প্রযুক্তি

জাপানে ৩০ বছর আগে তোলা জীবাশ্মটি নতুন প্রজাতির বর্মযুক্ত ডাইনোসর, পূর্বপুরুষেরা এসেছিল আমেরিকা থেকে

হোক্কাইডোতে ১৯৯৫ সালে পাওয়া খুলির সিটি স্ক্যান করে শনাক্ত হলো নিপ্পনোপেল্টা ইজোয়েন্সিস—৯ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১০ কোটি বছরের পুরোনো নোডাসরিড, আর প্রমাণ মিলল বেরিং স্থলপথে উত্তর আমেরিকা থেকে আসার।

জাপানে ৩০ বছর আগে তোলা জীবাশ্মটি নতুন প্রজাতির বর্মযুক্ত ডাইনোসর, পূর্বপুরুষেরা এসেছিল আমেরিকা থেকে

জাপানে প্রায় ৩০ বছর আগে পাওয়া একটি ডাইনোসরের জীবাশ্ম নতুন করে পর্যালোচনা করে সেটিকে নতুন প্রজাতির বর্মযুক্ত ডাইনোসর হিসেবে শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা—আর সেই সূত্রেই খুলেছে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে ডাইনোসরের স্থানান্তরের রহস্য। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ক্রেটাশাস রিসার্চ সাময়িকীতে।

প্রাণীটি

নতুন প্রজাতির নাম দেওয়া হয়েছে নিপ্পনোপেল্টা ইজোয়েন্সিস। নিপ্পন মানে জাপান, পেল্টা মানে ঢাল, আর ইজো হলো হোক্কাইডোর ঐতিহ্যবাহী নাম। ১৯৯৫ সালে জাপানের উত্তরতম দ্বীপ হোক্কাইডোর সামুদ্রিক পলিমাটি থেকে জীবাশ্মটি উদ্ধার করা হয়।

বদলেছে প্রযুক্তি। গবেষকেরা সিটি স্ক্যান দিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন খুলির পেছনের ভাগ, চোয়ালের অংশ ও দাঁত—যে বিবরণ জীবাশ্মটি প্রথম পাওয়ার সময় নাগালে ছিল না। এর বয়স ৯ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১০ কোটি বছর।

কানাডার রয়্যাল বিসি মিউজিয়ামের ভিক্টোরিয়া আরবুর সাধারণ কথাটি বলেছেন: নতুন প্রযুক্তিতে জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করায় আগে অজানা বহু ইতিহাস সামনে আসছে। প্রাণীটি নোডাসরিড পরিবারের—চার পায়ে হাঁটা, হাড়ের বর্মে ঢাকা, উদ্ভিদভোজী, উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী।

স্থানান্তরের গল্প

একটি কঙ্কালের বাইরেও এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা এখানেই। নোডাসরিডের জীবাশ্ম উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে প্রচুর, আর এশিয়ায় অত্যন্ত বিরল। এই নমুনার সঙ্গে উত্তর আমেরিকার ডাইনোসরের শারীরিক মিল আর ওই স্বল্পতা মিলে একটি পথের দিকে ইঙ্গিত করে।

গবেষকদের সিদ্ধান্ত, এই ডাইনোসরের পূর্বপুরুষেরা ১১ থেকে ১০ কোটি বছর আগে বেরিং স্থলপথ ধরে উত্তর আমেরিকা থেকে এশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিল—আলাস্কা ও রাশিয়া এখন যেখানে মুখোমুখি, সেই প্রাচীন সংযোগ ধরে। ক্যালগারি ইউনিভার্সিটির ডাইনোসর প্যালিওবায়োলজিস্ট ডারলা জেলেনিতস্কি বলছেন, এই প্রাণীরা উপকূলীয় অঞ্চলে থাকায় সেভাবে স্থানান্তর তুলনামূলক সহজ ছিল।

সামুদ্রিক পলিমাটি থেকে জীবাশ্মটি পাওয়ায় ধারণা করা হয়, মৃত্যুর পর দেহটি নদীতে ভেসে সমুদ্রে চলে গিয়েছিল।

এশিয়ায় এত কম কেন

কানাডার মিউজিয়াম অব নেচারের জর্ডান ম্যালন যে সতর্কতা যোগ করেছেন, তাতেই বিষয়টি সৎ থাকে: জীবাশ্মের রেকর্ড অনেক সময় অসম্পূর্ণ, কারণ উঁচু ভূমিতে ক্ষয়ের কারণে জীবাশ্ম সহজে সংরক্ষিত হয় না। তাই এশিয়ায় নোডাসরিডের স্বল্পতা পাথরের রেকর্ডের সীমাবদ্ধতাও হতে পারে, সত্যিকারের অভাব না-ও হতে পারে। ভবিষ্যতের খননেই তা মীমাংসা হবে।

বাংলাদেশে এর মানে কী

নেওয়ার মতো শিক্ষাটি খনন নয়, সংগ্রহ নিয়ে। এই আবিষ্কারে নতুন কোনো অভিযান লাগেনি—জীবাশ্মটি ১৯৯৫ সাল থেকেই হাতে ছিল। লেগেছে একটি সিটি স্ক্যানার আর আবার দেখতে রাজি একজন মানুষ।

বাংলাদেশে জাদুঘর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন সংগ্রহ আছে, যেগুলোর তালিকা একবার হয়েছে আর খুব কমই আবার দেখা হয়েছে; আর এখন প্রতিটি বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে সিটি সক্ষমতা আছে। বিদ্যমান সংগ্রহ নতুন করে পরীক্ষা করাই স্বল্প অর্থের কোনো বিভাগের জন্য সবচেয়ে সস্তা গবেষণা, আর এতে মাঠের মৌসুম বা বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভর করতে হয় না।

ভূতাত্ত্বিক একটি কথাও আছে। বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ—পুরোনো যা কিছু, তার ওপর কিলোমিটারখানেক নবীন পলি—তাই এটি কখনোই ডাইনোসরের দেশ হবে না। কিন্তু এই নোডাসরিডকে যে ধরনের সামুদ্রিক ও নদীজ পলি ঢেকে দিয়েছিল, সেটিই এ দেশের পুরো উপরিভাগের ভূতত্ত্ব—আর তাতে ধরা আছে অনেক সাম্প্রতিক পরিবর্তনের রেকর্ড: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, নদীর গতিপথ, জলবায়ু। নিজের উপকূল নিয়ে তর্করত দেশের জন্য ওই রেকর্ড সরাসরি প্রাসঙ্গিক, আর তা পড়তে ওই একই ধৈর্যের কাজই লাগে।

সূত্র: প্রথম আলো

লিখেছেন

Tech BD

টেক বিডি সম্পাদকীয় দল।