প্রযুক্তি

১৩ বছরের নিচের শিশুদের জন্য অভিভাবক-নিয়ন্ত্রিত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট আসছে—কীভাবে কাজ করবে

বছরের পর বছর নিয়ম ছিল সরল: ১৩-এর আগে হোয়াটসঅ্যাপ নয়। এবার মেটা আনছে তত্ত্বাবধানে থাকা অ্যাকাউন্ট, যেখানে কে শিশুকে বার্তা পাঠাতে পারবে আর কোন গ্রুপে সে যুক্ত হবে, ঠিক করবেন অভিভাবক। এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, আর বাংলাদেশের অভিভাবকদের যা জিজ্ঞেস করা উচিত।

১৩ বছরের নিচের শিশুদের জন্য অভিভাবক-নিয়ন্ত্রিত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট আসছে—কীভাবে কাজ করবে

প্রাথমিকে পড়া শিশু আছে এমন প্রতিটি পরিবার একই দরকষাকষির মুখোমুখি হয়েছে: ক্লাসের গ্রুপ হোয়াটসঅ্যাপে, কোচিং সেন্টার বাড়ির কাজ পাঠায় হোয়াটসঅ্যাপে, আর অ্যাপের নিজের নিয়ম বলে শিশুটি অ্যাকাউন্ট রাখার জন্য বড় বেশি ছোট। হোয়াটসঅ্যাপের এ সপ্তাহের ঘোষিত উত্তর: ১৩-এর নিচের ব্যবহারকারীরা নেই, এই ভান বন্ধ। প্রতিষ্ঠানটি ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য আনছে অভিভাবক-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্ট—বার্তা ও কলের সুবিধা থাকবে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি সেটিং থাকবে অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবকের হাতে।

শিশু কী পাবে, অভিভাবক কী রাখবেন

শিশুর অ্যাকাউন্টে মৌলিক সুবিধা থাকবে—বার্তা পাঠানো ও কল করা। বাকিটা ঠিক করবেন অভিভাবক: কারা অ্যাকাউন্টটিতে যোগাযোগ করতে পারবে, কোন কোন গ্রুপে যুক্ত হওয়া যাবে, আর অচেনা নম্বরের বার্তার অনুরোধ গ্রহণ করা হবে কি না। এই অনুমতিগুলো ঘটনার পরে নয়, আগে থেকেই ঠিক করে রাখা যাবে। হোয়াটসঅ্যাপ বলছে, অ্যাকাউন্টগুলো আসবে ডিফল্টভাবেই কঠোর নিরাপত্তা সেটিংস ও প্যারেন্টাল কন্ট্রোল চালু অবস্থায়—অর্থাৎ সবচেয়ে নিরাপদ কনফিগারেশনই শুরুর বিন্দু, অভিভাবককে খুঁজে বের করতে হবে না।

কেন এখন

হোয়াটসঅ্যাপ পদক্ষেপটিকে একসঙ্গে দুটি চাপের জবাব হিসেবে দেখাচ্ছে। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বহু দেশে নীতিগত ইস্যু হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে, প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, অভিভাবকেরাই এমন একটি বার্তা সেবা চেয়েছিলেন, যা ছোটদের জন্য উপযোগী ও তুলনামূলক নিরাপদ—স্কুলে থাকা সন্তান বা বিদেশে থাকা দাদা-দাদির কাছে পৌঁছানোর একটি পথ, একটি অবাধ অ্যাকাউন্ট তুলে না দিয়ে। ঘোষণাটি প্রথম জানায় রয়টার্স।

অন্যদের সঙ্গে তুলনা

মেটা ২০১৭ সাল থেকে মেসেঞ্জার কিডসে একই মডেল চালাচ্ছে, আর গুগলের ফ্যামিলি লিংক বহুদিন ধরে তত্ত্বাবধানে থাকা অ্যাকাউন্টের সুযোগ দেয়। পার্থক্য পরিসরে: বাংলাদেশে হোয়াটসঅ্যাপ দৈনন্দিন জীবনের ডিফল্ট বার্তা-স্তর—স্কুলের নোটিশ থেকে পারিবারিক গ্রুপ—তাই এখানে একটি তত্ত্বাবধানের স্তর আগের যেকোনো চেষ্টার চেয়ে অনেক বেশি শিশুর কাছে পৌঁছাবে।

সন্তানকে যুক্ত করার আগে যে প্রশ্নগুলো করা উচিত

  • অভিভাবক কি বার্তা পড়তে পারবেন? তত্ত্বাবধান বিষয়বস্তু পর্যন্ত যাবে, নাকি শুধু কন্টাক্ট পর্যন্ত—হোয়াটসঅ্যাপ বলেনি; এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন দ্বিতীয়টির ইঙ্গিত দেয়।
  • ১৩ হলে কী হবে? অ্যাকাউন্ট আপনাআপনি রূপান্তরিত হবে কি না, কোন তথ্য বহাল থাকবে—এখনো বর্ণনা নেই।
  • অভিভাবককে যাচাই করবে কে? তত্ত্বাবধানে থাকা অ্যাকাউন্ট ঠিক ততটাই নিরাপদ, যতটা নিরাপদ তা তৈরি করা প্রাপ্তবয়স্কের পরিচয় যাচাই।

সৎ সারসংক্ষেপ: তত্ত্বাবধানে থাকা অ্যাকাউন্ট বর্তমান বাস্তবতার চেয়ে ভালো, যেখানে ১৩-এর নিচের বহু শিশু ইতিমধ্যে অভিভাবকের সিমে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে। কিন্তু ‘ডিফল্টে নিরাপদ’ প্রতিশ্রুতিটি সেটিংস নিয়ে, ভেতরের কথোপকথন নিয়ে নয়—সেই অংশটি এখনো অভিভাবকদেরই।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।