ড. ক্রিস ম্যাকার্থি বলছেন, "আমি ওই দলেরই একজন। আমি নিজের বালিশ সঙ্গে নিই।"
বিমানবন্দরে ওই মানুষদের হয়তো দেখেছেন—এক বাহুর নিচে গোঁজা বালিশ নিয়ে স্যুটকেস টেনে চেক-ইনের দিকে যাচ্ছেন। কিংবা আপনি নিজেই তাঁদের একজন—এমন এক বালিশে আটকে আছেন, যা ডুবে যাওয়ার মতো নরম, তবু এতটা মজবুত যে সকালের মধ্যে দলা পাকিয়ে যায় না।
ম্যাকার্থি বলছেন, এটি খুঁতখুঁতেমি নয়। তিনি একজন ফিজিওথেরাপিস্ট, ম্যানচেস্টার স্কুল অব ফিজিওথেরাপির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর; আর তিনি জানেন ভুল বালিশ ঘাড়ের জন্য কতটা যন্ত্রণার হতে পারে। বিদেশে নিজের বালিশ তিনি নেন না, তবে হোটেলে পৌঁছেই বালিশগুলো নিয়ে "নাড়াচাড়া" শুরু করেন—আর সবচেয়ে বাজে বালিশটিকেও ঘুমের উপযোগী করার একটি পরীক্ষিত কৌশল তাঁর আছে।
নির্ভর করে আপনার শোয়ার ভঙ্গির ওপর
বিবিসির স্লাইসড ব্রেড পডকাস্টে তিনি বলেন, সঠিক বালিশ নির্ভর করে আপনি কোন ভঙ্গিতে শোন তার ওপর। বেশির ভাগ মানুষ পড়েন তিনটি শ্রেণির একটিতে: কাত, চিত বা উল্টো।
উল্টো হয়ে শোয়ায় তাঁর নিরুৎসাহ, কারণ তাতে দীর্ঘ সময় ঘাড় এক দিকে ঘোরানো থাকে।
এর পেছনের নীতিটি এতই সহজ যে কিছু না কিনেই প্রয়োগ করা যায়: বালিশের কাজ ঘাড়কে মেরুদণ্ডের সঙ্গে এক সরলরেখায় রাখা, যাতে পেশিগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা টান হয়ে না থাকে। কাত হয়ে শোয়া মানুষের কাঁধ ও মাথার মধ্যে ফাঁকটি সবচেয়ে বড়, তাই তাঁর দরকার সবচেয়ে উঁচু বালিশ। চিত হয়ে শোয়া মানুষের দরকার অনেক কম, আর বেশি মোটা বালিশ থুতনিকে বুকের দিকে ঠেলে দেয়। উল্টো হয়ে শোয়া মানুষের জন্য ভালো কোনো বিকল্প নেই—এ কারণেই তিনি বালিশের বদলে ভঙ্গিটির বিরুদ্ধেই পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশে এর মানে কী
এ দেশে ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা অত্যন্ত সাধারণ, আর প্রায় সব সময়ই এর দায় চাপে ভুল জায়গায়। সাধারণত যে ব্যাখ্যাগুলো দেওয়া হয়—ঠান্ডা বাতাস, হাওয়া লাগা, কিংবা "গ্যাস"—অথচ আসল কারণগুলো যান্ত্রিক, আর বেশির ভাগই ঘটে দিনের বেলা।
প্রধান কারণটি ফোন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিচের দিকে পর্দায় তাকিয়ে থাকা ঘাড়কে মাথার ভার নিয়ে বাঁকা অবস্থায় ধরে রাখে, আর এটিই এখন দেশের সবচেয়ে চেনা ভঙ্গি। এর সঙ্গে যোগ করুন বাসের আসনে কুঁজো হয়ে যাওয়া-আসা, চোখের অনেক নিচে ল্যাপটপের পর্দা নিয়ে ডেস্কে কাজ, আর একটি বিশেষভাবে বাংলাদেশি উপাদান—মাথায় বা কাঁধে ভার বহন।
এই প্রেক্ষাপটে বালিশটি ঠিক করা মূল্যবান ঠিক এ কারণেই যে এটি সবচেয়ে সস্তা উপাদান। তিনটি কথায় হয়ে যায়। উচ্চতা মেলান শোয়ার ভঙ্গির সঙ্গে: কাত হয়ে শুলে উঁচু ও শক্ত, চিত হয়ে শুলে নিচু ও নরম। চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া বালিশ বদলে ফেলুন, কারণ চাপা পড়া বালিশ আদৌ কোনো অবলম্বন দেয় না—অথচ এ দেশের বেশির ভাগ পরিবার সে অবস্থার পরও বছরের পর বছর তা রেখে দেয়। আর উল্টো হয়ে শোয়া এড়িয়ে চলুন; দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাড়ে উপকার করার সম্ভাবনা এই একটি বদলেরই সবচেয়ে বেশি।
ম্যাকার্থির হোটেল-কৌশলের ঘরোয়া সংস্করণটিও কাজ করে। বেশি চ্যাপ্টা বালিশের কিনারার নিচে ভাঁজ করা তোয়ালে বা পাতলা কুশন দিলে ঘাড়ের যেখানে দরকার সেখানে উচ্চতা যোগ হয়; আর বেশি মোটা বালিশকে কাজের করে তোলা যায় তার কিনারার দিকে শুয়ে। দুটোরই খরচ শূন্য।
একটি সতর্কতা। যে ঘাড় ব্যথা হাত বেয়ে নিচে নামে, কিংবা সঙ্গে আসে অবশ ভাব, ঝিনঝিন বা হাতে দুর্বলতা—সেটি বালিশের সমস্যা নয়; তাতে স্নায়ু জড়িত থাকার ইঙ্গিত থাকে, আর সেটি বিছানার জিনিস কেনার বদলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কারণ। আর ঘাড়ের বদলে সঙ্গীর নাক ডাকাই যদি আপনার ঘুম ভাঙায়, সেটি আলাদা সমস্যা—তা নিয়ে লিখেছি নাক ডাকা পাশের মানুষটির কী করে লেখায়।




