প্রযুক্তি

১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর: যে রাতে দুনিয়া অপেক্ষা করল কম্পিউটার কখন ভাববে এটি ১৯০০—ওয়াইটুকে, যে ত্রুটি শত শত বিলিয়ন খরচ করাল আর, সে কারণেই, প্রায় কিছুই করল না

প্রোগ্রামাররা সাল ‘৯৯’ লিখে দুই অঙ্ক বাঁচিয়েছিলেন; ঘড়ি ‘০০’-তে গেলে বিমান, ব্যাংক ও বিদ্যুৎকেন্দ্র তা ১৯০০ পড়তে পারত। দুই বছর ও আনুমানিক ৩০০–৬০০ বিলিয়ন ডলারের মেরামতের পর সহস্রাব্দ এল কয়েকটি ভাঙা স্লট মেশিন ও একটি স্যাটেলাইটের গোলযোগ নিয়ে—যা এক প্রজন্মকে তর্কে রেখেছে আতঙ্ক ন্যায্য ছিল না মেরামত। এই তারিখে, ১৯৭৬ সালে, স্ট্যানফোর্ডের দুই রুমমেট প্রতিষ্ঠা করেন ক্রোমেমকো, প্রথম মাইক্রোকম্পিউটার কোম্পানিগুলোর একটি। আর বাংলাদেশের পাদটীকা, যার সারানোর মতো কম্পিউটার প্রায় ছিল না।

১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর: যে রাতে দুনিয়া অপেক্ষা করল কম্পিউটার কখন ভাববে এটি ১৯০০—ওয়াইটুকে, যে ত্রুটি শত শত বিলিয়ন খরচ করাল আর, সে কারণেই, প্রায় কিছুই করল না

বিংশ শতাব্দীর শেষ রাতে দুনিয়ার বড় অংশ জেগে ছিল উদ্‌যাপনে নয়, দেখতে। মধ্যরাতে আলো জ্বলে থাকবে? এটিএম কাজ করবে? কোথাও কোনো বিমানকে তার কম্পিউটার বলবে এটি ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি? এটি ছিল ওয়াইটুকে—২০০০ সাল সমস্যা, মিলেনিয়াম বাগ—আর উত্তর, যখন এল, সম্ভাব্য সবচেয়ে অদ্ভুতটি: প্রায় কিছুই ঘটল না, আর কেন, তারপর থেকে কেউ একমত হয়নি।

ত্রুটিটি কী ছিল

দশকের পর দশক প্রোগ্রামাররা, সত্যিকারের টাকা লাগা মেমোরিতে কাজ করে, সাল রেখেছিলেন দুই অঙ্কে: ১৯৭৫ ছিল ‘৭৫’, ১৯৯৯ ছিল ‘৯৯’। ব্যবস্থাগুলো এক দুই-অঙ্কের সাল থেকে আরেকটি বিয়োগ করে বয়স, সুদ, মেয়াদ ও সূচি কষত। ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে সাল হতো ‘০০’, আর এমন যেকোনো হিসাব ভুল হতো—০০ বিয়োগ ৯৯ এক বছর নয়, ঋণাত্মক ৯৯—আর কিছু ব্যবস্থা ধরে নিত তারিখ ১৯০০। কোডটি ছিল সর্বত্র: ব্যাংক ও এয়ারলাইনের মেইনফ্রেমে, টেলিফোন কোম্পানির বিলিং ব্যবস্থায়, লিফট, বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা যন্ত্রের এমবেডেড চিপে। কোনটি ব্যর্থ হবে ঠিক কেউ জানত না।

মেরামত

প্রায় ১৯৯৭ থেকে দুনিয়া করল সফটওয়্যারের ইতিহাসের বৃহত্তম রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। কোম্পানিগুলো অবসর থেকে কোবল প্রোগ্রামারদের বাহিনী ভাড়া করল তারিখ ছোঁয়া প্রতিটি লাইন কোড পড়তে; সরকারগুলো ওয়াইটুকে কমিশন গড়ল; মোট খরচ আনুমানিক ৩০০ থেকে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। এয়ারলাইন, ব্যাংক, বিমা ও ইউটিলিটি নকল মধ্যরাতের বিপরীতে ব্যবস্থা পরীক্ষা করল। আর আসলটি এলে ব্যর্থতা ছিল ছোট: ডেলাওয়্যারে কিছু স্লট মেশিন থামল, একটি মার্কিন গোয়েন্দা-স্যাটেলাইটের ভূকেন্দ্র ঘণ্টাখানেক তথ্য হারাল, অস্ট্রেলিয়ায় কয়েকটি বাসের টিকিট মেশিন আটকাল, কিছু ওয়েবসাইট তারিখ দেখাল ১৯১০০। তারপর থেকে তর্ক, দুনিয়া মেরামতে বেঁচেছে না কখনো তত বড় না হওয়া সমস্যায় ভয় পেয়েছে। সৎ উত্তর দুটোই: প্রায় কিছু খরচ না করা দেশে, যেমন ইতালি, ব্যর্থতাও কম ছিল, কিন্তু সবচেয়ে ঝুঁকির ব্যবস্থাগুলো ছিল সেই দেশে, যারা সারিয়েছিল।

১৯৭৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর: ক্রোমেমকো

একই তারিখে, তেইশ বছর আগে, ক্রোদার্স মেমোরিয়াল হলের দুই স্ট্যানফোর্ড রুমমেট হ্যারি গ্যারল্যান্ডরজার মেলেন প্রতিষ্ঠা করেন ক্রোমেমকো—হল থেকে ‘ক্রো’, কোম্পানির জন্য ‘মেমকো’—মাইক্রোপ্রসেসর-ভিত্তিক কম্পিউটার গড়তে। এক বছর আগে তাঁরা সাইক্লোপস ডিজিটাল ক্যামেরা একটি অ্যালটায়ারে যুক্ত করেছিলেন, পারসোনাল কম্পিউটারে যুক্ত প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরার একটি; ১৯৭৬ সালের অক্টোবরে এস-১০০ বাসের জেড-৮০ প্রসেসর বোর্ডের বিজ্ঞাপন দেন, আর আশির দশকের শুরুজুড়ে ক্রোমেমকো ব্যবসা ও সামরিক বাহিনীর জন্য মজবুত, সমাদৃত যন্ত্র গড়ে, ১৯৮৩ সালে শীর্ষে ৪৫০ কর্মী ও ৪.২ কোটি ডলার বিক্রিতে। ১৯৮৬ সালে ডায়ানাটেকে একীভূত; গ্যারল্যান্ড ও মেলেন ১৯৯০ সালে ক্যানন রিসার্চ সেন্টার আমেরিকা প্রতিষ্ঠা করেন।

বাংলাদেশের পাদটীকা

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে কম্পিউটার কম ছিল আর পুরোনো আরও কম; যে ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয় হয়েছিল তা নব্বইয়ের দশকে, সমস্যাটি জানার পর লেখা সফটওয়্যারে। দেশের ওয়াইটুকে অভিজ্ঞতা মূলত সেই সনদের খরচ, যা বিদেশি ক্রেতারা পোশাক রপ্তানিকারকদের কাছে চাইত তাদের ব্যবস্থা মেনে চলার প্রমাণে—ধনী দুনিয়ার সফটওয়্যার সমস্যার দাম কীভাবে, অংশত, এখানে দেওয়া হয় তার প্রাথমিক শিক্ষা।

সূত্র: Prothom Alo

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।