স্বাস্থ্য

মানুষ সেলুনে টাকা দিচ্ছেন নখ যেন অচ্ছোঁয়া দেখায় তার জন্য। সমালোচকেরা বলছেন, ওটাই আসল কথা

লন্ডনের এক সেলুনমালিক বলছেন, গ্রাহকেরা পুরো পরিচর্যা চান, কিন্তু রং চান না। এই ধারাকে পড়া হচ্ছে "নিঃশব্দ বিলাস" হিসেবে—আর এমন এক মর্যাদার চিহ্ন হিসেবে, যা নীরবে কলঙ্ক দেয় যে সাজকে সরিয়েছে তাকেই।

মানুষ সেলুনে টাকা দিচ্ছেন নখ যেন অচ্ছোঁয়া দেখায় তার জন্য। সমালোচকেরা বলছেন, ওটাই আসল কথা

গত কয়েক মাসে পালোমা বুডেমায়ার দেখেছেন, তাঁর নেইল সেলুনে একের পর এক মানুষ ঢুকছেন এমনভাবে দেখানোর লক্ষ্য নিয়ে, যেন তাঁরা কখনো সেখানে যানই না।

লন্ডনের উম্যান স্পার মালিক বলছেন, "এটা পাগলামি।" এই গ্রাহকদের নখ ঠিকই ফাইল করা হয়, ঘষে মসৃণ করা হয়, কাটা হয়। তাঁর কথায়, "কিউটিকলের কাজ হয়, ভেজানো হয়, সব আর্দ্র করা হয়—কেবল কোনো রং লাগানো হয় না।"

যা বিক্রি হচ্ছে

তিনি বলছেন, এর পেছনে আছে খালি দেখানো নখের এক ভাইরাল ঝোঁক। চকচকে নগ্ন নখের শিল্পসম্মত ছবি ছেয়ে ফেলেছে সামাজিক মাধ্যম, উঠেছে ফ্যাশন র‌্যাম্প ও রেড কার্পেটে—কেউ কেউ যাকে দেখছেন "নিঃশব্দ বিলাসের" নতুন প্রতীক হিসেবে।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, এই ধারা আসলে বলছে শ্রেণি নিয়ে, সৌন্দর্যের মানদণ্ডের অবিরাম চাকা নিয়ে, আর কে ঠিক করবে কোনটি রুচিসম্মত—তা নিয়ে। নখশিল্পের ঐতিহাসিক ও সৃজনশীল শিকড় জড়িয়ে আছে কৃষ্ণাঙ্গ, লাতিনো ও এশীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে; আর খালি নখ উঁচু মর্যাদার চিহ্ন—এই ধারণা সাহসী সাজকে কলঙ্কিত করতে পারে।

রূপচর্চাবিষয়ক সাংবাদিক ক্রিস্টিনা রোডুলফো বিবিসিকে বলেন, "এই ধারা সত্যিই ফাঁকা হওয়া আর এক ধরনের একরকম হয়ে যাওয়াকে উৎসাহ দেয়, আর মুছে দেয় সেই সংস্কৃতি ও পরিচয়—যা কৃষ্ণাঙ্গ ও বাদামি জনগোষ্ঠীর জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ।"

বাংলাদেশে এর মানে কী

এখানে কৌশলটির নাম দেওয়া দরকার, কারণ বিষয়টি নখ নিয়ে নয়। যে সাজে টাকা আর সময় লাগে, সেটিকে রুচিসম্মত বলা হয় ঠিক এ কারণেই যে তা দেখায় অনায়াস—আর যে সাজগুলোকে সরিয়ে দেয়, সেগুলো জড়িয়ে থাকে এই দুটোই কম থাকা মানুষদের সঙ্গে। "নিঃশব্দ বিলাস" আসলে দামি অদৃশ্যতা।

এই ছকটি বাংলাদেশে ভালোভাবেই চেনা, আর এখানে তা চলে অনেক বেশি নিষ্ঠুর অক্ষে। এখানে প্রধান সৌন্দর্যমানদণ্ড মিতভাষিতা নয়, ফর্সা হওয়া; আর তার ওপর গড়া ত্বক ফরসাকারী বাজার বড়, আক্রমণাত্মকভাবে বিপণন করা আর চিকিৎসাগতভাবে বিপজ্জনক। বাংলাদেশের দোকানে খোলাখুলি বিক্রি হওয়া ক্রিমে বারবার পাওয়া গেছে পারদ ও ক্লোবেটাসল—প্রথমটি কিডনির ক্ষতি ও স্নায়বিক সমস্যা ঘটায়, দ্বিতীয়টি ত্বক পাতলা করে আর স্টেরয়েড-নির্ভরতা তৈরি করে, সঙ্গে ফিরে আসা ব্রণ ও স্থায়ী রঙের বৈষম্য। সৌন্দর্যের চাকার এই সংস্করণটিই হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছায়।

শ্রেণির যুক্তিটি বিবিসির সমালোচকেরা যা বলছেন তার সঙ্গে হুবহু মেলে। ফর্সা রং মর্যাদার চিহ্ন হয়ে ওঠে, কারণ তা বোঝায় বাইরে রোদে কাজ করতে হয়নি। এই মানদণ্ড শাস্তি দেয় ঠিক সেই মানুষদেরই, যাঁদের সে বর্ণনা করে।

এ থেকে দুটি ব্যবহারিক কথা। কোনো ক্রিম যদি কয়েক সপ্তাহেই চোখে পড়ার মতো ফর্সা করে, তবে সেটি সন্তুষ্টির বদলে সন্দেহের কারণ—দ্রুত ফল মানে স্টেরয়েড বা ধাতু, ত্বকের যত্ন নয়; আর ঢাকার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা এর ফল দেখছেন নিয়মিত। আর উপাদানের তালিকা ছাড়া ব্র্যান্ডহীন বা নতুন মোড়কে ভরা ক্রিমকে আগেভাগেই অনিরাপদ ধরে নেওয়া উচিত, কারণ তাতে কী আছে জানার কোনো উপায় নেই।

নখ নিয়ে সরু কথাটিও খাটে, আর সেটি পরিচ্ছন্নতার: সেলুনে যাওয়ার সবচেয়ে কম নিরাপদ অংশটি যন্ত্র, রং নয়। কিউটিকলের কাজে ত্বক কাটে, আর যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত না করা যন্ত্র ছড়ায় ছত্রাকের সংক্রমণ, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ আর তত্ত্বগতভাবে রক্তবাহিত ভাইরাসও। আপনি যে সাজের জন্যই টাকা দিন, প্রশ্নটি করার মতো এটিই।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।