বাংলাদেশ

লেনোভোর দুই এলওকিউ গেমিং ল্যাপটপ দেশের বাজারে ২ লাখ ১৭ হাজার ও ২ লাখ ২৫ হাজার টাকায়, কমদামিটিতেই ভালো জিপিইউ

একই প্রসেসর, একই মেমোরি, একই পর্দা। একটিতে আরটিএক্স ৫০৬০, অন্যটিতে ৫০৫০। টাকা দেওয়ার আগে দেখে নিন আপনাকে কোন মডেল নম্বরের দাম বলা হচ্ছে।

লেনোভোর দুই এলওকিউ গেমিং ল্যাপটপ দেশের বাজারে ২ লাখ ১৭ হাজার ও ২ লাখ ২৫ হাজার টাকায়, কমদামিটিতেই ভালো জিপিইউ

গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি দেশের বাজারে এনেছে লেনোভোর এলওকিউ সিরিজের দুটি নতুন গেমিং ল্যাপটপ। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মডেল দুটি ৮৩জেই০১এইচএক্সএলকে ও ৮৩জেই০১এইচডব্লিউএলকে। প্রায় প্রতিটি স্পেসিফিকেশনেই এগুলো একই যন্ত্র।

দুটিতেই যা আছে

দুটিতেই আছে ১৪তম প্রজন্মের ইনটেল কোর আই৭-১৪৭০০এইচএক্স প্রসেসর, যার ফলে উন্নতমানের গেম খেলা, দ্রুত ভিডিও সম্পাদনা আর একসঙ্গে একাধিক ভারী কাজ চালানো যায়।

দুটিতেই ১৬ গিগাবাইট ডিডিআর৫ র‍্যাম ও ৫১২ গিগাবাইট ধারণক্ষমতা। দুটিতেই ১৫.৬ ইঞ্চির ফুল এইচডি আইপিএস পর্দা, ওজ্জ্বল্য ৩০০ নিটস, রিফ্রেশ রেট ১৪৪ হার্টজ।

দুটিতেই আছে ২৪ জোন আরজিবি ব্যাকলিট কিবোর্ড, নাহমিক অডিও, প্রাইভেসি শাটার ও ৫ মেগাপিক্সেলের ই-শাটার ওয়েবক্যাম। যোগাযোগের জন্য দুটিতেই ওয়াই-ফাই ৬, ব্লুটুথ ৫.২, এইচডিএমআই ২.১, ইউএসবি-সি, আরজে৪৫ ল্যান ও ইথারনেট পোর্ট।

এইচএক্স = ৫০৬০। এইচডব্লিউ = ৫০৫০।
মডেল কোডে এক বর্ণের পার্থক্য, আর কমদামি যন্ত্রেই ভালো গ্রাফিকস কার্ড। টাকা দেওয়ার আগে কার্টনের কোড মিলিয়ে নিন। গ্রাফিক: টেক বিডি।

একটিই পার্থক্য, আর যা দেখে নিতে হবে

অর্থপূর্ণ পার্থক্য কেবল গ্রাফিকস কার্ডে।

৮৩জেই০১এইচএক্সএলকে মডেলে আছে ৮ গিগাবাইট জিডিডিআর৭ মেমোরিসহ এনভিডিয়া জিফোর্স আরটিএক্স ৫০৬০। দাম ২ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

৮৩জেই০১এইচডব্লিউএলকে মডেলে আছে ৮ গিগাবাইট জিডিডিআর৭ মেমোরিসহ এনভিডিয়া জিফোর্স আরটিএক্স ৫০৫০। দাম ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

দুটি লাইন আবার পড়ুন। ঘোষিত দামে কম ক্ষমতার গ্রাফিকস কার্ডের মডেলটির দাম ৮ হাজার টাকা বেশি।

আমরা ব্যাখ্যা অনুমান না করে প্রকাশিত সংখ্যাগুলোই জানাচ্ছি। এটি মজুত বা আমদানি খরচের পার্থক্য হতে পারে, কিংবা বিজ্ঞপ্তিতে স্থান বদলে যাওয়াও হতে পারে। যা-ই হোক, কাজের পরামর্শটি একই, আর এ কারণেই বিষয়টি পাদটীকা নয়, একটি অনুচ্ছেদের দাবি রাখে: দাম দেখে নয়, মডেল নম্বর দেখে কিনুন। দুটি কোডের পার্থক্য ১১তম অক্ষরে একটি বর্ণ—এইচএক্স বনাম এইচডব্লিউ—আর ঠিক এ ধরনের পার্থক্যই দোকানের আলাপ আর ডেলিভারি স্লিপ পার হয়ে যায় কারও চোখে না পড়ে।

