স্বাস্থ্য, সুস্থতা, স্কুলজীবন ও সামাজিক মাধ্যম নিয়ে তরুণদের একটি জরিপ অক্টোবরে শুরু হতে যাচ্ছে—আর প্রথমবারের মতো তাতে তাঁদের জিজ্ঞেস করা হবে প্রতিদিন যে যন্ত্রগুলো তাঁরা ব্যবহার করেন সেগুলো নিয়ে।
কী জিজ্ঞেস করা হচ্ছে
স্ট্যাটিস্টিকস জার্সি জানিয়েছে, জরিপটি দেওয়া হবে চতুর্থ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের, আর চলবে ৫ থেকে ১৬ অক্টোবর। ২০২৬ সালের চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়াং পিপলস সার্ভে স্বেচ্ছামূলক, নাম-পরিচয়হীন, আর অনলাইনেই পূরণ করা যাবে।
কর্তারা বলেছেন, এই প্রথম জরিপে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞেস করা হবে সামাজিক মাধ্যমের অ্যাপ ও জেনারেটিভ এআই টুল নিয়ে—কত ঘন ঘন তাঁরা সেগুলো ব্যবহার করেন তা-সহ। এ ছাড়া দেখা হবে তরুণদের ঘাড়ে পরিবারে সেবার দায়িত্ব আছে কি না, আর প্রতিদিন যথেষ্ট খাবার জোটে কি না।
প্রধান পরিসংখ্যানবিদ ইয়ান কোপ বলেছেন, দ্বীপের শিশু ও তরুণদের জীবন নিয়ে এটি "অপরিহার্য এক ধারণা" দেয়; আর ফলাফল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নীতি ঠিক করতে ও সেবা উন্নত করতে ব্যবহার হবে।
কোপ যোগ করেন, "বিষয়বস্তু সাজাতে এ বছর আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছি, যাতে তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোই এতে উঠে আসে।" তাঁর কথায়, "সামাজিক মাধ্যম, জেনারেটিভ এআই, সেবার দায়িত্ব ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নগুলো আজকের তরুণদের সামনে থাকা সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের আরও পূর্ণ ছবি গড়তে সাহায্য করবে।"
এখানে পদ্ধতিটিই মূল খবর
জার্সির জনসংখ্যা ঢাকার একটি ওয়ার্ডের চেয়েও কম, তাই জরিপটি নিজেই মূল কথা নয়। মূল কথা এর তিনটি নকশা-সিদ্ধান্ত।
এটি নাম-পরিচয়হীন ও স্বেচ্ছামূলক, আর এ কারণেই খাদ্যনিরাপত্তার মতো প্রশ্নে সৎ উত্তর সম্ভব হয়—নাম লেখা কোনো ফর্মকে কোনো শিশু বলবে না যে ঘরে খাবার যথেষ্ট নেই। এতে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে সেবার দায়িত্ব নিয়ে, আর এভাবেই তরুণ সেবাদাতারা আদৌ দৃশ্যমান হন; নইলে তাঁরা কেবল কম উপস্থিতির শিক্ষার্থী হিসেবেই নথিভুক্ত থাকেন। আর প্রশ্নগুলো সাজানো হয়েছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে, যা বড়রা যা গুরুত্বপূর্ণ ভাবেন তা মাপা আর সত্যিই যা গুরুত্বপূর্ণ তা মাপার মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়।
বাংলাদেশে এর মানে কী
বাংলাদেশ শিশুদের নিয়ে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করে—ভর্তি, ঝরে পড়া, টিকা, খর্বতা, বাল্যবিবাহ—আর এর প্রায় কিছুই আসে না শিশুদের নিজেদের জিজ্ঞেস করে। যা আছে, তার বেশির ভাগ জানায় স্কুল বা অভিভাবক; ফলে স্কুল বা অভিভাবকের না জানানোর স্বার্থ আছে এমন সবকিছুই নিয়মিতভাবে বাদ পড়ে যায়।
ফাঁকগুলো নির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ। কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য, বুলিং, নীতির কাগজে নয় বরং অভিজ্ঞতায় শারীরিক শাস্তি, পর্দা ও সামাজিক মাধ্যমে সময় কাটানো, কিংবা শিশুরা পড়াশোনায় আসলে কীভাবে এআই টুল ব্যবহার করছে—এসবের নিয়মিত জাতীয় কোনো মাপ নেই; অথচ শেষটি এখন দেশের প্রতিটি শহুরে মাধ্যমিক স্কুলে বড় পরিসরে ঘটছে, আর কোনো প্রতিষ্ঠান তা মাপেনি।
খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্নটিই এখানে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগত। বাংলাদেশে শিশুর অপুষ্টি মাপা হয় দেহমাপে—উচ্চতা ও ওজনে—যা কারণের বছরখানেক পরে ফলটি ধরে। চৌদ্দ বছরের একজনকে জিজ্ঞেস করা যে গতকাল তার যথেষ্ট খাবার জুটেছিল কি না, তা ধরে এখনই—আর একটি জরিপ একবার থাকলে খরচ কার্যত শূন্য।
এর কোনোটিতেই নতুন টাকা লাগে না। বাংলাদেশ এমনিতেই জাতীয় স্কুল শুমারি চালায়, আর প্রায় প্রতিটি মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানোর অবকাঠামোও আছে। জার্সি যা দেখাচ্ছে তা হলো, চালু একটি জরিপে চারটি সৎ প্রশ্ন যোগ করা—আর সেগুলো লিখতে শিক্ষার্থীদের সাহায্য নেওয়া—এমন তথ্য তৈরি করে, যা কোনো প্রশাসনিক নথি দিতে পারে না।
একমাত্র সতর্কতাটি জার্সি ঠিকই ধরেছে: ক্ষুধা, সেবার কাজ আর মানসিক স্বাস্থ্যের মতো প্রশ্নে নাম গোপন রাখা কোনো সৌজন্য নয়। এটিই তথ্য আর ইচ্ছেতালিকার মধ্যে পার্থক্য। একই বয়সীদের স্বাস্থ্যের ঘুম-দিকটি আমরা দেখেছি নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শে।




