স্বাস্থ্য

শৈশবে তাঁর সঙ্গে কী করা হয়েছিল, তা তিনি বুঝেছেন বিয়ের পর ব্রিটেনে গিয়ে

সুদানে বড় হওয়া সারা কাহসাই ২০২২ সালে চলে আসেন বার্মিংহামে। সংসার গোছানোর সময় তিনি বুঝতে পারেন, তিনি নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতির শিকার—আর যে ব্যথা নিয়ে তিনি বেঁচে ছিলেন, তা বুঝতে শুরু করেন।

শৈশবে তাঁর সঙ্গে কী করা হয়েছিল, তা তিনি বুঝেছেন বিয়ের পর ব্রিটেনে গিয়ে

সারা কাহসাই বড় হয়েছেন সুদানে; শহরটির এক বাসচালককে বিয়ে করে ২০২২ সালে চলে আসেন বার্মিংহামে। সংসার আর নতুন ঘর গোছানোর সময় তিনি এমন একটি বিষয়ের মুখোমুখি হচ্ছিলেন, যার নাম তিনি আগে দেননি।

সারা বুঝতে পারেন, তিনি নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতির (এফজিএম) শিকার—ছোট মেয়ে থাকতেই তাঁর ওপর যা করা হয়েছিল।

এই উপলব্ধি তাঁকে স্তব্ধ করে দেয়; আর যে ব্যথা নিয়ে তিনি এত দিন বেঁচে ছিলেন, তা পুরোপুরি বুঝতে শুরু করেন তিনি।

তাঁর ভাষায়, "স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে এটি কঠিন করে তুলেছিল—তবে তিনি খুব সদয় ছিলেন, খুব ধৈর্যশীল।"

বোঝাটা এত দেরিতে আসে কেন

সারার বর্ণনায় যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, আর ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যে যা বারবার ফেরে, তা হলো—তিনি জানতেন না। এফজিএম সাধারণত করা হয় শৈশবের শুরুতে, প্রায়ই স্মৃতি স্পষ্ট হওয়ার আগেই, আর এমন সমাজে যেখানে একে ক্ষতি বলে বর্ণনা করা হয় না। একটি মেয়ে নিজের শরীরকে স্বাভাবিক জেনেই বড় হয়, কারণ কেউ তাকে অন্য কিছু বলেনি আর তুলনা করার মতোও কিছু নেই।

তাই উপলব্ধি আসে পরে ও পরোক্ষভাবে—বিয়ের মধ্য দিয়ে, সন্তান জন্মের সময়, কোনো ডাক্তারি পরীক্ষায়, কিংবা এমন দেশে গিয়ে যেখানে বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা হয়। প্রথম কষ্টের ওপর এটি দ্বিতীয় একটি কষ্ট: একজন মানুষকে একসঙ্গে বুঝে নিতে হয় কী ঘটেছিল, আর এ-ও যে তা তাঁর ওপর করা হয়েছিল।

এফজিএমের কোনো স্বাস্থ্য উপকার নেই, বরং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে—ব্যথা, সংক্রমণ, সন্তান জন্মে জটিলতা, আর মানসিক প্রভাব, যার চিকিৎসা প্রায়ই হয় না। ভুক্তভোগীদের সহায়তায় এনএইচএসের বিশেষায়িত ক্লিনিক আছে, যেখানে ডিইনফিবুলেশনের মতো অস্ত্রোপচারের সুযোগও আছে; আর ওই সেবাগুলোর ধারাবাহিক বার্তা হলো—ঘটনার বহু বছর পরও সাহায্য পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশে এফজিএম ব্যাপকভাবে প্রচলিত নয়, আর উল্টোটা বোঝানো অন্যায় হবে। তবু এ গল্পে এমন দুটি জিনিস আছে, যা এখানে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার মতো।

প্রথমটি চিকিৎসাগত। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সামনে এমন নারীরা আসেন, যাঁদের সমাজে এই চর্চা আছে—কিছু অভিবাসী ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে, আর এমন অঞ্চলে থেকে আসা বাংলাদেশি নারীদের মধ্যেও, যেখানে এটি প্রচলিত। যে চিকিৎসককে কখনো এটি চিনতে শেখানো হয়নি, তিনি চিনবেন না; আর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, বারবার সংক্রমণ বা সন্তান জন্মে জটিলতা নিয়ে আসা নারীর কারণটি বছরের পর বছর অজানা থেকে যেতে পারে। এটি চিকিৎসা ও মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণে থাকা উচিত দক্ষতার প্রশ্ন হিসেবে, প্রকোপের প্রশ্ন হিসেবে নয়।

দ্বিতীয়টি চর্চা নয়, ছকটি। সারার অভিজ্ঞতা—ক্ষতিকর কিছুকে স্বাভাবিক জেনে বড় হওয়া, কারণ তার নাম কেউ বলেনি; আর প্রাপ্তবয়সে গিয়ে তা বোঝা—এফজিএমের চেয়ে অনেক বেশি কিছুর বর্ণনা। এটি বর্ণনা করে কীভাবে বাল্যবিবাহ, শারীরিক শাস্তি ও যৌন নির্যাতনকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেয় সেই শিশুরা, যাদের তুলনা করার মতো অন্য কোনো কাঠামো নেই। সারাকে যে কৌশলটি অজ্ঞ রেখেছিল, তা দুর্লভ কিছু নয়—আর তা এখানেও কাজ করে।

ব্যবহারিক কথাটি তাঁর বর্ণনার শেষেই আছে: তাঁর স্বামীর ধৈর্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এসবের যেকোনোটির ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো যে কারও জন্য কাজের প্রতিক্রিয়া তাড়াহুড়ো বা জেরা নয়। কাজের প্রতিক্রিয়া ধৈর্য—আর এটুকু জানা যে বিশেষায়িত সাহায্য আছে, আর মানুষটি প্রস্তুত হলে যেকোনো সময় তা চাওয়া যায়।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।