টাকা দেওয়ার আগে কার্টনে পূর্ণ মডেল কোড মিলিয়ে নিন, আর উইন্ডোজে দেখানো জিপিইউ আপনাকে বলা জিপিইউর সঙ্গে মেলে কি না তা নিশ্চিত করুন। এই দামের যন্ত্রে আরটিএক্স ৫০৬০ আর ৫০৫০-এর ব্যবধানই মূলত সেই জিনিস, যার জন্য আপনি টাকা দিচ্ছেন।

দুবার পড়ার মতো তিনটি সংখ্যা

৩০০ নিটস। এটি পর্দার ওজ্জ্বল্য, আর তা সামান্যই। পর্দা টেনে ঘরের ভেতরে চলে যায়; কিন্তু উজ্জ্বল ঘরে, বা দিনের আলোয় জানালার কাছে ৩০০ নিটসের পর্দা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। আপনি যদি কেবল সন্ধ্যায় গেম না খেলে দিনের আলোয় ল্যাপটপে কাজও করেন, তবে প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করবে এই স্পেসিফিকেশনটিই।

১৪৪ হার্টজ। উঁচু রিফ্রেশ রেটের সুফল তখনই মেলে, যখন গ্রাফিকস কার্ড সত্যিই তত ফ্রেম বানাতে পারে। ১০৮০পিতে প্রতিযোগিতামূলক গেমে আরটিএক্স ৫০৬০ সেখানে পৌঁছাবে, আর উঁচু সেটিংসে ভারী গেমে অনেকটাই পিছিয়ে থাকবে। এখানে সীমা পর্দা নয়, জিপিইউ—আর এ কারণেই দামের স্টিকারের চেয়ে মডেল নম্বর বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এটি তার দ্বিতীয় কারণ।

ওয়াই-ফাই ৬। ৬ই নয়, ওয়াই-ফাই ৭-ও নয়। ২০২৬ সালের শেষে কেনা আর চার-পাঁচ বছর চলার আশা করা যন্ত্রে এই অংশটিই সবার আগে পুরোনো হবে। এই দামে বাদ পড়াটা অযুক্তিক নয়, তবে নতুন রেডিওর বিজ্ঞাপন দেওয়া কোনো যন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করার আগে জেনে রাখা ভালো।

বাজারে এগুলোর জায়গা

দুই লাখ টাকার কিছু বেশি দামে এগুলো প্রবেশস্তরের যন্ত্র নয়, আর স্পেসিফিকেশনই বলে দেয় কাদের জন্য: ১৪৪ হার্টজ পর্দা ও আলাদা জিপিইউ গেমিংয়ের জন্য, তবে ১৬ গিগাবাইট র‍্যামসহ আই৭-১৪৭০০এইচএক্স সমানভাবেই ভিডিও সম্পাদনা ও ডেভেলপমেন্টের বিন্যাস। বাংলাদেশে এই দুই কাজের ব্যবহারই সাধারণত কেনার আসল কারণ, কারণ একটি যন্ত্রকেই সারতে হয় আয়ের কাজ আর খেলা—দুটোই।

৫১২ গিগাবাইট ড্রাইভটিই সেই সীমা, যা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা দরকার। এখনকার একটি গেম বসাতে ১০০ গিগাবাইট বা তার বেশি লাগতে পারে, আর অপারেটিং সিস্টেম ও প্রকল্পের ফোল্ডারের সঙ্গে কয়েকটি গেম থাকলে ডিস্ক দ্রুত ভরে যাবে। কেনার আগে দেখে নিন দ্বিতীয় এম.২ স্লটটি খালি আছে কি না, কারণ পরে ধারণক্ষমতা বাড়ানো ল্যাপটপ বদলানোর চেয়ে অনেক সস্তা।

সূত্র: প্রথম আলো

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি ঢাকাভিত্তিক একটি স্বাধীন প্রযুক্তি প্রকাশনা, প্রকাশিত হয় বাংলা ও ইংরেজিতে। লেখাগুলো আলাদা লেখকের নামে নয়, প্রকাশনার নামেই প্রকাশিত হয়; সংশোধন বা সূত্র নিয়ে প্রশ্ন পাঠানো যায় info@tech-bd.com ঠিকানায়।