাপন দেখানো হয় না।

এই বাদ দেওয়ার তালিকাই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বলে দেয়, মেটা নিজের পণ্যের কোন অংশকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে—আর বেশির ভাগ নিরাপত্তা-ঘোষণার চেয়ে এটি অনেক সোজাসাপ্টা। চ্যানেল মানে অপরিচিতদের কাছ থেকে আসা সম্প্রচার। স্ট্যাটাস প্রায়-প্রকাশ্য একটি ফিড। অদৃশ্য বার্তা সেই প্রমাণ মুছে দেয়, পরে কোনো অভিভাবকের যা দরকার হতে পারত। মেটা এআই এমন একটি চ্যাটবট, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যার আচরণ নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা হয়েছে। প্রতিটি বাদ দেওয়াই একেকটি স্বীকারোক্তি।

অভিভাবক তবু যা পারেন না

বার্তার বিষয়বস্তু সুরক্ষিত থাকে প্রান্ত-থেকে-প্রান্ত এনক্রিপশনে। অভিভাবক ঠিক করেন শিশুটি কার সঙ্গে কথা বলতে পারবে; তিনি কথোপকথন পড়েন না, হোয়াটসঅ্যাপও পারে না।

যুক্তিটি খুলে বলা দরকার, কারণ তা স্বতঃসিদ্ধ নয়। কোনো অ্যাপ একবার দ্বিতীয় কোনো অ্যাকাউন্টের সামনে কথোপকথনের বিষয়বস্তু তুলে ধরতে পারলে ওই সক্ষমতাটি একটি সুবিধা হিসেবেই থেকে যায়—আর সুবিধা চেয়ে বসেন এমন মানুষ, অভিভাবকের তুলনায় যাঁদের দাবির ভিত্তি অনেক দুর্বল আর চাপ দেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি। তদারককে শিশুটি কী বলছে নয়, কার সঙ্গে বলছে—সেখানে আটকে রাখাই ওই দরজাটি বন্ধ রাখে।

যে সমস্যার সমাধান এর কোনোটিই করে না

বয়স। এখানকার প্রতিটি সুরক্ষা নির্ভর করে অ্যাকাউন্টটিকে ঠিকভাবে শিশুর বলে চিহ্নিত করার ওপর, আর সেটির উপায় হলো কোনো অভিভাবকের স্বেচ্ছায় একটি বানিয়ে দেওয়া।

তদারকহীন অ্যাকাউন্ট চাওয়া শিশু তা-ই করবে, শিশুরা যা সবসময় করে এসেছে: কোনো প্রাপ্তবয়স্কের নামে নিবন্ধিত হ্যান্ডসেটে সাধারণ একটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করবে। অভিভাবক-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্ট ঐচ্ছিক সেই অভিভাবকদের জন্য, যাঁরা এমনিতেই খেয়াল রাখছিলেন—হোয়াটসঅ্যাপের কিশোর-নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধেও একই কাঠামোগত সমালোচনা উঠেছিল, আর তা ন্যায্য।

এটি যা অর্জন করে তা সরু, তবু মূল্যবান: তদারক করতে চাওয়া অভিভাবককে এটি সমর্থিত একটি উপায় দেয়—ফোন ভাগ করে নেওয়া, পাসওয়ার্ড আন্দাজ করা, কিংবা তৃতীয় পক্ষের নজরদারি সফটওয়্যার বসানোর বদলে, যা সাধারণত শিশুটির নিরাপত্তার জন্য সে যা পাহারা দিচ্ছে তার চেয়েও খারাপ।

প্রয়োগ হচ্ছে ধাপে ধাপে, বিশ্বজুড়ে।

বাংলাদেশে এই ঘোষণাটি যেখানে আলাদাভাবে পড়তে হয়

এখানে ১৩ বছরের কমবয়সীদের হোয়াটসঅ্যাপে থাকার ধরনটি পশ্চিমের মতো নয়, আর সেটিই এই ব্যবস্থার সীমা ঠিক করে দেয়।

অনেক পরিবারে শিশুর নিজের ফোন নেই; সে বাবা-মায়ের ফোনেই বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে। অভিভাবক-নিয়ন্ত্রিত আলাদা অ্যাকাউন্ট ওই পরিস্থিতির কিছুই বদলায় না—কারণ সমস্যাটি অ্যাকাউন্টের মালিকানা নয়, যন্ত্রের ভাগাভাগি। আর যেখানে শিশুর নিজের ফোন আছে, সেখানে প্রায়ই সেটি দ্বিতীয় হাতের একটি পুরোনো সেট, যেখানে নতুন সংস্করণের অ্যাপ চলে না।

তাই কাজে লাগার মতো পদক্ষেপটি অ্যাপের ভেতরে নয়, বাইরে: যন্ত্রটি কার নামে, কোন অ্যাকাউন্টে লগইন করা, আর ফোনটি হাতবদল হওয়ার সময় আগের বার্তাগুলো মুছে ফেলা হয়েছে কি না—এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর ঠিক করলে যেকোনো প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের চেয়ে বেশি কাজ হয়।

সূত্র: হোয়াটসঅ্যাপের ঘোষণা; টেকক্রাঞ্চ; স্টোরিবোর্ড১৮; ক্রোমা আনবক্সড; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; আর প্রথম আলোর মূল প্রতিবেদন।

সূত্র: WhatsApp, TechCrunch, Storyboard18, Croma Unboxed, The Business Standard, Prothom Alo

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।