বিশ্ব

পাঁচ বছরে পাহাড়ে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের উদ্ধার প্রায় দ্বিগুণ, স্বেচ্ছাসেবীরা বলছেন চাপ আর টেকসই নয়

মাউন্টেন রেসকিউ ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ২০২৪ সালে ১৮-২৪ বছর বয়সীদের ৩১৪টি ঘটনা পেয়েছে, ২০১৯ সালের চেয়ে ৮৯ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালে ১৪৭-এর বিপরীতে লানবেরিস এ বছর যাচ্ছে ৪৫০ উদ্ধারের দিকে।

পাঁচ বছরে পাহাড়ে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের উদ্ধার প্রায় দ্বিগুণ, স্বেচ্ছাসেবীরা বলছেন চাপ আর টেকসই নয়

পর্বত উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, টিকটক আর ইনস্টাগ্রামের পোস্ট বন্য জায়গার সৌন্দর্য দেখায়—কিন্তু পায়ে হেঁটে যাওয়া মানুষ যে বিপদে পড়তে পারেন, তা নিয়ে সতর্ক করে না।

সংখ্যাগুলো

মাউন্টেন রেসকিউ ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের (এমআরইডব্লিউ) নিক ফিলিপস বলেন, "এসব পোস্টে প্রভাবিত হয়ে অনেক বেশি মানুষ অপ্রস্তুতভাবে পাহাড়ে গিয়ে পড়ছেন।"

২০১৯ থেকে ২০২৪ সালে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের জরুরি ঘটনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৪ সালে উদ্ধার দরকার হওয়া সবচেয়ে বড় বয়সী দল হয়ে ওঠে এটিই, জড়িত ছিল ৩১৪টি ঘটনায়—২০১৯ সালের ১৬৬-এর চেয়ে ৮৯ শতাংশ বেশি।

ওয়েলসের সবচেয়ে ব্যস্ত লানবেরিস মাউন্টেন রেসকিউ টিম আগস্টে পেয়েছে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৫৯টি ডাক—দিনে দুটি। ২০২০ সালের পুরো বছরে ছিল ১৪৭; এ বছর ইতিমধ্যে ৩৫৯টিতে গিয়েছে, প্রত্যাশা ৪৫০। ওগওয়েন ২০২০ সালের ১০৭ থেকে যাচ্ছে দুই শতাধিকের দিকে; ব্রেকন ৭০ থেকে ইতিমধ্যে ৮০; সেন্ট্রাল অ্যান্ড ব্রেকন ৮৯ থেকে সম্ভবত ২০০।

স্বেচ্ছাসেবী টম ক্যারিক বলেন, ৩০ জন নতুন স্বেচ্ছাসেবী যোগ দেওয়ার পরও "ইতিমধ্যেই স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে অনেক ক্লান্তি দেখছি"। সেন্ট্রাল অ্যান্ড ব্রেকনে ৪৫ বছর কাটানো হিউ জোনস বলেন, "স্বেচ্ছাসেবীদের সময় আর শক্তি সীমিত। আমরা ধরে নিতে পারি না যে আরও আরও চাপ অনির্দিষ্টকাল শুষে নেওয়া যাবে।"

এমআরইডব্লিউ সতর্ক ছিল: "কোনো পোস্ট দেখে পাহাড়ে যেতে চাওয়া মানুষের সমালোচনা আমরা করছি না... তবে বাস্তবতার সঙ্গে ভারসাম্য দরকার।" এলএমআরটির কথায়, ক্রিব গখের ছবি একটি খোলা, ঝুঁকিপূর্ণ চড়াইকে সাধারণ পথের মতো দেখাতে পারে—"যা সেটি দেখায় না, তা হলো মেঘ, বৃষ্টি বা জোরালো বাতাসে ওই শিরাটি কত ভয়ংকর হতে পারে।"

বাংলাদেশে এর মানে কী

বাংলাদেশ একই কৌশলের ভেতর দিয়েই যাচ্ছে, ভিন্ন উচ্চতায়—আর পেছনে উদ্ধার-সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

গন্তব্যগুলো চেনা: সাজেক, নাফাখুম, আমিয়াখুম, কেওক্রাডং, বগা লেক, সাঙ্গু নদী। প্রতিটিই একই চক্র পেরিয়েছে—একটি ছবি ছড়ায়, এক মৌসুমের মধ্যে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ হয়, আর অবকাঠামো আসে বছর কয়েক পরে, কিংবা আসেই না। ঝুঁকিগুলো মেঘে ঢাকা শিরার খোলা চড়াই নয়; পাহাড়ি ছরায় আকস্মিক ঢল, দীর্ঘ ছায়াহীন পথে পানিশূন্যতা, আর সড়ক থেকে বহু ঘণ্টা দূরে আঘাত।

গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যটি ব্রিটিশ খবরের শেষ লাইনে। ওয়েলসে আছে স্বেচ্ছাসেবী পর্বত উদ্ধার দল—প্রশিক্ষিত, সরঞ্জামসহ, ডাকলেই হাজির, আর এখন ক্লান্ত। বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলাগুলোতে এর সমতুল্য কিছু নেই। নাফাখুমের পথে গুরুতর আঘাত সামলান উপস্থিত মানুষ, স্থানীয় গাইড, আর শেষে ফায়ার সার্ভিস বা সেনাবাহিনীর এমন সম্পদ—যা এ কাজের জন্য সেখানে রাখা ছিল না। ওয়েলসে যাকে টেকসই নয় বলা হচ্ছে, এখানে চাপ পড়ার মতো সেটিই নেই।

দ্বিতীয় একটি পার্থক্যও সোজাভাবে বলা দরকার, কারণ তা উল্টো দিকে কাজ করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বড় অংশে অনুমতি লাগে আর চলাচলে বিধিনিষেধ থাকে, আর সেখানে ভ্রমণ প্রায়ই চলে নিবন্ধিত গাইডের মধ্য দিয়ে। এই লাল ফিতা ভ্রমণকারীদের বিরক্ত করে আর সেখানে বসবাসকারীদের জন্য তার সত্যিকারের খরচ আছে—তবে আনুষঙ্গিকভাবে এটি সেই ফটকরক্ষার কাজ করে, ওয়েলসের পাহাড়ে যার অভাব।

ব্যবহারিক পরামর্শ সবখানেই এক, আর একঘেয়ে হওয়ায় তা আবার বলা দরকার: স্থানীয় কারও সঙ্গে যান, তৃতীয় একজনকে পথ আর ফেরার সময় জানিয়ে রাখুন, দরকারের চেয়ে বেশি পানি নিন, আর উজানে বৃষ্টির পর ছরা পার হওয়াকে ভ্রমণের সবচেয়ে বিপজ্জনক কাজ হিসেবেই ধরুন। যে ছবিটি আপনাকে ওখানে নিয়ে গেছে, তা তোলা হয়েছিল ভালো একটি দিনে।

আগে-পরের ভিডিওতে মাপা আরেকটি ঝোঁক আছে লিম্ফ্যাটিক মাসাজের খবরে।

সূত্র: BBC

লিখেছেন

Mahbub Rabbani

টেক বিডিতে ভোক্তা প্রযুক্তি নিয়ে লেখেন মাহবুব রব্বানী — ফোন, অ্যাপ, অপারেটিং সিস্টেম আর দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিদিনের প্ল্যাটফর্ম। সাইটের কীভাবে-করবেন নির্দেশিকাগুলো তাঁর লেখা; কোনো পণ্যকে তিনি মাপেন কেনার খরচ দিয়ে নয়, ব্যবহারের খরচ দিয়ে।