ভারশূন্য পরিবেশ মানবদেহে কী করে তা জানতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে চার নভোচারী পাঠিয়েছে নাসা। গত বৃহস্পতিবার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটে তাঁরা যাত্রা করেন।
অভিযানটি
নভোচারীরা গবেষণা করবেন, ভারশূন্যতা রক্ত সঞ্চালন ও রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব ফেলে; সংগ্রহ করবেন দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যগত তথ্যও।
ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলের জ্বালানি ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় উৎক্ষেপণ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর।
অভিযানের নেতৃত্বে আছেন মার্কিন নভোচারী ও ভূতত্ত্ববিদ জেসিকা ওয়াটকিন্স; সঙ্গে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের লুক ডেলানি, কানাডার জোশুয়া কুট্রিক ও রাশিয়ার সের্গেই তেতেরিয়াতনিকোভ। ফেব্রুয়ারি থেকে স্টেশনে থাকা নভোচারীদের স্থলাভিষিক্ত হবেন তাঁরা।
নাসার ব্যবস্থাপক ডানা উইগেল জানিয়েছেন, এই চারজন ছয় মাস গবেষণা করবেন। অভিযানের নাম ও প্যাচ নকশা হয়েছে ১৯৭০ সালের চন্দ্রাভিযান অ্যাপোলো ১৩-এর স্মরণে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চালু স্টেশনটি ব্যবহার করা যাবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
বাংলাদেশে এর মানে কী
মহাকাশ কার্যক্রম নেই এমন দেশের কাছে স্টেশনের গবেষণাকে দূরের বিষয় ভাবার একটা প্রবণতা আছে। এই নির্দিষ্ট বিষয়ে সেটি ভুল, আর কারণটি নির্দিষ্ট।
জমাট বাঁধা নিয়ে ভারশূন্যতার গবেষণা আছে কারণ ভারশূন্য অবস্থায় রক্ত অস্বাভাবিক আচরণ করে—জমে থাকে, প্রবাহ ধীর হয়, আর যেখানে হওয়া উচিত নয় সেখানে জমাট বাঁধে। পৃথিবীতে এটি যে অবস্থার নকল, তা দুর্লভ কিছু নয়: নড়তে না পারা শরীরের যা হয়, সেটিই। হাসপাতালে দীর্ঘ শয্যাশায়িতা, অস্ত্রোপচারের পরের বিছানা, চিকিৎসাহীন ভ্যারিকোজ রোগ আর দীর্ঘ যাত্রা—সবই একই কৌশল তৈরি করে।
ফলে মহাকাশ স্টেশন হয়ে ওঠে চারজনের নমুনার একটি জমাট-গবেষণাগার, যেখানে অবস্থাটি কত দিন ধরে রাখা যাবে তাতে নৈতিক সীমা নেই—হাসপাতালের ওয়ার্ড ঠিক যা হতে পারে না। ফলাফলগুলো যায় রক্ত তরল রাখার প্রটোকল, কম্প্রেশন চর্চা আর অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চলাফেরার নির্দেশনায়; আর সেগুলো বছর কয়েক পরে হালনাগাদ নির্দেশিকা হিসেবে বাংলাদেশের জেলা হাসপাতালে পৌঁছায়—কোথা থেকে এল তার উল্লেখ ছাড়াই।
দ্বিতীয় কথাটি সময়সীমা নিয়ে। স্টেশনের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত, আর এক দশকে গড়া স্থাপনার জন্য চার বছর দীর্ঘ সময় নয়। এর বদলে যা আসবে তা সম্ভবত বাণিজ্যিক, অর্থাৎ গবেষণার সময় বরাদ্দ হবে না, কেনা হবে। যারা দিতে পারবে না, তারা সূচিতে থাকবে না—আর এখনকার যে বন্দোবস্তে একজন কানাডীয়, একজন রুশ আর দুজন মার্কিন একই কার্যক্রমে উড়ছেন, সেটিই বদলে যাচ্ছে।
এটিও লক্ষণীয়: জ্বালানি ব্যবস্থার ত্রুটিতে উৎক্ষেপণ তিন সপ্তাহ সরেছে, আর তা স্বাভাবিক হিসেবেই জানানো হয়েছে। একটি যন্ত্রাংশের জন্য মানুষবাহী উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেয় যে কার্যক্রম, সেটি ঠিকভাবেই চলছে। নিজে থেকেই ভেঙে যাওয়া স্যাটেলাইটটির সঙ্গে তুলনাটি শিক্ষণীয়।
ওই ভাঙনের খবর আছে ইউএসএ ৩২-এর প্রতিবেদনে।




