চলতি সপ্তাহে ঢাকার কম্পিউটার বাজারে প্রযুক্তিপণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে শহরের একাধিক বাজার ঘুরে জানিয়েছে প্রথম আলো।
ক্রেতারা গত সপ্তাহের দামেই কিনতে পারছেন প্রসেসর ও মাদারবোর্ড থেকে শুরু করে র্যাম, এসএসডি, হার্ডডিস্ক, গ্রাফিকস কার্ড আর মনিটর পর্যন্ত সবকিছু।
স্থির সপ্তাহ কেন খবর
কারণ সাম্প্রতিক ধরনটি স্থির ছিল না। মেমোরির সংকট সেপ্টেম্বরে ঢাকায় বারবার র্যামের দাম ঠেলে তুলেছিল—একেকটি স্টিকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত—আর পিছু নিয়েছিল গ্রাফিকস কার্ডও। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ ২০ শতাংশ কমেছিল, যার অন্যতম কারণ মেমোরি চিপের সংকট।
দুই মাস ধরে যে সংকট জিনিসপত্র নাড়াচ্ছে, তার মাঝখানে কিছুই না নড়া একটি তথ্যবিন্দু—ঘটনার অনুপস্থিতি নয়। এর মানে সংকট শেষ হয়েছে তা নয়। মানে হলো, এই দামে, এই সপ্তাহে, ঢাকায় সরবরাহ ও চাহিদা পরস্পরকে খুঁজে পেয়েছে।
এ সপ্তাহের কিছু দাম
প্রসেসর। ইন্টেল কোর আলট্রা ৯ ২৮৫কে (৫.৭০ গি.হা.) ৬২ হাজার টাকা; কোর আই-৯ (৬.০০ গি.হা., ১৪ প্রজন্ম র্যাপ্টর লেক রিফ্রেশ) ৫৬ হাজার; কোর আলট্রা ৭ ২৬৫কে (৫.৫ গি.হা.) ৩৫ হাজার; কোর আই-৭ (৫.৬০ গি.হা., ১৪ প্রজন্ম) ৫০ হাজার; কোর আই-৭ (৫.৪০ গি.হা., ১৩ প্রজন্ম) ৪৩ হাজার; কোর আলট্রা-৫ ২৪৫কেএফ (৫.২ গি.হা.) ৩৮ হাজার; কোর আই-৫ ১৪৬০০কেএফ (৫.৩০ গি.হা., ১৪ প্রজন্ম) ৩৮ হাজার; কোর আই-৫ (৪.৬০ গি.হা., ১৩ প্রজন্ম) ১৯ হাজার ৫০০; কোর আই-৩ (৪.৫০ গি.হা., ১৩ প্রজন্ম) ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।
এএমডি: রাইজেন-৯ ৭৯৫০এক্স (৪.৫ গি.হা.) ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা; রাইজেন-৭ ৫৭০০জি (৩.৮-৪.৬ গি.হা.) ২৩ হাজার ৫০০; রাইজেন-৫ ৫৬০০জি (৩.৬-৪.৬ গি.হা.) ১৯ হাজার টাকা।
মাদারবোর্ড। এমএসআই এ৫২০ এম-এ প্রো (ডিডিআর৪) ৭ হাজার ২০০ টাকা; প্রো এইচ৬১০ এম-ই (ডিডিআর৪) ১০ হাজার; বি৪৫০ এম-এ প্রো ম্যাক্স ৮ হাজার ৫০০; এইচ৮১০ এম-বি (ডিডিআর৫) ১৬ হাজার ৭০০; বি৬৫০ এম গেমিং ওয়াই-ফাই (ডিডিআর৫) ১৯ হাজার; বি৭৬০ গেমিং প্লাস (ডিডিআর৫) ২২ হাজার ৫০০ টাকা। আসুস: প্রাইম এইচ৬১০এম (ডিডিআর৪) ১০ হাজার ৬০০; টাফ গেমিং বি৫৫০এম প্লাস (ডিডিআর৪) ১৮ হাজার ৯০০; প্রাইম জেড৮৯০ প্লাস সিএসএম (ডিডিআর৫, ওয়াই-ফাই ৭) ৩৭ হাজার ৯০০ টাকা। গিগাবাইট: বি৭৬০এম (ডিডিআর৫) ১৭ হাজার ২০০; বি৪৫০এম কে ৮ হাজার ৯০০ টাকা।
