দামি ব্যায়াম ক্লাস ব্যারকোর, বুম সাইকেল ও কোবক্সের পেছনের ফিটনেস কোম্পানিটি হঠাৎ করে তাদের সব স্টুডিও বন্ধ করে দিয়েছে।
যা ঘটল
কমন বন্ড গ্রাহকদের ইমেইল করে জানিয়েছে, তাদের কেন্দ্রগুলো—যেগুলো সবই এখন লন্ডনে—"পরবর্তী নির্দেশ পর্যন্ত" বন্ধ। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের বলে ওয়েলনেস কালেক্টিভ, আর ১২ মাসের সীমাহীন ক্লাসের জন্য নেয় ২,৪০০ পাউন্ড। রিফর্মকোর ও ত্রিযোগা ব্র্যান্ডও তারাই চালায়, আর গত বছরের আগস্টে জানিয়েছিল তাদের দশটি কেন্দ্র আছে।
তাদের ওয়েবসাইট আর প্রকাশ্যে পাওয়া যাচ্ছে না। বিবিসি মন্তব্যের জন্য কমন বন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
বুধবার পাঠানো ইমেইলটিতে, যা বিবিসি দেখেছে, বলা হয়: "দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, কমন বন্ডের সব স্টুডিও পরবর্তী নির্দেশ পর্যন্ত বন্ধ। এতে যে অসুবিধা ও বিঘ্ন ঘটতে পারে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।"
প্রশিক্ষকেরা বিবিসিকে বলেছেন, আগের সপ্তাহে তাঁদের জানানো হয়েছিল বেতন সময়মতো হবে না; আর স্টুডিও বন্ধের খবর তাঁরা জেনেছেন ওই বুধবারের ইমেইল থেকেই। একজন বলেছেন, বেতনের দিন—১৪ আগস্ট—তাঁকে ও সহকর্মীদের জানানো হয় বেতন দেরি হবে। তাঁর কথায়, "সদিচ্ছা থেকে আমি ক্লাস নিয়ে গেছি, কখন বা আদৌ টাকা দেওয়া হবে সে খবর ছাড়াই। এরপর একেবারেই কিছু শুনিনি।"
বাংলাদেশে এর মানে কী
এটি আসলে ফিটনেসের গল্প নয়। এটি সেবার জন্য আগাম টাকা দেওয়ার গল্প, আর এতে যে ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের ভোক্তারা তা ব্রিটিশদের চেয়ে অনেক বেশি বহন করেন।
এখানে আগাম টাকা দেওয়াই চালু মডেল, আর তা একটি লম্বা তালিকার ব্যবসায়: ছাড়সহ বার্ষিক প্যাকেজে বিক্রি হওয়া জিমের সদস্যপদ, কোচিং সেন্টারের কোর্স ফি, সেলুন ও স্পার প্যাকেজ, আজীবন সদস্যপদের ক্লাব, বিয়ের ভেন্যুর অগ্রিম, টার্ম ধরে দেওয়া টিউশন, আর আসবাব ও ইলেকট্রনিকসের কিস্তির স্কিম। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেবা পাওয়ার বহু আগে গ্রাহকের টাকা হাতবদল হয়ে যায়, আর ব্যবসাটি বন্ধ হলে গ্রাহকের সুরক্ষা প্রায় শূন্য।
ঢাকার কোনো জিম বা কোচিং সেন্টার বন্ধ হলে বছরের টাকা দেওয়া সদস্যেরা হয়ে যান অরক্ষিত পাওনাদার, টাকা ফেরানোর বাস্তব কোনো পথ ছাড়াই। এমন কোনো নিয়ন্ত্রক নেই যে এর পিছু নেয়, জমার সুরক্ষা নেই, আর দেওয়ানি মামলার খরচ বেশির ভাগ মানুষের হারানো টাকার চেয়ে বেশি। তাই ব্যবহারিক প্রতিরক্ষার সবটাই কেনার মুহূর্তে।
এর তিনটি মনে রাখার মতো। বার্ষিক প্যাকেজ সস্তা হলেও মাসিক বা ত্রৈমাসিক দিন—ওই ছাড়টিই ঝুঁকির দাম, আর প্রায়ই তা খারাপ বিনিময়। রসিদহীন নগদের বদলে এমন পদ্ধতিতে টাকা দিন, যা নথি রাখে আর সম্ভব হলে অভিযোগের পথ খোলা রাখে। আর কর্মীদের বেতন দেরি হওয়াকে সেই বিপদসংকেত হিসেবেই নিন, যা এটি: এ গল্পের প্রশিক্ষকেরা গ্রাহকদের ছয় সপ্তাহ আগে জেনেছিলেন, আর ছোট ব্যবসায় কর্মীদের বেতন দেরি হওয়া প্রায় সব সময়ই শেষের প্রথম দৃশ্যমান উপসর্গ।
এ গল্পে দ্বিতীয় একটি নীরব ক্ষতিও আছে, যা এখানেও খাটে। প্রশিক্ষকেরা সদিচ্ছা থেকে বিনা বেতনে ক্লাস নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্স প্রশিক্ষক, কোচিং সেন্টারের শিক্ষক আর সেলুনকর্মীরা ঠিক এই ঝুঁকিটিই বহন করেন, সাধারণত কোনো চুক্তিই ছাড়া—আর ব্যবসা বসে গেলে তাঁরা হারান বাকি বেতন আর কাজ, দুটোই।
এই শিল্পের অন্য প্রান্ত, বিপণন-নির্ভর দিকটি আমরা দেখেছি সাইকেল-সিংকিং লেখায়।