র্যাম। করসেয়ারের ভেনজিন্স এলপিএক্স (ডিডিআর৪, ৩২০০ মেগাহার্টজ) ৮ জিবিতে পড়ছে ৮ হাজার ৩০০ টাকা, ১৬ জিবিতে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা; আর ডিডিআর৫-এর ১৬ জিবি ভেনজিন্স আরজিবি (৬০০০ মেগাহার্টজ) ৩৫ হাজার টাকা। জিস্কিলের ৮ জিবি ট্রাইডেন্ট জেড আরজিবি (ডিডিআর৪, ৩৬০০ মেগাহার্টজ) ৯ হাজার টাকা, আর ১৬ জিবি ফ্লেয়ার এক্স৫ (ডিডিআর৫, ৫৬০০ মেগাহার্টজ) ৩৩ হাজার টাকা।

র্যামের সারিটি যা বলছে
ডিডিআর৪-এর পাশে ডিডিআর৫-এর সংখ্যাগুলো দেখুন। ১৬ জিবি ডিডিআর৪ কিট ১৮ হাজার ৫০০ টাকায়, আর একই ধারণক্ষমতার ১৬ জিবি ডিডিআর৫ কিট ৩৩ থেকে ৩৫ হাজারে—প্রায় দ্বিগুণ, আর এক বছর আগে ব্যবধানটি ছিল অনেক কম।
নতুন পিসি বানানোর কথা ভাবলে এটি গুরুত্বপূর্ণ। চালু একটি যন্ত্রে পৌঁছার সবচেয়ে সস্তা পথ এখনো ডিডিআর৪ প্ল্যাটফর্ম, আর ওপরের মাদারবোর্ডের দামও একই কথা বলছে: এইচ৬১০এম বা বি৪৫০এম ৭ হাজার ২০০ থেকে ১০ হাজার ৬০০ টাকায়, অথচ ডিডিআর৫ বোর্ড শুরুই ১৬ হাজার ৭০০ থেকে। ডিডিআর৫-এর বাড়তি দাম এখন দুবার দিতে হচ্ছে—একবার বোর্ডে, আরেকবার মেমোরিতে।
সাধারণ ব্যবহারের বদলে এআইয়ের কাজের জন্য বানালে হিসাবটি বদলায়—সেখানে বাধা সিস্টেম মেমোরি নয়, জিপিইউ মেমোরি; আর এ সপ্তাহেই গিগাবাইট ঢাকায় ১৪ লাখ টাকার এআই ওয়ার্কস্টেশন আনার সময় আমরা সেই হিসাব দিয়েছি।
এমন দামের তালিকা কীভাবে কাজে লাগাবেন
দুটি সতর্কতা। এগুলো কিছু দোকান ঘুরে পাওয়া দাম, কোনো নির্ধারিত রেট নয়—একই যন্ত্রাংশের দাম ইসিএস কম্পিউটার সিটি, আইডিবি আর ছোট বাজারগুলোতে আলাদা হবে, আর দরকষাকষিতে এবং ভ্যাট ধরা আছে কি না তাতেও নড়বে।
আর স্থির সপ্তাহ কোনো পূর্বাভাস নয়। গত দুই মাস ধরে চলা মেমোরি-সংকটের সমাধান হয়নি—অর্থাৎ এখান থেকে কাজের পাঠটি হলো, জানা দামে কেনার জন্য এটি যুক্তিসংগত একটি সপ্তাহ; অপেক্ষা করলে সস্তা পাওয়া যাবে, তা নয়।




